স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক গড়া হবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি আরও বলেছে, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূখণ্ড থেকে বাস্তুচ্যুত করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সৌদির অবস্থানের বিষয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি জানাচ্ছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আজ বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে রিয়াদ। বিবৃতিতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্বৃতি করে বলা হয়, তিনি ‘সুস্পষ্টভাবে’ সৌদি আরবের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ফিলিস্তিনিরা অন্য জায়গায় পুনর্বাসিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং গাজাকে নতুন করে গড়ে তুলবে। সেখানে নেতানিয়াহু বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ইসরায়েল সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবে এবং সফল হবে।
তার এমন মন্তব্যের পরই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-এ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি আরব তার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং তা ছাড়া ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পূর্বসূরি জো বাইডেন উভয়ই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ককে সমর্থন করেছেন। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আলোচনাও শুরু হয়েছিল। তবে গাজা সংঘাতের শুরুতে রিয়াদ এই বিষয়ে অস্থায়ী আলোচনা স্থগিত করে এবং যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় তাদের বক্তব্য আরও কঠোর করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো এবং বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর মনে করা হচ্ছিল, আরব বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অর্থনীতি এবং ইসলামের দুটি পবিত্র স্থানের অভিভাবক সৌদি আরবের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি হতে পারে ইসরায়েলের।
সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না, তবে ২০২০ সাল থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের সহায়তার বিনিময়ে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আলোচনা করছে।
এর আগে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিশর জর্ডান ফিলিস্তিন আরব লিগের
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজার বাসিন্দাদের মিশর ও জর্ডানের আশ্রয় দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া পুরো গাজা উপত্যকাকে খালি করার প্রস্তাবও করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে দেশ দুটি। পাশাপাশি ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, হামাস এবং আরব লিগও ট্রাম্পের আহ্বান নাকোচ করে দিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার মুখে হাজারো ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ও চরম মানবিক সংকটে থাকা গাজার জন্য এটা সাময়িক নাকি স্থায়ী সমাধান, ট্রাম্পের কাছে এটা জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হতে পারে।’
জর্ডান এরই মধ্যে লাখো ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। মিশরেও হাজারো ফিলিস্তিনি তাঁবুতে বসবাস করেন। মিশর, জর্ডান ও অন্যান্য আরব দেশ গাজার ফিলিস্তিনিদের তাদের দেশে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের চিন্তাভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। গাজা ভূখণ্ডের ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে থাকতে চাইছেন। হামাসের একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িঘর থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে আসছেন।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম রয়টার্সকে বলেন, ফিলিস্তিনিরা এমন কোনো প্রস্তাব কিংবা সমাধান মেনে নেবে না। জর্ডানের তরফ থেকেও ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের যে কোনো স্থানচ্যুতির বিরুদ্ধে তার দেশের ‘দৃঢ় ও অটল’ অবস্থানে রয়েছে। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই অবস্থান নিয়েছে।
আরব লিগ মিশরের বক্তব্য শেয়ার করে বলেছে, ‘ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে জোরপূর্বক স্থানান্তর ও উৎখাত শুধু জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।’
ফিলিস্তিনের পশ্চিমা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘আমাদের মানুষরা অবিচল থাকবে এবং মাতৃভূমি ত্যাগ করবে না।’

ফিলিস্তিন স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নয় : সৌদি
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে সৌদি আরব তার অবস্থানে কঠোরভাবে অনড় রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আল আরাবিয়াহ জানিয়েছে, ব্লিঙ্কেন সৌদি আরবের এ কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, প্রথমে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি আনতে হবে। এর পরে এ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় প্রাধান্য দেওয়া জরুরি, যেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
তবে, সৌদি আরব পরিষ্কার করে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এই শর্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এর আগে ২০১৭ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তবে সৌদি আরব শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিন ইস্যুকে সামনে এনেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর আল সৌদ সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অপ্রতিরোধ্য পথ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অসম্ভব।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভেন উইটফকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বিতীয় দফায়ও ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হতে পারে। তবে সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের শর্ত এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এ অঞ্চলের কূটনৈতিক এবং সামরিক স্থিতিশীলতার ওপর। ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের এই দৃঢ়তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দেবে যুক্তরাষ্ট্র?
