জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুই নেতা একটি মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনের জন্য নিরোধক এবং পাল্টা-জবাব দেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে, চীনের পদক্ষেপ নিয়ে উভয় সরকারের মধ্যে সঙ্কটের অনুভূতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইশিবা বলেন, “আমরা নিশ্চিত করেছি যে জোটের নিরোধক ও পাল্টা-জবাব দেয়ার ক্ষমতা উন্নত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সমস্যা মোকাবিলায় আমরা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।”
ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এবং আমি শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ঘনিষ্ঠভাবে একসাথে কাজ করব। আর আমি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এবং সমগ্র ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তির কথাও বলছি।”
ইশিবা এবং ট্রাম্প আরও বলেছেন যে তারা কোয়াড নিরাপত্তা সংলাপের মতো আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সাথেও সহযোগিতা জোরদার করবেন। অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের পাশাপাশি জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র এই জোটের সদস্য।
এর পাশাপাশি, তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বও নিশ্চিত করেছেন ইশিবা ও ট্রাম্প।
অর্থনীতির বিষয়ে, এবং স্পষ্টতই চীনকে মাথায় রেখে, দুই নেতা নিশ্চিত করেছেন যে তারা অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগ মোকাবিলার পাশাপাশি সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবেন। এছাড়া, তারা দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
ইশিবা বলেন, “জাপান গত ৫ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে প্রস্তুত আছি।”
ট্রাম্প এর জবাবে বলেন যে তার কর নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে গাড়ি নির্মাতাদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে। তবে তিনি এও বলেন যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূর করার দিকেও দুই দেশের নজর দেয়া প্রয়োজন।
ইশিবার ভাষ্যানুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ আরও বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চান।
তিনি এবং ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের রপ্তানি বৃদ্ধি করে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও তারা সম্মত হন।
ট্রাম্প বলেছেন জাপানি যে কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত উৎপাদকের মালিকানা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে, সেটা হচ্ছে একটি “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি”। তিনি উল্লেখ করেন, “সেই প্রতিষ্ঠানের চলে যাওয়া আমরা দেখতে চাইনি, এবং এরা আসলেই চলে যাবে না,” এবং কিনে নেয়ার ধারণাটি “মনস্তাত্বিক দিক থেকে ভালো নয়।”
ট্রাম্প আরও বলেন: “কিনে নেয়া হিসাবে নয়, বরং একটি বিনিয়োগ হিসাবে তারা তা করছে। এটা কিনে নেয়া হোক তা আমি চাইনি।”
তিনি বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আগামী সপ্তাহে তিনি নিপ্পন স্টিলের নির্বাহীদের সাথে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।
চুক্তির বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে নিপ্পন স্টিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত বাজারে আরও বড় ভূমিকা পালনের পথ চুক্তিটি তৈরি করে দেবে।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানুয়ারি মাসে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের উল্লেখ করে জাপানি ইস্পাত নির্মাতার ক্রয় বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেছিলেন।
দুই কোম্পানি সেই আদেশ বাতিল করার জন্য একটি মামলা দায়ের করে এবং চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানায়। তারা দাবী করছে বাইডেনের সেই সিদ্ধান্ত ছিল অবৈধ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালানোর সময় থেকে ট্রাম্প বারবার এই অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছেন।