• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট , আদেশ শিরোধার্য বললেন বুয়েট ভিসি , সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

usbnews
প্রকাশিত এপ্রিল ১, ২০২৪
বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট , আদেশ শিরোধার্য বললেন বুয়েট ভিসি , সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এই আদেশ দিয়েছেন।

বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।

২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বুয়েট কর্তৃপক্ষের দেওয়া ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তির’ বৈধতা নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন আজ রিটটি করেন। ইমতিয়াজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম হারুনুর রশীদ খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে    পিঠিয়ে হত্যার পর   ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। একই বছরের ১১ই অক্টোবর বুয়েট কর্তৃপক্ষের দেয়া ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তির’ বৈধতা নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম এই রিটটি করেন।

ওই ঘটনার চার বছর পর বুয়েটে আবারও ছাত্ররাজনীতি চালুর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। বুয়েটের উপাচার্যও বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্যাম্পাসে ফের ছাত্ররাজনীতি চালু করা যেতে পারে।

আদালতের আদেশ শিরোধার্য: বুয়েট ভিসি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তির’ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের এই আদেশের পর বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, আদালত যেটা বলবেন, আমাকে সেটা মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য। আমরা আদালত অবমাননা করতে পারব না।

আজ দুপুরে বুয়েট ক্যাম্পাসে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ভিসি।

বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালের ১১ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তির’ বৈধতা নিয়ে আজ হাইকোর্টে একটি রিট হয়।

হাইকোর্টের আজকের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েট ভিসি সত্য প্রসাদ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, আদালত যা বলবেন, আমরা সেটা মানতে বাধ্য। আদালত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আদালত আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেই নির্দেশনা মেনে চলব।

আদালতের আদেশের পর বুয়েটের পদক্ষেপ কী হবে, জানতে চাইলে তিনি  বলেন, এ বিষয়ে আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আদালতকে তো আমরা ভায়োলেট (আদেশ লঙ্ঘন) করতে পারব না। আমাদের আদালতের নিয়মে চলতে হবে। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে।

ভিসি জানান, আদালতের আদেশ না দেখে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। আদেশ দেখার পর বুয়েটের আইন উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী তারা এগিয়ে যাবেন।

বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালু হলে আবার আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, আমি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব না।

কী হবে না হবে, সেটা কি আমি-আপনি জানি?

এক প্রশ্নের জবাবে বুয়েটের ভিসি বলেন, রাজনীতির পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসন সবাই মিলে একটা রূপান্তর করতে হবে। কীভাবে সেটা করা যায়, তা আলোচনার মাধ্যমে বের করতে হবে।  বর্তমানে ইউকসুর (ছাত্র সংসদ) কার্যক্রম বন্ধ আছে। সব পক্ষের মতামত নিয়েই একটা কিছু করতে পারবেন তারা।  একা কিছু করলে, তা বাস্তবায়ন করা যাবে না। সেটা সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হতে হবে, অর্ডিন্যান্সে যুক্ত হতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদন নিতে হবে। তা না হলে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে ঢুকবে না। তাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারা আদালতের আদেশ পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়মে চলে। কিন্তু আদালতের আদেশ শিরোধার্য।

সাধারণ শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগ মুখোমুখি ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে ‘জঙ্গি কানেকশন’ খুুঁজছে সরকার শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে অনড়, ছাত্র রাজনীতির পক্ষে নমনীয় ভিসি ১২১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে মাত্র একজন

বুয়েট ক্যাম্পাস থমথমে

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে আসার প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভ করে আসছিল বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রলীগ। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের সকল বিভাগের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ১২১৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১২১৪ জন শিক্ষার্থীই অনুপস্থিত ছিল বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ব্যপারে সরকারের মনোভাব জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটের আন্দোলনের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সেখানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে জঙ্গিবাদের কারখানা তৈরি হচ্ছে কিনা দেখা হচ্ছে। এরকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।

