• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

বাংলাদেশ সোসাইটির চেক জালিয়াতি : শনাক্ত যুবকের নাম মামুন আবু

usbnews
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৪
বাংলাদেশ সোসাইটির চেক জালিয়াতি :  শনাক্ত  যুবকের নাম মামুন আবু
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
নিউ ইয়র্কে ভুয়া চেক দেখিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির ব্যাংক একাউন্ট থেকে মার্কিন মুদ্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার  তুলে হাতিয়ে নেওয়া সেই প্রতারককে  নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা পুলিশ  শনাক্ত করেছে   । অ্যাস্টোরিয়াস্থ ডিটমার্স বুলেভার্ড টিডি ব্যাংক শাখা ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা দেখে নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা পুলিশ তাকে শনাক্ত করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি সেই যুবকের নাম মামুন আবু।
গত ৫ মাস গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। ব্যাংকের ভিডিও ফুটেজ এখন তাদেও হাতে। আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যাংকের ভিডিও ফুটেজ দেখে আবুকে সনাক্ত করে। তার নামে ওয়ান্টে জারি হয়েছে। আবুকে পাকড়াও করতে বিভিন্ন এলাকায় সাঁটা হচ্ছে পোস্টার। বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদেরর সাহায্য চেয়েছে আইনশৃংখলা বহিনী।
গত বছর (২০২৩) ১৯ সেপ্টেম্বর সোসাইটির চেক জালিয়াতি করে অ্যাস্টোরিয়াস্থ টিডি ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার চেষ্টা করেন এ প্রতারক। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা ও সোসাইটির নেতৃবৃন্দের তড়িৎ হস্তক্ষেপে সে ১ কোটি সাড়ে ৮১ লাখ টাকা (মার্কিন মুদ্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার) উত্তোলন করতে ব্যর্থ হয়।
গত বছর  ২০২৩ ১৯ সেপ্টেম্বর সোসাইটির চেক জালিয়াতি করে অ্যাস্টোরিয়াস্থ টিডি ব্যাংক থেকে অর্থ তোলার চেষ্টা করেন এ প্রতারক। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা ও সোসাইটির নেতৃবৃন্দের তড়িৎ হস্তক্ষেপে সে মার্কিন মুদ্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার  উত্তোলন করতে ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কমিটির কয়েকজনের সাথে আলাপ কালে জানা যায় , ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার   টিডি ব্যাংক ডিটমার্স বুলেভার্ড শাখা থেকে একটি ফোন আসে । টিডি ব্যাংক কর্মকর্তা জানান যে, জনৈক মামুন আবু ৫ হাজার ডলারের একটি চেক জমা দিয়েছেন। চেক নম্বর ২৯০৩। চেক ইস্যুর তারিখ লেখা ১৯ সেপ্টেম্বর। চেকের মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৩ স্ট্রিটে স্টেজ প্রোগ্রামের জন্য। কর্মকর্তার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে চেকটি পরিশোধ না করার অনুরোধ জানান। এমনকি বাহককে পুলিশে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ওইদিন চেকটি পরিশোধ করা হয়নি।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কমিটির কয়েকজনের সাথে আলাপ কালে আরো জানা যায় , অন্য আরেক ট্রাঞ্জেকশনে ব্যাংক হিসাব থেকে ১৪ হাজার ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের একাউন্টে জনৈক রফিক উল্লাহর নামে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের একটি চেক জমা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ১৪ হাজার ডলার অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।

পরে একই অ্যাকাউন্টে সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার নামে ২০ হাজার ডলার অয়্যার ট্রান্সফার করা হয়। এ বিষয়টি বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কমিটিকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। নিরূপায় হয়ে ব্যাংকে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়।

ব্যাংক থেকে তাদের জানানো হয় সংগঠনের বতর্মান সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার নামে টিডি ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে সভাপতি নিজে অয়্যার ট্রান্সফার করে ২০ হাজার ডলার নিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচিত কমিটির সাথে আলাপ কালে জানা যায় , টিডি ব্যাংকে বর্তমান সভাপতির কোনো অ্যাকাউন্টই নেই। ধারণা করা হচ্ছে কেউ তার নামে অ্যাকাউন্ট করে এই অপকর্মটি করেছে।

টিডি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জানানোর পর তারা ২০ হাজার ডলারও ফেরত দিয়েছেন। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী কমিটির জরুরি সভা ডেকে ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে টিডি ব্যাংকে সোসাইটির সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।