• ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বুঁনার  সিরিয়ার  গোয়েন্দা কর্মীদের গুপ্তচরবৃত্তি এবং জিজ্ঞাসাবাদের কৌশলগুলিতে প্রশিক্ষণ দেন

usbnews
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০২৪
বুঁনার  সিরিয়ার  গোয়েন্দা কর্মীদের গুপ্তচরবৃত্তি এবং জিজ্ঞাসাবাদের কৌশলগুলিতে প্রশিক্ষণ দেন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বার্লিন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইবনিজ জেনতুম মুদানা ওরিয়েন্ত-এর নুওয়া শাালাথি বলেন, ‘তাদের অনেককে সেনাবাহিনী এবং সামরিক গোয়েন্দা পরিষেবাকে পরামর্শ দিয়ে এক বছরের চুক্তিতে সিরিয়ার সামরিক প্রধানরা সরাসরি নিয়োগ করেছিলেন। এদের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত নাজি যুদ্ধাপরাধী অ্যালোইস বুঁনার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বুঁনার   ১৯৫৪ সালে সিরিয়ায় পালিয়ে যান। ১৯৫৯ সালে সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা বুঁনাকে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের হুমকি দেয়, যার ফলে বুঁনার তার আসল পরিচয় প্রকাশ করেন এবং সিরিয়ার হয়ে গোয়েন্দা সেবার প্রস্তাব করেন। পরবর্তী বছরগুলিতে,  বুঁনার   গোয়েন্দা কর্মীদের গুপ্তচরবৃত্তি এবং জিজ্ঞাসাবাদের কৌশলগুলিতে প্রশিক্ষণ দেন।

অনেক কুখ্যাত সিরিয়ান কর্মকর্তা বুঁনার প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল আলী হায়দার, যিনি ২৬ বছর ধরে সিরিয়ার বিশেষ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আলি দোবা এবং পরবর্তীকালে আসাদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোস্তফা তলাস, যিনি ১৯৮২ সালে হামাতে মুসলিম ব্রাদারহুড-এর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহকে নৃশংসভাবে দমন করার জন্য দায়ী ছিলেন, যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

দামেস্ক অস্ত্র প্রযুক্তি থেকে শুরু করে গোয়েন্দা পরিষেবা এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামো এবং সংগঠন সব বিষয়েই আগ্রহী ছিল। তাই সিরিয়ার স্বৈশাসকরা সাহায্যের জন্য শুধুমাত্র পলাতক নাজিদের উপর নির্ভর করে থাকেনি।

তারা পূর্ব জার্মানির প্রাক্তন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা, স্তাাসির কাছ থেকেও সমর্থন গ্রহণ করেছে। যদিও সিরিয়া ১৯৬০-এর দশকে জোট নিরপেক্ষ ছিল, কিন্তু বাথ শাসনের অধীনে এটি ক্রমবর্ধমানভাবে নিজেকে ইউরোপের পূর্ব জোটের সাথে সংযুক্ত করে।

বুঁনা সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পিতা হাফেজ আসাদের জন্য দরকারী প্রমাণিত হয়েছিলেন, যিনি ১৯৭০ সালে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক হেদি আউইজ ২০১৭ সালে ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেছিলেন, ‘এই চুক্তিটি ছিল সুরক্ষা। নাজি নাজি কলাকৌশলের বিনিময়ে। বুঁনা হাফেজ আল-আসাদের সবচেয়ে কাছের নাজি গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।’

হেদি বলেন, শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালে আসাদ সরকার বুঁনাকে কারাগারে নিক্ষেপ করে, যেখানে তিনি ২০০২ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন বলে মনে করা হয়।