• ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় বোতল নিক্ষেপ : ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া

Usbnews.
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২৫
উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় বোতল নিক্ষেপ : ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করার সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপর বোতল নিক্ষেপ করে একজন। কিন্তু তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানও দেন।

এ বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যাদেরকে আমি স্যাবোট্যুর মনে করি তারা এ কাজটি ঘটিয়েছে। তারা আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলন স্যাবোটাইজ করে।’

এর আগে তিন দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনমুখী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরেও সড়ক ছেড়ে যাননি তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যমুনায় যান বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যসহ একটি দল। পরে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন জবি উপাচার্য।

উপদেষ্টা মাহফুজকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে কথা বলতে যান জবি উপাচার্য। পরে মাহফুজ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল এবং বলেছিলাম আমরা বসবো। কথা ছিল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা বসে আলোচনা করে এ বিষয়টি সমাধান করব। যেহেতু আপনারা ন্যায্য মনে করে দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। এভাবে আন্দোলনে হয়তো একটু উসকানি হয়েছে।’

এ সময় মাহফুজ কথা বলার এক পর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের মাঝে তার মাথায় পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয়। পরে তিনি কথা থামিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এ সময় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি নিয়ে ইউজিসিতে গিয়েছিলাম। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন তিনি সুযোগ পেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন এবং বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কাছে বলেছেন। ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছেন, জবি শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করে। পরে প্রধান উপদেষ্টা ইউজিসি চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ দেন এবং বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান।’

বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষকের দুঃখপ্রকাশ

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিতর্কিত করতে কে বা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বোতল নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনার জন্য আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি।’

মাহফুজ ভাইয়ের সঙ্গে যা ঘটল, তাতে হতাশ হয়েছি : উপদেষ্টা আসিফ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, “কয়েক ঘণ্টা আগে মাহফুজ ভাইয়ের সঙ্গে যা ঘটল, তাতে হতাশ হয়েছি। ভাই তো চাইলেই পারতেন, ‘এটা আমার মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়’ বলে এড়িয়ে যেতে।”

বুধবার (১৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমাদের নিজস্ব দায়িত্ব আছে সরকারে। মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াও অতিরিক্ত অনেক দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও, ছাত্রদের যেকোনো সমস্যা, আন্দোলনের সমাধান কিংবা যৌক্তিক দাবি আদায়ে সবসময় সচেষ্ট থাকার চেষ্টা করি। অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়েও মাঝে মাঝে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করি এবং সমঝোতার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিষয়টিও আমার অফিসিয়াল দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। কিন্তু দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে উদ্যোগ নিয়েছি।’

মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন হাসনাত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার—কিন্তু শারীরিক লাঞ্ছনা-বর্বরতা এবং সেটির কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা নেই।

বুধবার (১৪ মে) রাত ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—আপনাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি বলেই তিনি আপনাদের কাছে এসেছেন। কিন্তু এ ধরনের উগ্র ও হঠকারী আচরণ ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, ‘মাহফুজ আলম আইনি পথে হাঁটবে কি না জানি না, তবে আন্দোলনের নেতৃত্বের উচিত প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক আচরণ পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।’

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণও সন্দেহজনক উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘সকল জনদাবির সম্মুখে ছাত্র উপদেষ্টাদের ঠেলে দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটির বিষয়ে কেন এখনও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেটিও এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে।’

উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ হটকারী আচরণ : শিবির সভাপতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল ছুঁড়ে মারার ঘটনাকে হটকারী আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

বুধবার (১৪ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে তিনি লিখেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ৩ দফা ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা মাহফুজ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের সময় তার ওপর পানির বোতল নিক্ষেপ করা সুন্দর হয়নি। এটা হটকারী আচরণ হয়েছে।’

তিনি আরও লিখেন, ‘যিনি নিক্ষেপ করেছেন টোটাল আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যৌক্তিক সাইন বলে মনে করি। তিনি যেই হোক প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের উচিত তাকে খুঁজে বের করে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা।’

উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ ন্যাক্কারজনক : রাফে সালমান রিফাত

উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গায়ে বোতল ছুঁড়ে মারার ঘটনা ন্যাক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ) প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত।

বুধবার (১৪ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি কোনোভাবেই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত বর্ধনশীল অসহিষ্ণুতা আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাবে।’