জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও গাজী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেন।
এছাড়া গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি রিট করেন।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণিত জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার বাস্তাবয়ন আদেশ) কেন অবৈধ হবে না এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, গণভোট অর্ডিন্যান্স কেন অবৈধ হবে না এই বিষয়েও আদালত রুল জারি করেছে বলেও জানান তিনি।
আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, “এর মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন বিষয় হয়ে গেল। ঈদের পরে কোর্ট খুললে এর চূড়ান্ত শুনানি হবে।”
তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ থাকা অধিকার বলে রাষ্ট্রপতি গণভোটের অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন। কিন্তু সেখানে উল্লেখ করা আছে যে, “রাষ্ট্রপতি এমন কোনো অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারবে না যে বিষয়বস্তু আমাদের সংবিধানে নাই।
এছাড়া, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর থেকে ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার’ বলে কোনো বিষয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রেদোয়ান–ই–খোদার রিটে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিল সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মাহবুব আলমের রিটে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
এ রুল জারি হলে বিচারাধীন অবস্থায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে শপথসংক্রান্ত ১৬ ফেব্রুয়ারির চিঠির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।