• ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

গ্রিনল্যান্ডে নতুন ৩ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

Usbnews.
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডে নতুন ৩ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেয়ার হুমকির দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে সৃষ্ট কূটনৈতিক সংকট নিরসনে তারা এখন ডেনমার্কের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় বসছে। একাধিক কর্মকর্তার দেয়া তথ্যে জানা গেছে, গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে নতুন তিনটি ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের আলোচনা এগিয়ে চলছে। ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে এই নতুন ঘাঁটিগুলো স্থাপন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

জানুয়ারিতে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া বা চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া উচিত’। তিনি আরও বলেন, এটি ‘সহজ উপায়ে’ অথবা ‘কঠিন উপায়ে’ ঘটতে পারে। তার এমন মন্তব্য নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা এর কড়া প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে মনে করা হয়, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে দখলে নিতে পারেন। এই উত্তেজনার মধ্যে তার বড়ছেলে এখানে অবকাশ যাপন করতে যান। ফলে সবার কড়া নজর থাকে সেদিকে।

হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, প্রশাসন আশাবাদী যে আলোচনা সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। ডেনমার্ক এর আগেও গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এ মুহূর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানাবে না। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছে যাতে নতুন তিনটি সামরিক ঘাঁটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘাঁটিগুলো গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে হবে এবং মূলত রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সামুদ্রিক তৎপরতার নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে। নজরদারির এলাকা হবে উত্তর আটলান্টিকের সেই অঞ্চল, যা গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও বৃটেনের মধ্যবর্তী জিআইইউকে গ্যাপ নামে পরিচিত। সূত্রগুলো জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি এবং ঘাঁটির সংখ্যা পরিবর্তিনও হতে পারে। সম্ভাব্য একটি ঘাঁটি হতে পারে নারসারসুয়াকে। সেখানে আগে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ছোট বিমানবন্দর ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, অন্য নতুন ঘাঁটিগুলোও সম্ভবত এমন জায়গায় হবে যেখানে আগে থেকেই অবকাঠামো, যেমন বিমানঘাঁটি বা বন্দর রয়েছে। এতে নতুন স্থাপনা নির্মাণের তুলনায় কম খরচে উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক নেয়ার কোনো সম্ভাবনার কথা তোলেননি। ডেনমার্ক ও ন্যাটো প্রকাশ্যে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশ একটি সমঝোতার দিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্যেই ওয়াশিংটনের ছোট একটি কর্মী দল আলোচনাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনায় তারা জনসম্মুখের বাইরে থেকে অগ্রগতি অর্জন করেছে। মার্চে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার সময় ইউএস নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল গ্রেগরি গিয়ো আলোচনার বিষয়ে একটি সামগ্রিক ধারণা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তবে আলোচনার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।

এই সংবেদনশীল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল নিডহ্যাম। তাকে এমন একটি সমঝোতা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যা ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করবে এবং একই সঙ্গে ডেনমার্কের সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত শর্তও মেনে চলবে। আলোচনার বিষয়ে জানা এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে নিডহ্যামই মূল দায়িত্বে আছেন। তিনি আরও বলেন, পর্দার আড়ালে প্রশাসন বিষয়টি খুব পেশাদারভাবে পরিচালনা করছে।

অপরদিকে ডেনমার্কের পক্ষে আলোচনায় থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়েসপার মোলার সোরেনসেন এবং ওয়াশিংটনে গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক ইয়াকব ইসবোসেথসেন। গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক ট্রাম্পের বিশেষ দূত এবং লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি আলোচনায় অংশ নেননি। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা প্রায় নেই বললেই চলে। ল্যান্ড্রির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, তার ভূমিকা মূলত এমন ছিল যেন তিনি চিৎকার করে সমর্থন দেন যে আমরা শক্তি দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা সম্পদ হিসেবে দখল করতে পারি। তিনি আরও বলেন, আসল আলোচনার কোনো বৈঠকেই ল্যান্ড্রি ছিলেন না। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ল্যান্ড্রির দপ্তর কোনো জবাব দেয়নি।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে প্রায় ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল।