রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইডির হাতে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এখানেই শেষ নয় ইডির আরও দাবি, শংকর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকা দুবাই এবং বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। বিদেশি মুদ্রা বিনিময় অপরাধ নয় বলেই পালটা সওয়াল বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের আইনজীবীর।
শনিবার আদালতে তেমনটাই জানাল ইডি। তাদের দাবি, মোট ৯০টি ফরেক্স সংস্থার (বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচার সংস্থা) মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি অ্যাকাউন্টে ডলার আকারে গিয়েছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা। শঙ্করের এক পরিচিতের কাছ থেকে সে কথা জানা গিয়েছে বলে দাবি ইডির।
শঙ্করের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা রেশন ‘দুর্নীতি’কাণ্ডে ধৃত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর। এই টাকা প্রথমে ফরেক্স সংস্থার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রায় (মূলত ডলার) পরিবর্তন করা হয়েছে। ইডি এ-ও জানিয়েছে, টাকা গিয়েছে দুবাইতে। হয় সরাসরি, নয়তো বাংলাদেশ হয়ে ওই টাকা দুবাইতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার শঙ্করকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বনগাঁয় তাঁর বাড়ির সামনে থেকে যখন শঙ্করকে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, আশপাশে অনেকে জড়ো হন। মহিলারাও ছিলেন সেই দলে। তাঁরা ইডির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ইডির তরফে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বিক্ষোভকারীদের আটকাতে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যান। রাস্তা ফাঁকা করার পরেই এগোয় শঙ্করের গাড়ি।
তবে হামলাকারীদের আসল পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতে সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে আহত ইডি আধিকারিকদের দেখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ”যাদের লেলিয়ে দেওয়া হল, তারা ভারতবর্ষের নাগরিক তো? অন্য কোনও জায়গার না তো? তারা নৌকা করে আসেনি তো? সঠিক তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে কারা কাকে আশ্রয়।”
শুক্রবার রাতে শংকর আঢ্যর গ্রেপ্তারির পর স্ত্রী জ্যোৎস্নাদেবী জানিয়েছিলেন, ইডি অফিসাররা পকেট থেকে একটি কাগজ বের করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম উল্লেখ করেন। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই গ্রেপ্তারি, এমনটাই জানান কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারীরা। এখন প্রশ্ন উঠছে সেই কাগজে আসলে কী লেখা ছিল। এদিন সকালে জ্যোৎস্নাদেবীর বক্তব্য, ইডি আধিকারিকরা ওই কাগজ দেখিয়ে বলেন যে জ্যোতিপ্রিয়ই নাকি শংকরবাবুর নাম বলেছেন। রেশন দুর্নীতিতে তাঁর জড়িত থাকার তালিকায় শংকর আঢ্যর নাম রয়েছে বলে জানান। এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বনগাঁর প্রাক্তন পুরপ্রধানের পরিবার। আদৌ কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই এই গ্রেপ্তারির জন্য দায়ী?