মধ্যরাতে ছাত্রলীগ নেতাদের বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববারও তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তবে একটি ব্যাচের মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের এ চলমান আন্দোলনের বিপরীতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এ প্রেক্ষিতে পুনরায় ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি প্রবেশ করানোর ব্যাপারে নমনীয় দেখা গেছে বুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদারকে। সাংবাদিকদের এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে রাজনীতি চলবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রাজনীতি বন্ধ করা হয়েছিল। তারা চাইলে আবার শুরু হবে। তবে সে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের থেকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, রাজনীতি না করলে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ আসবে না। রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই আছে। আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

দয়াল মাসুদ লিখেছেন , সকল বিষয় নিয়ে যেমন আদালতের দারস্থ হওয়া উচিত নয়। ঠিক তেমনি সকল বিষয়ে জাজমেন্ট দেওয়া আদালতেরও ঠিক নয় বলে মনে করি। কারণ, এতে করে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের ভক্তি শ্রদ্ধা লোভ পায়।উল্লেখ্যন এদেশের সচেতন নাগরিকদের অধিকাংশ মানুষই ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে হওয়া সত্বেও এই ধরনের বিতর্কিত বিষয়ে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কিছু স্বার্থান্বেসী মানুষের সুবিধা আদায় করে নেওয়া দেশ প জাতির জন্য কলংক জনক অধ্যায়ে নতুন পাতাই শুধু সংযোজন করে।

আবুল কাসেম লিখেছেন , আবার পড়বে লাশ, জন্ম নেবে খুনি, রেগিংয়ের নামে নিরীহ ছাত্রদের ওপর চলবে অমানুষিক নির্যাতন। ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যেের কাছে বুয়েট জিম্মি হয়ে পড়বে। গভীর রাতে সদলবলে ছাত্রলীগ সভাপতির বুয়েটে প্রবেশ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বুয়েটের ভিসি বলেছেন ছাত্ররা চাইলে আবার রাজনীতি শুরু হতে পারে। এরপর ছাত্রলীগের রাজনীতির করতে দেয়ার দাবি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ, সমাবেশ শেষে বুয়েটে প্রবেশ, রিট ও রাজনীতির পক্ষে রায় এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সবকিছুই মনে হয় একসূত্রে গাঁথা। আদালত যখন রায় দিয়েছে কারো কোন কথা থাকতে পারেনা। শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মা আমাদের কাছে কি কোন ফরিয়াদ করছে! সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। বুয়েট বাদ থাকবে কোন যুক্তিতে- বলাই যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতি চায়না কেন তাও তো বিবেচনায় রাখা দরকার ছিলো। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মত তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চায় ক্যাম্পাসে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি চালু আছে সেসবগুলোয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ধর্ষণের ও খুনোখুনির। কর্তৃপক্ষ কি ছাত্রলীগকে অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে পেরেছে, প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বুয়েটে কয়েক বছর শান্তিতে পড়াশোনা করেছে শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস অশান্ত করার খায়েশ এবার পূর্ণ হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশ মতে মিছিলে না গেলে, তাদের হুকুম তালিমে বিলম্ব হলে নেমে আসবে ভয়াবহ নির্যাতন। চলবে খুনোখুনি। প্রশাসন আগেও এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবেনা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ত্রাহি মধুসূদন আর কি!

আব্দুল জব্বার লিখেছেন , ক্যাডেট কলেজে ছাত্র রাজনীতি চালু কবে হবে? এখনো সেটা হচ্ছেনা কেন?

তানভীর লিখেছেন , তাহলে হাইকোর্ট ছাত্রলীগকে পুনরায় ছাত্র হত্যার মোটামুটি লাইসেন্স দিয়ে দিলো । এদেশে আর কোনো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী কি আর কোনো ধরনের ক্যারিয়ার করবে ?

শহীদ উদ্দিন লিখেছেন ,আদালতের বিচারপতি বুয়েটে বৃহত্তর শিক্ষার্থীদের পক্ষের মতামত কে উপেক্ষা করে এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আওয়ামী লীগের অংগ-সংঘটন ছাত্রলীগের সভাপতি দেওয়া বক্তব্য কে সমর্থনে রায় দিয়ে নিজেদের আবারও প্রমাণ দিলো তারা অতীতের মতো বর্তমানও ক্ষমতাসীন দের ইশারায় ফরমায়েশি রায় দিতে চেয়ারে বসেছেন।