• ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৩ লক্ষ যেমন করে ৩০ লাখ হয়ে গেলো সেই ইতিহাস তো সবার জানা

usbnews
প্রকাশিত মে ২৩, ২০১১
৩ লক্ষ যেমন করে ৩০ লাখ হয়ে গেলো সেই ইতিহাস তো সবার জানা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ কাজগুলো করার দায়িত্বে থাকলেও তারা তা করেনি। তারা রাজাকারের তালিকাটা পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি। আর এখন করার সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এখন আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে রাজতন্ত্রে।

একদিকে দলীয় বিবেচনায় বা অর্থের বিনিময়ে যেমনি অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছেন, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেননি। বিশেষ করে গ্রামের কৃষক-সন্তান, প্রান্তিক যে জনগোষ্ঠী যুদ্ধে গেছেন, তাঁদের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেননি।

মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন ৯ মাস অর্থাৎ ২৭০ দিনের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোকের মৃত্যুবরণ ঘটেছে!! মানে প্রতিদিন প্রায় ১১,১১১ জন কে হত্যা করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলেছে মোট ২৬৬ দিন। এর মধ্যে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হওয়া মানে প্রতিদিন গড়ে ১১ হাজার ২৭৮ জন শ’হী’দ। বিষয়টা এতো সহজ না। ৩ লাখ হলে ১১২৮ জন প্রতিদিন গড়ে।

৪৮০ টি থানা, ৪৫০০ ইউনিয়ন, ৬৮০০০ গ্রাম এই ভাবে হিসেব করলে দেখা যায় -অর্থাৎ প্রতিদিন প্রতিটি থানায় = (৩০,০০,০০০ / ২৬০) / ৪৮০ = ২৪ জন (আনুমানিক) হত্যা করা হয়েছে

একই সূত্রে প্রয়োগ করলে প্রতিদিন প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন (আনুমানিক)

আর প্রতিটি গ্রামে ২৬০ দিনে মারা গিয়েছেন = ৩০,০০,০০০ /৬৮০০০ = ৪৪জন (আনুমানিক)

গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে জনমানব শূন্য হয়ে গিয়েছে এসব শুনে শুনে সবাই বড় হচ্ছে বা হয়েছে। যদি এমন হতো তাহলে যুদ্ধের পর তো ভারত ফেরত লোকগুলো সবাই খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হতো , কিন্তু বেশিরভাগ লোক তাদের নিজ নিজ বাড়ীতে ফেরত এলেন।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কাদের অবদান কেমন ছিল সেটা যাছাবাছাই না করে স্বাধীনতা-উত্তর কোনো সরকার এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায়নি, বরং একে নিয়ে রাজনীতি করাতেই নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। যার শুরুটা হয়েছিল স্বাধীন দেশের প্রথম সরকারের অনীহা বা ইতিহাস গায়েবের কারণেই।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কাদের অবদান কেমন ছিল সেটা যাছাবাছাই না করে স্বাধীনতা-উত্তর কোনো সরকার এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চায়নি, বরং একে নিয়ে রাজনীতি করাতেই নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। যার শুরুটা হয়েছিল স্বাধীন দেশের প্রথম সরকারের অনীহা বা ইতিহাস গায়েবের কারণেই। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করাকে অনেকেই ভয়ের মনে করেন। এতে রাষ্ট্রদ্রোহ কথিত মামলার ভয় সবার মনেই।

এমন ও হতে পারে আগামীতে কোন এক সময় দেখা যাবে কোন বিশেষ একটি পক্ষ আদালতের বুকে পা রেখে জোর করে রায়ের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করবে।

যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, লাখ লাখ নারী তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান বিসর্জন দিয়েছেন। এক কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সব গুলো আনুমানিক। তাই অমানিক যে কোন বিষয়ে যে কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে তার মতামত বিশ্লেষণ করতে পারে। সেখানেরাষ্ট্রদ্রোহ কথিত মামলার ভয় দেখিয়ে আনুমানিক বিষয়টি ইতিহাসের চূড়ান্ত হিসেব বলে গণ্য করার জোরপূর্বক প্রচেষ্টা।

 

বিবিসির বাংলা বিভাগের উপ প্রধান সিরাজুর রহমান ১৯৬০ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবিসি বাংলা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।১৯৬০ সালে তিনি বিবিসিতে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিবিসির বাংলা রেডিও অনুষ্ঠানে তার অবদানের জন্য সিরাজুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক কিংবদন্তীতে পরিণত হন।

১৯৯৪ সালে বিবিসি থেকে অবসর নেয়ার পর মি. রহমান বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিতভাবে কলাম লিখতেন।

বিবিসির বাংলা বিভাগের উপ প্রধান সিরাজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে যা বললেন

