• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ : সউদী চীনের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী , চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

usbnews
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪
জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ : সউদী চীনের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী , চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে গতকাল (শনিবার)  চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফিলিস্তিনি জনগণ উদ্বাস্তু অবস্থায় দিনযাপন করছে এবং তারা আজ পর্যন্ত নিজ মাতৃভূমিতে ফিরতে পারেনি। এটা পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অবিচার।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আরো অনেক কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে এবং একমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়েই বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যার অবসান ঘটানো সম্ভব।

গাজা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করে এই সংঘাতের মূল কারণ সনাক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংঘাতের কারণ দূর করতে পারলেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে পারে। ওয়াং ই দ্রুত গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসনে গাজায় যে হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিক শহীদ হয়েছেন তাদের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২১ শতকের এই দিনে এমন পরিস্থিতি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় আমাদের উচিত ফিলিস্তিন সংকটের সঠিক সমাধানের আহ্বান জানানো যা গত ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে চীন একটি ফ্যাক্টর এবং সেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের একমাত্র পথ। এমনটাই জানিয়েছেন সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। গতকাল শনিবার জার্মানির মিউনিখে চলমান মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সউদী সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ সময় তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর দেশের একমাত্র লক্ষ্য হলো, গাজায় চলমান হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের একটি বিরতি। ইসরায়েলের গণহত্যার জন্য সারা বিশ্বে এখন ইসরায়েল বিতর্কিত রাষ্ট্র। স্বাধীন ফিলিস্তিনদের ভূমি দখল করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা সহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। গণহত্যার দায় ইসরায়েল এড়াতে পারে না।

সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের দিকে মনোনিবেশ করছি। একই সঙ্গে, আমরা গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের দিকে মনোনিবেশ করছি।’ প্রিন্স ফয়সালের আগেও সউদী আরব বারবার বলেছে, তারা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করবে না।

খবরে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী রাফার আল হুদা এবং আল রাহমা মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এখানে প্রচুর শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। দ্য ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেট জানিয়েছে, আশপাশের আবাসিক ভবনসহ সংস্থাটির সদরদপ্তরেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে রাফায় ইসরাইলী হামলায় বিপর্যকর পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তেলআবিব এ হামলা চালানো শুরু করলো।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ফয়সাল বিন ফারহান আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আরব বিশ্ব ও ইসলামি দেশগুলোর অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। বিশেষত গাজায় নিহতের সংখ্যার মুসলিম বিশ্বকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দিতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, দেশটির কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার মতাদর্শকে আরও উসকে দিতে পারে।

এর আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে সউদী আরব ঘোষণা দিয়েছিল, গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না। সউদী আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা তাদের ন্যায্য অধিকারের যে দাবি উত্থাপন করেছে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রিয়াদের অবস্থান অটল।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সউদী আরব প্রশাসনকে তার দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। সউদী আরব বলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুসারে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না।’