বানরের রুটি ভাগাভাগি চলছে। সাজানো গোছানো ফিলিস্তিনের ভেতর জোর করে আরেকটি রাষ্ট্র পয়দা করে বিশ্বের মোড়লরা। এখন সেই রাষ্ট্র দানব হয়ে গিলে খাচ্ছে ফিলিস্তিনকে। সাত দশকের বেশি সময় আগে একবার ষড়যন্ত্র করা হয়। এখন ফিলিস্তিনকে নিয়ে নতুন আরেক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আন্দোলনকে চাপা দিয়ে ভূখণ্ডটি সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্বাধীন দেশেই পরাধীন হওয়া ফিলিস্তিনিরা দশকের পর দশক অধিকার আদায়ের লড়াই চালাচ্ছে। সেই সশস্ত্র লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন। তবে বুধবার এই সংগঠনের মাথা ইয়াহহিয়া সিনাওয়ারকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা দেওয়ার পরিবর্তে বরং সৌদি আরবের হাতে তুলে দিলে ভূখণ্ডটি ইসরায়েলের অধীনস্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্টের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সেই কূটচালের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনের প্রধান সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বিস্তারিত পরিকল্পনাও পেশ করেছেন। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে লাভের পুরো গুড় খাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ফিলিস্তিন নিয়ে মোটেও মাথাব্যথা নেই সৌদি আরবের। তবে মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনকে সৌদি আরবের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রিয়াদের কর্মকর্তারা, অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মধ্যপ্রাচ্য শাসন করতে চায়। এজন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালার পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে বলি দিতেও আপত্তি নেই রিয়াদের কর্মকর্তাদের। অথচ সেই সৌদির হাতেই ফিলিস্তিনকে তুলে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
পশ্চিম তীরের নেতৃত্বের ওপর আগে থেকেই ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে গাজাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে তেল আবিবের। তাই দীর্ঘদিন ধরে গাজা সংস্কারের বিভিন্ন পরিকল্পনা পেশ করে আসছেন নেতানিয়াহু। তাদের সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা তৃতীয় কোনো দেশের কাছে গাজাকে তুলে দেওয়া হতে পারে। সিনওয়ারের মৃত্যু সে দরজাই এখন খুলে দিয়েছে।
মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সিংহের মতো একা লড়ে গেছেন সিনওয়ার। তার নিঃসঙ্গ মৃত্যু ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনকে দুর্বল করেনি। বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, তারা দুর্বল হবে না। আঘাত হানবে নতুন উদ্যমে। কেননা রক্তে স্বাধীনতার নেশা লাগলে আগুনও শীতল হয়ে যায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতার লোভে গাজাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেও বিশ্বের প্রতিটি কোণ থেকে প্রতিধ্বনি হবে ফ্রি প্যালেস্টাইন।
স্বীকৃতি দিয়েছে যারা
স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের স্বীকৃতির আগে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ তিনটি দেশকে নিয়ে স্বীকৃতিদাতা দেশের সংখ্যা এখন ১৪৬। চলতি বছরে স্বীকৃতি দেওয়া অন্য দেশগুলো হচ্ছে—বাহামা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, জ্যামাইকা ও বার্বাডোজ।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। এরপর দেশটিতে পাল্টা হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েল। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত উপত্যাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
এর আগে একযোগে ফিলিস্তিনকে ইউরোপের তিন স্বীকৃতি দেয়। এ তিন দেশ হলো নরওয়ে, স্পেন ও আয়ারল্যান্ড। গত ২২ মে একযোগে তিন দেশের প্রধানমন্ত্রীরা স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। দেশ ৩টির নেতারা বলেন, ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবেন কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্যে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোর বলেন, সর্বোত্তম পথ হলো একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান। ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসতে পারে না।
নরওয়ের ঘোষণার পরপরই, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিসও এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ডও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে। আমরা প্রত্যেকে এখন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য জাতীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত যে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও অনেক দেশ এ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।
