• ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর স্বীকারোক্তি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৬
৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারীর স্বীকারোক্তি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বীকারোক্তি বাতিল করেছেন মার্কিন সামরিক আদালতের বিচারক। শুক্রবারের (২৮ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাটিতে মার্কিন সরকারের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ২০০৭ সালে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া খালিদ শেখ মোহাম্মদের বক্তব্য স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি বলে রায় দিয়েছেন মামলার বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা।

বিচারকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ স্বীকারোক্তি মামলার প্রমাণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ সময় খালিদ শেখ মোহাম্মদ এফবিআই কর্মকর্তাদের ‘চরম জবরদস্তির’ শিকার হয়েছিলেন বলে বিচারক উল্লেখ করেছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, খালিদ শেখ মোহাম্মদের এফবিআইকে দেওয়া বক্তব্য স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছিল এমনটি প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে।

এর কয়েক দিন আগেই বিচারক খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরুর জন্য ২০২৮ সালের জুন মাস নির্ধারণ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির কাছাকাছি সময়ে মামলাটির বিচার শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।

মামলার প্রধান সামরিক কৌঁসুলি রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যারন সি. রাগ জানিয়েছেন, তারা বিচারকের রায় পর্যালোচনা করবেন এবং শিগগিরই এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে আপিল করা হলে মামলাটি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরনের আইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তিতে অতীতে কয়েক বছর সময় লেগেছে।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সঙ্গে ৯/১১ হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, মুস্তাফা আল-হাওসাউই এবং আম্মার আল-বালুচির মামলা প্রায় দুই দশক ধরে নানা আইনি জটিলতায় আটকে আছে। বিশেষ করে নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

২০০৩ সালে গ্রেপ্তারের পর খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও অন্য অভিযুক্তদের গোপন সিআইএ কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ব্যবহার না করার বিষয়ে পরে মার্কিন কৌঁসুলিরা সম্মত হন। তবে ২০০৭ সালে তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া খালিদ শেখ মোহাম্মদের বক্তব্যকে বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

এদিকে ওয়ালিদ বিন আত্তাশ ও মুস্তাফা আল-হাওসাউইয়ের দেওয়া একই ধরনের স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে বিচারক এখনো সিদ্ধান্ত দেননি।

২০২৪ সালের শেষ দিকে মামলাগুলো প্রায় সমাপ্তির দিকে এগিয়েছিল। খালিদ শেখ মোহাম্মদসহ তিন অভিযুক্ত মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর বিনিময়ে দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিলেন। তবে হামলায় নিহতদের কয়েকটি পরিবারের তীব্র আপত্তির পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ওই সমঝোতা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। এরপর আবারও শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।

৯/১১ হামলায় নিহতদের স্বজনেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের বিচার শুরুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে মারা যেতে পারেন।