কুমিল্লা, ৭ অক্টোবর ২০২৪ (বাসস) : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রথম শহিদ জামশেদুর রহমান। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন তিনি। লেখা পড়া শেষ করেও ছাত্রলীগ-যুবলীগ না করার কারণে চাকুরি পাননি পরিবারের কেউই। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সকল সুযোগ সুবিধা থেকেই বঞ্চিত ছিল জামশেদের পরিবার।
জামশেদ শুরু থেকেই বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গত ৫ আগষ্ট বিজয়ের মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন তিনি।
জামশেদুর রহমান (২২) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ফেলনা এলাকার বাসিন্দা। মা সালেহা বেগম এবং বাবা মোঃ শাহ জালাল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশে হাজার হাজার জনতার সাথে জামশেদুর রহমানও নেমে পড়েন। ছাত্রজনতার মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। সেদিন বিকেলে বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জামশেদ। এর আগে প্রতিদিন সহপাঠিদের নিয়ে শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতেন তিনি।
জামশেদ চৌদ্দগ্রাম ফেলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম, ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন কুমিল্লা সরকারি কলেজে। সেখানে তিনি রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কথা হয় শহিদ জামশেদ এর মা সালেহা বেগমের সাথে। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমার ছেলে শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যেত। নিষেধ করলেও শুনতো না। ৫ আগষ্ট সকালে আমার ছেলে তালের পিঠা খেতে চাইছিলো। আমি বানিয়ে দিয়েছি। দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জোর করে গরম ভাত খাইয়ে দিয়েছি। এটাই যে আমার হাতে সন্তানের শেষ খাওয়া কল্পনা করতে পারিনি। আমার বুক যারা খালি করছে আমি তাদের বিচার চাই।’
শহিদ জামশেদ এর চাচা আইয়ূব মিয়াজীরও দাবি, দেশের সকল শহিদ হত্যার বিচারসহ অসহায় পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে পূর্ণবাসন ও সহায়তা প্রদান করা।
তিনি বলেন, জামশেদ একজন মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিলো। সব সময় সবার কাজে এগিয়ে যেত।
অন্যদিকে জামশেদ এর ভাই জাহিদুর রহমান জানান, আমরা ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। তাকে হত্যার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সহসাই মামলা করা হবে।
শহিদ জামশেদ এর পিতা মোঃ শাহ জালাল জানান, ‘আমার তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জাহিদুর রহমান মাষ্টার্স করেছে। মেজ ছেলে খালেদ মাহমুদ জিসান ডিপ্লোমা ইঞ্জিয়ার আর ছোট ছেলে জামশেদ। আমার ছেলেরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করার কারণে কোথাও চাকুরি পায়নি। বড় ছেলে বাড়িতে বেকার অবস্থায় আছে। মেজ ছেলে চাকুরি না পেয়ে বিদেশে চলে গেছে। ছোট ছেলে সবসময় বলতো স্বৈরাচারি সরকারের পরিবর্তন হলে আমি সরকারি চাকরি করবো বাবা। আমার ছেলের স্বপ্নপূরণ আর হলো না। স্বপ্নপূরণ করতে দিলো না স্বৈরাচার হাসিনা।’
তিনি দেশের রাষ্ট্র প্রধানের কাছে ছেলেসহ সকল শহিদের হত্যার বিচার দাবি করেন।