মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে। তিনি এই বক্তব্য এমন এক সময়ে দিলেন, যখন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ হরমুজ প্রণালির দুঃসাহসী যোদ্ধা ও রক্ষীদের কাছ থেকে চপেটাঘাত খেয়ে শত্রুরা আরব সাগরের সীমানা পেরিয়ে আর সামনে এগোনোর সাহস পাচ্ছে না।’ বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য করেই এসব কথা বলেন তিনি।
বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ‘তারা যখনই এই ঝুঁকি নেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে, কেবল নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে এনেছে। খুব বেশি দিন বাকি নেই, যখন আরব সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবে।’
প্রত্যাখ্যানের পর নিজেই আলোচনার কথা বলছেন ট্রাম্প, শুরু হতে পারে আজইপ্রত্যাখ্যানের পর নিজেই আলোচনার কথা বলছেন ট্রাম্প, শুরু হতে পারে আজই
আরব উপদ্বীপ থেকে ভারতের দিকে বিস্তৃত আরব সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। এটি ইরানের উপকূল এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির দিকে চলে গেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চলছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে, যার জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধের ঘোষণা দেয়।
তথ্যসূত্র: এএফপি