তিনি লেখেন, “১৯৭২ সালের জানুয়ারীর ৮ তারিখে, আমিই ছিলাম প্রথম বাংলাদেশী যিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করি। তাঁকে হিথ্রো থেকে লন্ডনের ক্ল্যারিজেসে আনা হয় এবং আমি প্রায় সাথে সাথে সেখানে পৌঁছাই তিনি যখন আমার কাছ থেকে জানতে পারেন যে তার অবর্তমানেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছে, তখন তিনি বিষ্মিত হন। দৃশ্যত তিনি লন্ডনে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানিদের যেই স্বায়ত্বশাসনের জন্যে লড়াই করছিলেন পাকিস্তানিরা তা মেনে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি টিভিতে ও কয়েকটি স্বাক্ষাৎকারে একই কথা বলেন।

২০১১ সালের ২৩ মে, বিবিসির বাংলা বিভাগের উপ-প্রধান সিরাজুর রহমান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ানে


২০১১ সালের ২৩ মে, বিবিসির বাংলা বিভাগের উপ-প্রধান সিরাজুর রহমান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ানে একটি চিঠি পাঠান। তিনি ইয়ান জ্যাকের লেখা একটি প্রবন্ধ যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো, তার উপর নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। জনাব রহমান একটি ইতিহাস তুলে ধরেন সেখানে। (http://goo.gl/AP3k5z)

৩ লক্ষ যেমন করে ৩০ লাখ হয়ে গেলো

২০১১ সালের ২৩ মে, বিবিসির বাংলা বিভাগের উপ-প্রধান সিরাজুর রহমান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্যা গার্ডিয়ানে  লেখেন, “১৯৭২ সালের জানুয়ারীর ৮ তারিখে, আমিই ছিলাম প্রথম বাংলাদেশী যিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করি। তাঁকে হিথ্রো থেকে লন্ডনের ক্ল্যারিজেসে আনা হয় এবং আমি প্রায় সাথে সাথে সেখানে পৌঁছাই তিনি যখন আমার কাছ থেকে জানতে পারেন যে তার অবর্তমানেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছে, তখন তিনি বিষ্মিত হন। দৃশ্যত তিনি লন্ডনে এসেছিলেন এই ধারণা নিয়ে যে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানিদের যেই স্বায়ত্বশাসনের জন্যে লড়াই করছিলেন পাকিস্তানিরা তা মেনে নিয়েছে।

সেইদিন আমি এবং অন্যরা তাঁকে যুদ্ধের একটি বিবরণ দেই। আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম যে এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কোন সঠিক হিসাব জানা যায়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে আমাদের অনুমান, কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ মারা গিয়েছেন। আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম যখন তিনি ডেভিড ফ্রস্টকে বললেন ত্রিশ লক্ষ মানুষকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেছে। আমি জানি না কি কারণে তিনি এই সংখ্যাটি বলেছিলেন, হয়তো তিনি মিলিয়ন শব্দটির ভুল অনুবাদ করেছিলেন কিংবা তাঁর অস্থিরচিত্ত এর জন্যে দায়ী হয়ে থাকতে পারে। তবে আজও অনেক বাংলাদেশী বিশ্বাস করেন সংখ্যাটি আসলেই অতিরঞ্জিত।”

তাহলে কি আগে থেকেই ট্যাটেল্ড করা ছিল এই ৩০ লক্ষ ?

মানুষের প্রশ্ন করা সন্দেহ করা জানতে চাওয়ার ভেতরে আমি কখনই কোন দোষ দেখি না । কার যদি ত্রিশ লক্ষ শহীদ নিয়ে সন্দেহ জাগে মনে তাহলে অবশ্যই সেটা নিয়ে পড়াশোনা করা উচিৎ, জানার চেষ্টা করা উচিৎ। সেই জায়গায় জোরপূর্বক আইন করে অথবা অলিখিত নিয়ম করে গবেষণা ও রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা থামিয়ে দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করলেই স্বাধীনতাবিরোধী আর তার দোসরদের অংশ এই অপবাদ থেকে অনেকে নিজেকে রক্ষার জন্য স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে যাচ্ছেন।  দৈনিক বাংলা পত্রিকাতে জল্লাদের বিচার করতে হবে শিরনামে প্রকাশিত প্রবন্ধেও এই ৩০ লাখ শহীদের কথা উল্লেখ আছে। শেখ মুজিবুর রহমান ৩ লাখ বলতে গিয়ে ৩ মিলিয়ন বলেছেন এবং এটাই ৩০ লাখ হয়ে গেছে। কোনো জরিপ ছাড়া ৩০ লাখ শহীদ বলে বলে তারা মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস নিয়ে অনেকে প্রতারণা করেছেন।

আপনারা জরিপ করে বের করেন, ৩০ লাখ হোক আর ৩ কোটি হোক। এখনো সময় আছে, জাতিকে সত্য ইতিহাস জানতে দিন। আমাদের নতুন প্রজন্মকে মিথ্যার উপরে আপনারা গড়ে তুলতে দেবেন না। সত্যিকার একটা জরিপ করে  ব্যবস্থা করেন। জানি করবেন না , পারবেন না।