• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

১৯৮০ সালে আয়ারল্যান্ড একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ঘোষণা করা প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য রাষ্ট্র

usbnews
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২৪
১৯৮০ সালে আয়ারল্যান্ড  একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ঘোষণা করা প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য  রাষ্ট্র
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ফিলিস্তিনি সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংহতির প্রতিফলন হিসেবে আয়ারল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় হস্তক্ষেপ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের উপর ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপে যুক্ত হয়ে গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের এবং খাদ্য সহায়তার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়ার অবসান ঘটাতে আয়ারল্যান্ড এই সপ্তাহে বলেছে যে, এটি আন্তর্জাতিক আদালতে তার আপত্তি দায়ের করবে।আন্তর্জাতিক এনজিও এবং শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, খাদ্য সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ গাজাকে দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাবে। এই মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন যে এটি দুর্ভিক্ষকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার সমান হতে পারে।

এদিকে, বুধবার এক বক্তৃতায় আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেছেন যে, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ উভয়ই ব্যাপক আকারে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের প্রতিনিধিত্ব করে।বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আয়ারল্যান্ড তার হস্তক্ষেপে এই যুক্তিটি অন্তর্ভুক্ত করবে যে গাজায় ইসরায়েলের খাদ্য সহায়তা বন্ধ করাকে গণহত্যা হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আইরিশ প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন (আইপিএসসি) এর নেতা জো ললোর জানিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আয়ারল্যান্ডে গভীর সহানুভঊয়াতি ও একাত্মতা রয়েছে। সেই সংহতি ম‚লত একটি আগ্রাসনকারী রাষ্ট্র দ্বারা পরাধীনতার অভিজ্ঞতা অনুভূতি থেকে জন্ম নিয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগকৃত লিও ভারাদকার এই মাসে হোয়াইট হাউসে সেন্ট প্যাট্রিক দিবস স্মরণে এক সভায় বলেন, ‘নেতারা প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে কেন আইরিশদের ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি এত সহানুভ‚তি রয়েছে। এবং উত্তরটি সহজ: আমরা তাদের চোখে আমাদের ইতিহাস দেখি। বাস্তচ্যুতি, ক্ষমতাচ্যুতি, জাতীয় পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ বা অস্বীকার, দেশত্যাগে বাধ্য, বৈষম্য এবং এখন ক্ষুধার একটি গল্প।’১২ শতকে অ্যাংলো-নর্মান আক্রমণকারীরা স্থানীয় আইরিশদের কাছ থেকে বিশাল প্রসারিত অঞ্চল দখল করার পর দ্বীপ দেশটি ৮শ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইংরেজ এবং তারপর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল।

সহিংস ও শান্তিপূর্ণ উভয় ধরনের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের অনেক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর দেশটি ১৯২১ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা বিভক্ত হয়। দ্বীপের উত্তরে আলস্টার অঞ্চলটি উত্তর আয়ারল্যান্ড নামে যুক্তরাজ্যের সাথে থেকে যায়। অবশিষ্ট আয়ারল্যান্ড এক বছর পরে বৃটিশ ইউনিয়ন ত্যাগ করে আইরিশ ফ্রি স্টেট এবং পরে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র হিসাবে পরিচিত হয়। উভয় আয়ারল্যান্ডের বিভাজন ম‚লত সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯২১ সালে অভিষেকের পর আলস্টারকে বিখ্যাতভাবে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান জনগণের জন্য একটি প্রোটেস্ট্যান্ট রাষ্ট্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে যে ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনের মধ্যে ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাস থাকা উচিত। জাতিসংঘ ১৯৪৭ সালে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে জমি ভাগ করার জন্য একটি পরিকল্পনা পেশ করে, যা ফিলিস্তিনিরা প্রত্যাখ্যান করে। আয়ারল্যান্ড ১৯৪৮ সালে ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনে দ্বৈত রাষ্ট্রের জন্য রূপরেখা প্রদান করেছিল।জেরুজালেমের প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর রোনাল্ড স্টর্স প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের আবাসভ‚মির পরিকল্পনাকে সম্ভাব্য প্রতিকূল আরববাদের সমুদ্রে অনুগত ইহুদিদের ক্ষুদ্র আলস্টার হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।

কয়েক দশক পর ১৯৬৭ সাল থেকে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট অংশে ইসরায়েলের দখলে চলে যায়, যা ফিলিস্তিনিরে জন্য আইরিশ রাজনৈতিক এবং জনপ্রিয় মতামতকে একত্রিত করেছিল।উত্তর আয়ারল্যান্ডের ব্রিটিশ অনুগত এবং ইউনিয়নবাদীরা সাধারণত ইসরায়েলের পক্ষে হলেও, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সাথে মিল থাকার কারণে ফিলিস্তিনিদের মুক্তির সংগ্রামকে এর বাসিন্দারাও তাদের নিজস্ব সংঘাতের দৃষ্টিতে দেখে। এর রিপাবলিকান আইরিশ জাতীয়তাবাদীরা বৃটেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রচারণা চালাচ্ছে, সাধারণত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল।

১৯৮০ সালে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা ঘোষণা করা প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য এবং তারপর থেকে একটি দ্বৈত-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য চাপ দেয়। আইরিশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিকে এর পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বর্ণনা করে এবং শান্তি অর্জনকে আরও কঠিন করে তোলার জন্য ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করে।

আয়ারল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস নভেম্বরে পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় শিশুদের উপর যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ‘আপনারা শিশুদের গণকবরে ওপর শান্তি স্থাপন করতে পারবেন না।’ইসরায়েল আয়ারল্যান্ডকে পাল্টা আক্রমণ করা থেকে পিছপা হয়নি। অন্যান্য জ্বালাময়ী মন্তব্যের মধ্যে এর ঐতিহ্য মন্ত্রী আমিহাই ইলিয়াহু নভেম্বরে বলেন যে, গাজার ফিলিস্তিনিরা আয়ারল্যান্ডে বা মরুভ‚মিতে চলে গেলেই পারে। ফিলিস্তি ইস্যুতে আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দলগুলি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে, বিশেষ করে সিন ফেইন, যা দুই আয়ারল্যান্ডের পুনর্মিলনকে সমর্থন করে এবং সীমান্তের উভয় দিকে সক্রিয়। এর নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘গাজা আন্তর্জাতিক আইনের কবরস্থানে পরিণত হতে পারে না।’ তিনি দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহŸান জানিয়েছেন।

সিন ফেইনের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র ম্যাট কার্থি সিএনএনকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি না যে আয়ারল্যান্ডের মতো একটি দেশের সাথে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা সমীচীন যেমনটি অন্য রাষ্ট্রগুলির সাথে রয়েছে যেগুলি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করে না। এবং আমি মনে করি এটি একটি অর্থবহ ব্যবস্থা হবে যা গাজার উপর হামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইরিশ সরকার ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে নিতে পারে।