• ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

২৫ কোটি বাংলাদেশির আবেগ নিয়ে খেলবেন না

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৫
২৫ কোটি বাংলাদেশির আবেগ নিয়ে খেলবেন না
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
বিদেশী পাসপোর্ট আছে তাই পালিয়ে যাবেন কিন্তু ২৫ কোটি বাংলাদেশির আবেগ নিয়ে খেলবেন না। সাবধান।লাইনটি পড়ে রাগান্বিত বা অবাক হবার কোন কারণ নেই। সেটাই বাস্তবতা।
জনতার লড়াই ছিলো ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র,ফ্যাসিস্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে। ‘জুলাই সনদ একটি ঐতিহাসিক দলিল হবে। এটি গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই প্রক্রিয়াটি যেন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে জাতীয় সনদ হবে, সেটাকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বা সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সে সনদে এমন একটা বিধান রাখতে হবে যে এই সনদের বিরুদ্ধে যায় সংবিধানে এমন কোনো বিধান বা আইন করা যাবে না।
জাতীয় সনদে একটা বিধান থাকবে হবে—এই সনদের বিরুদ্ধে কোনো আইন, সংবিধান হবে না। যা কিছু এই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে, ওটা বাতিল হবে।
এমন বিধান করতে হবে যেন কথায় কথায় সংবিধান পরিবর্তন করা না যায়। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার লাগাম টানতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে।

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো তরুণদের নেতৃত্বে। এই তরুণদের উপর আস্থা রেখে বাংলাদেশের মানুষ নেমে এসেছিলো। এই তরুণদেরকে যদি গণঅভ্যুত্থানের পরেও কাজে লাগাতে না পারি, এই তারুণ্যের শক্তিকে যদি দেশ গঠনে কাজে লাগানো না যায়, বাংলাদেশকে আর কখনো গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

‘আজও জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়নি, যা দুঃখজনক। শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি—এ নিয়ে আমরা অনুতপ্ত। ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলছে, কিন্তু কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই।’

শহীদ পরিবারের জন্য যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা অনুকম্পা নয়, বরং তাদের প্রাপ্য অধিকার। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় চাকরির মাধ্যমে তাদের জীবনমান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকারে ওয়াদাবদ্ধ থাকতে হবে সনদে ।

‘জুলাই যোদ্ধারা না থাকলে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা হয়তো কেরানীগঞ্জ কিংবা কাসেমপুরে বন্দি থাকতেন । তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’

গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরেও মানুষের অধিকার আদায় হয়নি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরেও সমাজে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যেই পুরনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা রয়েছে, পতিতদের সংবিধানসহ পলাতক যে সরকার ব্যবস্থা ছিলো, এই সকল নিয়ম বাদ দিয়ে নতুন রাষ্ট্র, নতুন সরকার তৈরি করতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় থাকলে একরকম আর ক্ষমতার বাইরে গেলে আরেক রকম আচরণ করে। দলগুলোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে দেখা যায়নি। আইন দিয়ে সব কিছু হয় না, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে হবে।আমলাদের দৌরাত্ব কমাতে হবে। তাদের রাষ্ট্রের কর্মচারীতে রূপান্তর করা না গেলে তারা বেপরোয়া হয়ে যায়।
সুশীলগিরি করতে যেয়ে বর্জুয়া কোন নীতি জুলাই সনদ এর অনর্ভুক্ত করলে ডার্স্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেবে জনগণ সেটা মাথায় রাখবেন। রাজনৈতিক দল বলতে ২৫ কোটি বাংলাদেশী মনে করবেন না। ৭২ সালে কপি পেস্ট করা সমাজতন্ত্র , বামতন্ত্র দিয়ে জনগনবিরুধী সংবিধান জাতির উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
এরপর যার যার স্বার্থে কাটাছেড়া করে জাতির উপর রাজনৈতিক জমিদারির বর্বরতা চালিয়েছে। এসব এখন আর চলবে না।
আগে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করতে হবে। বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সংস্কার করতে হবে। ‘সিস্টেম’ সংস্কার করা না গেলে, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ করা না গেলে রাজনৈতিক দলগুলো ভেতরে যতই সংস্কার আনা হোক, তার ফল আসবে না। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোরও সদিচ্ছা থাকতে হবে।