• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জন

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ১, ২০২৪
১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ঢাকা  : সর্বাত্মক আদালত বর্জন কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ নিয়েছেন সরকারবিরোধী আন্দোলনরত আইনজীবীরা। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা আদালত বর্জনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তবে এ কর্মসূচিকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থি’ ঘোষণা করেছেন আওয়ামীলীগ সমর্থক আইনজীবীরা। গতকাল রোববার পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তারা এসব ঘোষণা দেন।এর আগে গত বুধবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি বাস্তবায়নে শপথ গ্রহণ করেন।

১লা জানুয়ারি থেকে ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের জেলা দায়রা ও জজ আদালত, সেশন আদালত, মুখ্য মহানগর হাকিমদের আদালত, মুখ্য জুডিশিয়াল আদালতসহ আদালত বর্জনের কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচি সফল করতে আদালত বর্জনের শপথ নিয়েছেন বিএনপি, জামায়াত সমর্থিত ও সরকার বিরোধী আইনজীবীরা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচারের নামে অবিচার বন্ধের’ দাবিতে আদালত বর্জন কর্মসূচি সফল করার জন্য আইনজীবীবৃন্দ- সুপ্রিম কোর্ট বারের ব্যানারে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় আইনজীবীরা এই শপথ নেন।  ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্ট সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের কনভেনার আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদলের সভাপতিত্বে এবং কো-কনভেনার মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, বিএনপি’র আইন সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ইউনাইটেড ল’ইয়ার ফ্রন্টের কো কনভেনার সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক, ইউএলএফে সমন্বয় সৈয়দ মামুন মাহবুব, মাহবুবুর রহমান খানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল’র ১ জানুয়ারি থেকে পৃথক আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে প্রায় সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনসমূহ ও দেশের সুশীল সমাজ কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। গণতান্ত্রিক বিশ্ব এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। সরকার তা অগ্রাহ্য করে ২০১৪ ও ২০১৮ স্টাইলে নির্বাচনের নামে আরেকটি প্রহসনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। প্রহসনের এই নির্বাচন সম্পন্ন হলে দেশে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে আর কিছু থাকবে না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য সরকার প্রতিদিনই শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে। ২৮ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অনেককে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদেরকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয়নি। আবার কাউকে কাউকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের পর থানায় এবং কারাগারে বিভিন্ন সময়ে ১৩ জনের মৃত্যু সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহীর দামকুড়া থানা আমীর আবদুল লতিফ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। কারাগারে আটক থাকার কারণে জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কারাগারে থাকাবস্থায় যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সরকারের জুলুম-নিপীড়ন থেকে আইনজীবীগণও রেহাই পাননি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে দেশকে রাজনীতিহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা আইনজীবীগণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা দেশব্যাপি আদালত বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করছি। দেশের সব বারের আইনজীবী ভাই-বোনদেরকে আদালত বর্জন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, লইয়ার্স কাউন্সিলের নেতা অ্যাডভোকেট গোলাম রহমান ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এবং সরকারবিরোধী অন্যান্য আইনজীবী সংগঠনের সকল প্রকার আদালত বর্জন কর্মসূচিকে আইনের শাসনের পরিপন্থি বলে আখ্যায়িত করেছে আওয়ামীলীগ সমর্থক আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি’র ব্যানারে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ আখ্যা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল। তিনি বলেন, আইনজীবী ফোরামের আদালত বর্জন কর্মসূচি গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি। এটি বিচার কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ। এইরূপ কর্মসূচি বিচারপ্রার্থী মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং বাধ্য-বাধকতা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতার জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। সারা দেশে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে এবং জাতি ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা না করা যে কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু নির্বাচন প্রতিহত করার নামে একটি রাজনৈতিক দলের আইনজীবী ফোরাম ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত বর্জনের যে ডাক দিয়েছে তা অনাকাঙিক্ষত এবং অনভিপ্রেত। এইরূপ কর্মসূচি দেয়ার কোনো এখতিয়ার আইনজীবী ফোরামের নেই। এইরূপ আহ্বান গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি এবং বিচার কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ। আব্দুন নূর বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছে। এই অপশক্তি বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছিল। আবার তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এই অপপ্রয়াসের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছে যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতসমূহ জানুয়ারি ১ থেকে জানুয়ারি ৭ এবং তৎপরবর্তী সময়ে যথারীতি খোলা থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: মোমতাজ উদ্দিন ফকির, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্মেলনে সংগঠনের বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, দেশবাসী অবগত আছেন, গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে নির্বাচন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত ১৫ বছর যাবত দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনসহ কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। নির্বাচনহীনতার সংস্কৃতি আদালত অঙ্গণেও সংক্রমিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে কলঙ্কজনক ঘটনার কথা আপনারা অবগত আছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনসমূহ ও দেশের সুশীল সমাজ কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। গণতান্ত্রিক বিশ্ব এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের উপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। সরকার তা অগ্রাহ্য করে ২০১৪ ও ২০১৮ স্টাইলে নির্বাচনের নামে আরেকটি প্রহসনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। প্রহসনের এই নির্বাচন সম্পন্ন হলে দেশে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে আর কিছু থাকবে না। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য সরকার প্রতিদিনই শত শত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করছে। ২৮ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অনেককে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদেরকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয়নি। আবার কাউকে কাউকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের পর থানায় এবং কারাগারে বিভিন্ন সময়ে ১৩ জনের মৃত্যু সংবাংদ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহীর দামকুড়া থানা আমীর জনাব আবদুল লতিফ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তিকাল করেছেন। কারাগারে আটক থাকার কারণে জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কারাগারে থাকাবস্থায় যারা ইন্তিকাল করেছেন তাদের দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সরকারের জুলুম-নিপীড়ন থেকে আইনজীবীগণও রেহাই পাননি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে দেশকে রাজনীতিহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা আইনজীবীগণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা দেশব্যাপী আদালত বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করছি। দেশের সকল বারের বিজ্ঞ আইনজীবী ভাই-বোনদেরকে আদালত বর্জন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।