• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ছেলেকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন দিন মজুর কামাল

usbnews
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ (বাসস): মাদ্রাসায় পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে খাবার ও জামা কাপড় পৌঁছে দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন দিন মজুর কামাল মিয়া।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় নির্মম এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির করুন মৃত্যুতে তার সুখের সংসারে অন্ধকার নেমে এসেছে। বাসা ভাড়া, পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগানো নিয়ে শহিদ কামাল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এখন দিশেহারা। বাঁচার তাগিদে তিনি এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পাশাপাশি চেষ্টা করছেন একটি স্থায়ী কাজ যোগাড় করতে যাতে পরিবার নিয়ে কোনমতে বেঁচে থাকতে পারেন।
ফাতেমা খাতুন জানান, ঘটনা গত ১৯ জুলাই শুক্রবার। কয়েকদিন ধরে টানা আন্দোলন ঢাকায়। বিভিন্ন স্থান থেকে শুধু গুলিতে নিহত হওয়ার খবর শুনছিলাম। ওইদিন আমার স্বামী সারাদিন বাসায় ছিলেন। মাগরিবের নামাজের পর ছেলে ইয়াছিনের জন্য কিছু খাবার ও কাপড় নিয়ে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। ইয়াছিন মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার শেখ জনরুদ্দিন দারুল উলুম মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে লেখাপড়া করছে। বটতলার বাসা থেকে বের হওয়ার কিছু সময়ের ভেতরে একটি ছেলে এসে আমাদের জানায় আমার স্বামী কামাল মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে লোকজন সিএনজি করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেছে। ফাতেমা খাতুন বলেন, আমি আমার এক মেয়েকে নিয়ে শান্তিনগর-কাকরাইল রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি অতিক্রম করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যাই। হাসপাতালে গিয়ে আমার স্বামীকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি। পরে মর্গে গিয়ে স্বামীকে খুঁজে পাই। দেখতে পাই মর্গে আমার স্বামীর গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পড়ে আছে। তার শরীরে হাত দিয়ে দেখি গুলি তার পিঠে লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ স্থান থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফাতেমা বলেন, পরদিন ২০ জুলাই শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেটসহ স্বামীর লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। লাশ বুঝে পেয়ে বৈরি পরিস্থিতিতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) -তে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পিয়ন পদে চাকরি করতেন কামাল মিয়া। ওই কাজের ফাঁকে রিকশা চালিয়েও উপার্জন করে ছয় সদস্যের পরিবারের যাবতীয় খরচ মেটাতেন তিনি।
ফাতেমা খাতুন বলেন, ১৫৩/১১ শান্তিনগর বটতলার ছোট একটি বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে তাদের বসবাস ছিল। এখনো সেখানেই রয়েছেন। স্বামীর রোজগারেই ছয় সদস্যের পরিবার চলতো।পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে চার সন্তানের আহার, বাড়ি ভাড়া ও লেখাপড়ার খরচের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। চার সন্তানের মধ্যে এক ছেলে ও তিন মেয়ে। এরমধ্যে তিন সন্তানই লেখাপড়া করেন। টাকার অভাবে তাদের লেখাপড়া এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
অসহায় ফাতেমা খাতুন বলেন, চলতি মাসের ভাড়া এখনো দিতে পারেননি। খাবারের বন্দোবস্ত করবো নাকি বাসা ভাড়া দিবো। এখন পর্যন্ত কেউ ওভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেনি। প্রায় দুই মাসের মতো হয়ে গেল, কোনো কাজ জোগাড় করতে পারিনি। এরই মধ্যে স্বামী যেখানে কাজ করতেন বিআইডব্লিউটিএ’তে মতিঝিলের অফিসে গিয়ে কথা বলেছি। সেখান থেকে বলা হয়েছে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করার জন্য।
তার নিরপরাধ স্বামীর নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার দেখতে চান ফাতেমা খাতুন।