১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথম ইন্তিফাদার শুরুতে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যার রাজধানী ছিল
জেরুজালেম। আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স থেকে ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন ইয়াসির আরাফাত।
আর প্রথম দেশ হিসেবে আলজেরিয়াই আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়।
আলজেরিয়া স্বীকৃতি দেওয়ার পর ওই বছরই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, সোমালিয়া, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কিউবা, জর্ডান, মাদাগাস্কার, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, সার্বিয়া, জাম্বিয়া, আলবেনিয়া, ব্রুনাই, জিবুতি, মরিশাস, সুদান, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, মিশর, গাম্বিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, নামিবিয়া, রাশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন, ভিয়েতনাম, চীন, বুরকিনা ফাসো, কোমোরোস, গিনি, গিনি-বিসাউ, কম্বোডিয়া, মালি, মঙ্গোলিয়া, সেনেগাল, হাঙ্গেরি, কেপ ভার্দে, উত্তর কোরিয়া, নাইজার, রোমানিয়া, তানজানিয়া, বুলগেরিয়া, মালদ্বীপ, ঘানা, টোগো, জিম্বাবুয়ে, শাদ, লাওস, সিয়েরা লিওন, উগান্ডা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, সাও টোমে এবং প্রিন্সেপ, গ্যাবন, ওমান, পোল্যান্ড, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বতসোয়ানা, নেপাল, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ভুটান, পশ্চিম সাহারা।
তা ছাড়া ১৯৮৯ সালে রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া, ইরান, বেনিন, কেনিয়া, নিরক্ষীয় গিনি, ভানুয়াতু, ফিলিপাইন, ১৯৯১ সালে ইসোয়াতিনি, ১৯৯২ সালে কাজাখস্তান, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, জর্জিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ১৯৯৪ সালে তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, পাপুয়া নিউগিনি, ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, কিরগিজস্তান ও ১৯৯৮ সালে মালাউই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০২৩ সালে মেক্সিকো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলের
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার (৩ জুন) এ আহ্বান জানান তারা। খবর বার্তা রয়টার্স
বিশেষজ্ঞ দলটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বিশ্বের সব দেশকে আহ্বান জানাচ্ছি।
স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং নরওয়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এ দলটির পক্ষ থেকে এমন আহ্বান এলো।
ফিলিস্তিনে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টারসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হচ্ছে তাদের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিন এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পূর্বশর্ত। অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। রাফাতে আর কোনো সামরিক হামলা যাতে না হয় সেটির আহ্বান জানান তারা।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলের এমন আহ্বান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোমানিয়ায় ইসরায়েলের দূতাবাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ জুন) রোমানিয়ার রাজধানীতে ইসরায়েলি দূতাবাসের প্রবেশপথে ‘মোলোটভ ককটেল’ দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে একজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বুখারেস্ট পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে একজন ৩৪ বছর বয়সী ব্যক্তিকে রোমানিয়ান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি হামলার পর নিজের গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
স্থানীয় নিউজ চ্যানেল ডিজি২৪-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি সিরিয়ার নাগরিক হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি ব্যক্তিগত অভিযোগের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই এ হামলা করেছে। তিনি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে দূতাবাসে হামলা করেননি।
ইসরায়েলি দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মীরা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে গেলে সে একটি ‘মোলোটভ ককটেল’ বের করে। এরপর তাতে আগুন জ্বালিয়ে বিল্ডিংয়ের লবির প্রবেশদ্বারের দরজার দিকে ছুড়ে ফেলে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।