• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

উত্তরপ্রদেশ কারাগারে বিখ্যাত আনসারি পরিবারের মুখতার আনসারিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ

usbnews
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২৪
উত্তরপ্রদেশ কারাগারে বিখ্যাত আনসারি পরিবারের মুখতার আনসারিকে  বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আলোচিত রাজনীতিবিদ মুখতার আনসারি কারাগারে মারা গেছেন। তার ছেলে উমর আনসারি দাবি করেছেন, ‘আমার বাবাকে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছিল!’ তিনি দাবি করেন, তার বাবাকে খাবারে বিষ দেয়া হয়েছিল। ওই খাবার খেয়েই মৃত্যু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, উমর জানান, মুখতারের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে যাবেন।

বাবার মৃত্যুর খবর প্রশাসনের তরফে তাদের জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন উমর। তার কথায়, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু বলা হয়নি। আমি সংবাদমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানতে পারি।’ এর পরই তিনি বলেন, ‘দিন দুয়েক আগেও আমি তার (মুখতার আনসারি) সাথে দেখা করতে জেলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। বিষ দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে আমরা আগেও যা বলেছি, এখনো একই কথাই বলব।’

গত ১৯ মার্চ নাকি মুখতারকে রাতের খাবারের সাথে বিষ দেয়া হয়েছিল, এমনই অভিযোগ করেছেন উমর। এই ব্যাপারে তারা বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি। মুখতারের কথায়, ‘বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

বৃহস্পতিবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মুখতারের। জেল সূত্রে খবর, রমজানের রোজা ভাঙার পরেই মুখতারের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বান্দা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সুনীল কৌশল জানান, পেটের যন্ত্রণা নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর সেখানেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মুখতারের। যদিও মুখতারের ভাই গাজিপুরের এমপি আফজাল আনসারি অভিযোগ তুলেছেন, তার বড় ভাইকে জেলের মধ্যেই বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে। একই অভিযোগ শোনা গেল ছেলে উমরের গলাতেও। শুক্রবার ময়নাতদন্তের পর মুখতারের লাশ তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। তার পরই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানান উমর।

মুখতারের মৃত্যু নিয়ে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এমআইএম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেন, ‘মুখতার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বার বার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাকে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করতেন। সরকার তার চিকিৎসার দিকে কোনো মনোযোগ দেয়নি।’ একই কথা বলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা আমিক জামেই। তিনি মুখতারের মৃ্ত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুতেরও।

৬০ বছর বয়সী মুখতার উত্তরপ্রদেশের মৌ সদর বিধানসভার পাঁচবারের সাবেক বিধায়ক ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবের জেলে বন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৬০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন ছিল। তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন আদালতে আটটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বান্দা জেলে বন্দি ছিলেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গত বছর যে ৬৬ জন গ্যাংস্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতেও নাম ছিল মুখতারের। সম্প্রতি ৩৬ বছর পুরনো এক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মুখতার। সেই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

বিখ্যাত আনসারি পরিবারের ছেলে মুখতার যেভাবে যোগীর শত্রুতে পরিণত হয়

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই বলছে আনসারির নিজের জেলা মৌ ছাড়াও আলিগড়, ফিরোজাবাদ, প্রয়াগরাজ, কাসগঞ্জ-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে ফ্ল্যাগ মার্চ করেছে পুলিশ। গাজীপুরে তার বাসভবনের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানে রাত থেকে হাজির হয়েছেন তার প্রচুর সমর্থক। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জেল থেকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান বলে মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

ভারতের বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশের জেলে বন্দী অবস্থায় জনপ্রিয় মুসলিম নেতা মুখতার আনসারির মৃত্যুর পরে সেরাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আনসারি বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। তার পরিবার অভিযোগ করছে দীর্ঘ সময় ধরে জেলে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল তাকে।

তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাজিস্টেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গড়া হয়েছে। তার দেহের ময়না তদন্ত করবেন দুজন চিকিৎসক, এমনটাও জানিয়েছে প্রশাসন। খুন, চাঁদাবাজি সহ ৬৫টি মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে, যার মধ্যে আছে ১৪টি খুনের মামলা। উত্তর প্রদেশ আর পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলে ২০০৫ সাল থেকে বন্দী থেকেছেন তিনি।

তারপরেও জনপ্রিয়তা কমেনি তার। বন্দী অবস্থাতেই বারে বারে ভোটেও জিতেছেন। পাঁচ বার ভোটে জিতে বিধানসভার সদস্য হয়েছিলেন তিনি। বিবিসিতে প্রচারিত একটি পুরনো প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু তিনি নন, তার পুরো পরিবারই রাজনীতিতে যুক্ত চার পুরুষ ধরে। আনসারির পরবর্তী প্রজন্মও রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। তার পুত্রও দুবছর আগে বিধানসভা সদস্য হয়েছেন ভোটে জিতে। আবার তার এক সম্পর্কিত চাচা হামিদ আনসারি ছিলেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই বলছে ,  তার দাদা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী মুখতার আহমেদ আনসারি।  আনসারি গত শতাব্দীর কুড়ির দশকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। পরে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির উপাচার্যও হয়েছিলেন তিনি। আবার মুখতার আনসারির মায়ের বাবা সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার মুহম্মদ উসমান ১৯৪৮ সালে অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানী হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হন। মুখতার আনসারির বাবা সুবহানুল্লাহ আনসারির একটা পরিষ্কার ভাবমূর্তি ছিল গাজীপুর এলাকায়। তিনি কমিউনিস্ট পার্টি করতেন স্থানীয়ভাবে।

বলা হয় উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের ওপরে একবার হামলা চালিয়েছিল মুখতার আনসারির দল। মৌ জেলায় ২০০৫ সালে দাঙ্গার মধ্যেই আদিত্যনাথের গাড়ি বহরের ওপরে হামলা। হয়। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন ওই ঘটনাই আনসারির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে শুরু করে। ওই হামলার পরেই ধীরে ধীরে উত্তর প্রদেশে তার প্রভাব কমতে শুরু করে।

একের পর এক মামলায় তার জেল হতে থাকে। আর যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে মুখতার আনসারি ভয় পেয়ে যায় যে তাকে উত্তরপ্রদেশের জেলে রাখা হলে