
১৯৩৫ সালে ইংরেজ শাসকরা ভারত শাসন আইন চালু করে। সেই আইন অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে বিহারে কংগ্রেস জয়লাভ করে। বিহারে কংগ্রেস প্রধান ছিলেন ড. সৈয়দ মাহমুদ। ড. সৈয়দ মাহমুদেরই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। এ সম্পর্কে পুস্তকটির বাংলা সংস্করণের ১৯ ও ২০ পৃষ্ঠায় মওলানা আজাদ বলছেন, ‘বিহারেও ঘটেছিল অনুরূপ এক ঘটনা। নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে ড. সৈয়দ মাহমুদ ছিলেন প্রদেশের প্রধান নেতা। তিনি সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস কমিটিরও একজন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং সে কারণে প্রদেশের বাহির ও ভেতর উভয় স্থানে তার প্রভাব ছিল। কংগ্রেস যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলো তখন এটা ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে ড. সৈয়দ মাহমুদ নেতা নির্বাচিত হবেন এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের অধীনে বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু তার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন পেলেন কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য শ্রীকৃষ্ণ সিংহ ও অনুগ্রহ নারায়ণ সিংহ। তাদের ডেকে পাঠানো হলো বিহারে। বোম্বাইয়ে সর্দার প্যাটেল যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, বিহারে সেই একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
মওলানা আবুল কালাম আজাদ। সারাজীবন তিনি কংগ্রেস করেছেন। শুধু করেছেন না, তিনি এক নাগাড়ে ৮ বছর অল ইন্ডিয়া কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছায় কংগ্রেসের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন এবং নিজেই সভাপতি হিসেবে পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর নাম প্রস্তাব করেন। ভারতে তিনিই একমাত্র কংগ্রেস নেতা যিনি শেষ পর্যন্ত ভারত বিভক্তি অর্থাৎ পাকিস্তান কায়েম মেনে নিতে পারেননি। সকলেই ধারণা করেছিলেন যে, এহেন কট্টর একজন কংগ্রেসী এবং অখন্ড ভারতের আপোসহীন প্রবক্তাকে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু কংগ্রেসীরা আর যাই করুক, একজন মুসলমানকে, হন না কেন তিনি কংগ্রেসী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার কল্পনা করতে পারে না। তাই ভারত স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী ৮ বছর বা ১০ বছর পর্যন্ত তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। এহেন আবুল কালাম আজাদ ভারত বিভক্তির জন্য কে বা কাদেরকে দায়ী করেছেন সেটি বর্তমান প্রজন্মের বাংলাদেশিরা জানে না। তিনি ইংরেজিতে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। মওলানা আজাদ এই বই রচনার পর একটি শর্ত দিয়েছিলেন। শর্তটি ছিল এই যে, তাৎক্ষণিকভাবে ছাপলে এই বইয়ের ৩০টি পৃষ্ঠা (কোন ৩০টি পৃষ্ঠা সেটাও তিনি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন) বাদ দিয়ে ছাপতে হবে। আর যদি ঐ ৩০ পৃষ্ঠাসহ ছাপতে হয় তাহলে তার মৃত্যুর ৩০ বছর পর পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি ছাপা যাবে।