• ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১২ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মূলত আমরাই দায়ি

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মূলত আমরাই দায়ি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাতাসে কার্বন নির্গমন ক্রমশ বাড়তে থাকায় উত্তপ্ত হচ্ছে বায়ুমন্ডল। পাশাপাশি পৃথিবীতে গাছপালা, বৃক্ষরাজি কমে যাওয়ায় বায়ুমন্ডলের আর্দ্রতা ও উত্তপ্ত অবস্থা না কমায় ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হচ্ছে। এর প্রভাবে বরফাচ্ছাদিত হিমালয় পর্বতসহ পৃথিবীর অপরাপর বরফাচ্ছাদিত হিমবাহ ও পর্বতের বরফ গলছে। পৃথিবীর বরফাচ্ছাদিত পর্বতসমূহের বরফ গলে সেই পানি সমুদ্রে পতিত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো ঝুঁকিতে আছে। স¤প্রতি এই ঝুঁকির তথ্য নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তিনি বিশ্বের নিচু উপক‚লীয় অঞ্চল ও ছোটো দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে বসবাসকারী লাখ লাখ বাসিন্দাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ১৯০০ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপক‚লীয় অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছ¡াস বাড়ার কারণে প্রায় দুই কোটি মানুষ গৃহহীন ও আশ্রয়হীন হবে। এমন পূর্বভাস পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের। সংস্থাসমূহের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে জলোচ্ছ¡াস বাড়লে সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। এ অবস্থায় কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে, খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে খাদ্য নিররাপত্তায় ঝুঁকিও বাড়বে।

উল্লেখ্য,আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক বক্তব্যে গুতেরেস জানান, বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো ছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে ব্যাংকক, বুয়েনস আয়ার্স, জাকার্তা, লাগোস, লন্ডন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মুম্বাই, মাপুতো, নিউইয়র্ক ও সাংহাইয়ের মতো বড়ো শহরগুলো। গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, বিপদটি বিশেষ করে প্রায় ৯০ কোটি মানুষের জন্য প্রকট, যারা নি¤œ উচ্চতার উপক‚লীয় অঞ্চলে বাস করে। বিশ্বের প্রতি ১০ জনের একজন মানুষ এই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী সহনীয় পর্যায়ের চেয়েও বেশি উত্তপ্ত হচ্ছে। যার কারণে হিমবাহ ও বরফ গলে যাচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, অ্যান্টার্কটিকায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন টন বরফ গলে যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড প্রতিবছর ২৭০ বিলিয়ন টন বরফ হারাচ্ছে। গুতেরেস বলেন, গত শতাব্দীতে বিশ্বে মহাসাগর সবচেয়ে বেশি দ্রæত উষ্ণ হয়েছে। বিশ্ব ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের সীমা অতিক্রম করছে। এটি ২.৮ ডিগ্রির দিকে যাচ্ছে। এভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধি দুর্বল দেশগুলোর জন্য কার্যত ‘মৃত্যুদÐ’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ের বরফ গলে এরই মধ্যে পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আগামী কয়েক দশকে হিমালয়ের হিমবাহ কমতে থাকায় সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীগুলো আরও সংকুচিত হবে। এমনকি নিচু দেশগুলো চিরতরে অদৃশ্য হয়েও যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকতে হবে। ফলে জলবায়ু তহবিলের জন্য ১০০ বিলিয়ন অর্থ প্রদানের যে প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছিল, তা দ্রæত নিশ্চিত করতে হবে।

 

প্রসঙ্গগত, বায়ুমন্ডলে অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের ফলে ক্রমাগত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দ্রæত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশেও ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে ওঠেছে পরিবেশ প্রকৃতি। সা¤প্রতিককালে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, হঠাৎ অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সামুদ্রিক জলোচ্ছ¡াস বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জনজীবন, কৃষি, ভৌত অবকাঠামো বিপর্যস্ত হচ্ছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে অধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে, এমন সর্তক মন্তব্য পরিবেশবিদদের। তাদের মতে, ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্র উপক‚লীয় অঞ্চলের ১৭ শতাংশেরও বেশি জমি পানির নিচে স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদীভাঙ্গন ও জলোচ্ছ¡াসের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের দুই কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।