• ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১২ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বছরে সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার পান উৎপাদন, বাম্পার ফলন পেয়েও মুখে হাসি নেই চাষিদের

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ৫, ২০২৪
বছরে সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার পান উৎপাদন, বাম্পার ফলন পেয়েও মুখে হাসি নেই চাষিদের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাঙালির চির চেনা প্রাচীন ঐতিহ্যের একটি হচ্ছে পান। গ্রামীণ এ ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে চলে আসার কারনেই দিনে দিনে এর প্রসার বাড়ছে। খরচের চেয়ে অন্তত ২ থেকে ৩ গুন লাভ হওয়ায় পটুয়াখালীতে দিনদিন পান চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। জেলায় এ বছর সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার পান উৎপাদন হয়েছে। তবে বাম্পার ফলন পেয়েও মুখে হাসি নেই চাষিদের। সার, ওষুধ আর মধ্যস্বত্ব ভোগিদের দৌরত্মে কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত উপকূলীয় চাষিরা।

বঙ্গপসাগরের কোলঘেষা সর্ব দক্ষিণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী। এ জেলার অর্থকরী ফসলের মধ্যে পান অন্যতম। এ পেশার সঙ্গে এখনো জড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এ বছর জেলায় সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার পান উৎপাদন হয়েছে। তবে বাম্পার ফলন পেয়েও চাষিদের কপালে চিন্তার ভাজ।

ভোর থেকেই কাজে নেমে যান কৃষকরা পান বরজে পান তুলতে। তারপর কয়েক দফা বাছাই শেষে বিক্রি করেন স্থানীয় পাইকারদের কাছে। তবে কয়েক বছরের তুলনায় উৎপাদন প্রত্যাশা ছারিয়েছে এ বছর। তবে সার, খইলের উর্ধ্বগতি দাম আর বাড়তি বাইলনাশক ওষুধের খরচের কারণে কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পান চাষিরা।

সদর উপজেলার পান চাষি রিয়াজ জানান, শ্রমিক মজুরিসহ সার, খইল আনুষাঙ্গিক খরচ দিনে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরাসরি বাজারে নিয়ে বিক্রি করার ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে মধ্যস্বত্ব ভোগী পাইকারদের কাছে তার সামান্য লাভে পান বিক্রী করে দিতে বাধ্য হচ্ছি। ৫ একর জমিতে পানের আবাদ করেছেন এলাকার আরেক চাষি হেলাল সিকদার। কাঙ্খিত উৎপাদন পেলেও মধ্যস্বত্বভোগির দৌরত্মের কারণে পানের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না তিনি।

মধ্যস্বত্বভোগি ছাড়া সরাসরি পান বিক্রির সুযোগ পেলে তাদের আয় বাড়বে বলে জানান কৃষকরা। এর মাঝেও আগের তুলনায় পানচাষে আয় বাড়ছে বলে জানান অনেকেই।

জেলার গলাচিপার ডাকুয়ার নুরুল ইসলাম জানান, ১৬ কড়া জমিতে ৪ লাখ টাকা খরচ করে ১০ বছর আগে পানের বরজ তৈরি করেন। এখন প্রতি বছর খরচ বাদে ১ লাখ টাকার মত লাভ থাকে। তবে করোনার সময় দীর্ঘ তিন বছর কোন লাভ করতে পারেননি। কোনো প্রণোদনা পাননি তারা, অনেকে এক সময় পথে বসে পড়েন। তিনি আরোও জানান, দিনে দিনে চাষিদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে আড়ৎ পান দেয়ার কারণে মধ্যসত্বস্বত্বভোগীরা একটি লাভের বড় অংশ নিয়ে যায়। পটুয়াখালীর পান সারা দেশেই চলে যায়।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলায় এ বছর ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পানের বরজে ৭ হাজার ৭৫০ মেট্রিকটন পান উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য সারে তিন শ’ কোটি টাকা। পান চাষিদের প্রশিক্ষণসহ লাভোবানের বিষয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।