• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে কোটা বাতিলের দাবিতে অনঢ় শিক্ষার্থীরা , ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

usbnews
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৪
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

এমজেড এম আলম , সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : সরকারি চাকরিতে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করে কোটাপদ্ধতি পুনর্বহাল-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেটের বহু স্থানে অবরোধ পালিত হয়। চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ বহাল রাখার দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রায় চার-পাঁচশ শিক্ষার্থী নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি বিশ্ববিদ্যালয় , সহ অনেক জায়গায় শিক্ষার্থী নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা চতুর্থ দিনের মত কোটা বাতিলের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নই। তাদের সম্মান সমসময় বজায় থাকবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য কোটা থাকতে পারে। কিন্তু এরপর তাদের নাতি-নাতনীদের জন্য কোটা রাখাটা অযৌক্তিক। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে এটাই আমাদের দাবি। আমাদের এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পুরো দেশে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেখানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৯৫ শতাংশ কোটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে যোগ্যতা থাকার পরও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এ জন্য কোটা পুনর্বহালের রায় বাতিল চেয়ে তারা বলেন, কোটাপদ্ধতি যত দিন থাকবে, তত দিন তাদের আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বৈষম্য দূরকরণের জন্য আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। দেশ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হলেও মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এজন্য আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানাই যেন কোটা পুনর্বহালের রায় পুনর্বিবেচনা করা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। পুরো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে আছে।