• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড, আপিলের শর্তে ১ মাসের জামিন

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ১, ২০২৪
ড. ইউনূসের ৬ মাসের কারাদণ্ড, আপিলের শর্তে  ১ মাসের জামিন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় সাজা পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার  শর্তে জামিন  দিয়েছেন আদালত। সোমবার সাজা ঘোষণার  পর  বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানার আদালতে এ জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে ড.  ইউনূসের পক্ষে রয়েছেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সারা হোসেন ও খাজা তানভীর আহমেদ । অপরদিকে কলকারখানার পক্ষে রয়েছেন এডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এর আগে  ড. মুহাম্মদ ইউনূসের  বিরুদ্ধে  কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায়  ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং  ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ঢাকার তৃতীয়  শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে দোষ আমি করিনি সে দোষে আমাদেরকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই সাজা আমাদের কপালে ছিল। আজ আনন্দের দিনে আঘাতটা পেলাম। সোমবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার শ্রম আদালতে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস বলেন, আজ রায় ঘোষণা শুনতে আমার অনেক বিদেশি বন্ধু-বান্ধব এসেছে। যাদের সঙ্গে বহুদিন দেখা হয়নি। আজ তাদেরকে দেখে খুব আনন্দ লাগছিল। সবাই রায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। যে দোষ আমরা করিনি, সে দোষে সাজা দেওয়া হলো। আনন্দের দিনে আঘাতটা পেলাম। এ সময় তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেন।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আপিল করার শর্তে ড. ইউনূসসহ আসামিদের ১ মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান। তাদেরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এক নম্বর আসামির বিষয়ে প্রশংসাসূচক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বলা হয়েছে। কিন্তু এ আদালতে নোবেলজয়ী ইউনূসের বিচার হচ্ছে না, গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচার হচ্ছে। এসময় আদালত বলেন, ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

রায় ঘোষণার ৫ মিনিটেই ড. ইউনূসসহ চার আসামির জামিন

ড. ইউনূসসহ একই মামলায় দণ্ডিত চারজনকে সাজার রায় ঘোষণার পর সোমবার দুপুরে তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করা হয়। রায় শোনার জন্য ১টা ৪০ মিনিটে আদালতে উপস্থিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এর আগে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক ৮৪ পৃষ্ঠার এ রায় ঘোষণা শুরু করেন।

এরও আগে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ড. ইউনূসসহ চার আসামি আদালতে হাজির হন।

গত ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শেষ যুক্তিতর্ক শোনার পর রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ ধার্য করে শ্রম আদালত।

ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন এ তথ্য জানিয়েছিলেন।

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূস এবং শীর্ষ কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান, নুরজাহান বেগম ও মোহাম্মদ শাহজাহানের নামে এই মামলা করা হয়।

গত ১৬ নভেম্বর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে।

এর আগে, গত ৬ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষীর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলাটি করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) এসএম আরিফুজ্জামান।

মামলার নথি অনুসারে, আইএফইডি কর্মকর্তারা ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের বেশকিছু লঙ্ঘন খুঁজে পান।

সেই বছরের ১৯ আগস্ট গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি।

এছাড়া কর্মচারীদের পার্টিসিপেশন ও কল্যাণ তহবিল এখনো গঠন করা হয়নি এবং কোম্পানির যে লভ্যাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা ছিল তার পাঁচ শতাংশও পরিশোধ করা হয়নি।

এদিন রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। খবর সংগ্রহের জন্য ভিড় জমান দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।