• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ৪ বাংলাদেশি জাহাজ

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ৪ বাংলাদেশি জাহাজ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থানে থাকা চারটি বাংলাদেশি জাহাজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ইরানের একটি ড্রোন হামলার শিকার হতে হতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটির মাত্র ১০০ গজ দূরে ওই ড্রোন বিস্ফোরিত হয়।

বিএসসির এই জাহাজটিতে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। শনিবারের ওই হামলার পর জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। দুই দিন পর পুনরায় খালাস প্রক্রিয়া শুরু হলেও, যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে জাহাজটি এখনই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

What is the Strait of Hormuz and how does it impact the global economy? |  Fox Business

জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মোসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে জেবেল আলী বন্দরে নোঙর করেছিল। পরদিনই ওই বন্দরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে জাহাজে থাকা নাবিক আতিকুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের জাহাজের মাত্র ১০০ গজ সামনে ইরানি ড্রোন এসে বিস্ফোরিত হয়। আলহামদুলিল্লাহ, জাহাজ ও নাবিকরা অক্ষত আছে।’ এছাড়া অন্য এক নাবিক স্যাটেলাইট ফোনে জানান, ড্রোনটির আলো এবং বিস্ফোরণের শব্দে মনে হয়েছিল জাহাজটি সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সেই মুহূর্তে নাবিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের অঞ্চলে বাংলাদেশি পতাকাবাহী আরও তিনটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কেএসআরএম গ্রুপের এবং একটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) মালিকানাধীন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এসব জাহাজকে গতি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম জানান, তাদের দুটি জাহাজের একটি ওমানের সালালা বন্দর ও অন্যটি কুয়েতগামী ছিল। গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন থেকে চার দিন লাগার কথা থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে সেগুলোর গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মার্কেন্টাইল শিপিং লাইনসের একটি জাহাজ জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার খোর ফাক্কান বন্দরে যাওয়ার কথা ছিল, তবে নাবিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেই যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থান করছে।