হোয়াইট হাউসের কাছে সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে গুলি চালানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি মেরিল্যান্ডের ২১ বছর বয়সী নাসির বেস্ট। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কেন তিনি এই হামলা চালিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি হোয়াইট হাউসের চারপাশে ঘোরাঘুরি করতেন। এর আগেও তাকে এ জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত তাকে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল।
কিন্তু তা শোনেনি সে। পুলিশের তালিকাভুক্ত তিনি। তাকে ভালভাবে চিনতো সিক্রেট সার্ভিস সহ পুলিশ। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসির বেস্ট মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। বিভিন্ন প্রবেশপথের আশপাশে ঘোরাফেরার কারণে তিনি মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া এর আগে আদালত তাকে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশও তিনি ভঙ্গ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ জুন ১৫তম স্ট্রিটে যান চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগে তাকে জোরপূর্বক একটি মনোরোগ চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই, তিনি হোয়াইট হাউসের সীমাবদ্ধ পথচারী নিয়ন্ত্রণ পোস্টের একটি বের হওয়ার টার্নস্টাইল লেন দিয়ে ঢুকে পড়লে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে আটক করার পর নাসির বেস্ট দাবি করেন, তিনি আধুনিক যুগের যিশু খ্রিস্টের অবতার বলে বিশ্বাস করেন। নিউ ইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি কর্মকর্তাদের আরও বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই গ্রেপ্তার হতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে নাসির বেস্ট ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে গুলি চালান। জবাবে কর্মকর্তারাও গুলি চালান এবং তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার সময় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওই ব্যক্তি নাসির বেস্টের প্রথম গুলিতে আহত হয়েছেন, নাকি পরে কর্মকর্তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। পরে নাসির বেস্টকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুলির সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরে ছিলেন। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি।