• ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ছাত্র জনতার বিপ্লব : গৌরব গাঁথা , পুলিশকে আঙ্কেল ডেকেও শেষ রক্ষা হয়নি কিশোর ইফাতের

usbnews
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
ছাত্র জনতার বিপ্লব : গৌরব গাঁথা  , পুলিশকে আঙ্কেল ডেকেও শেষ রক্ষা হয়নি কিশোর ইফাতের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে গেলে বুলেট হয় তার অনিবার্য পরিণতি। এটা জেনে বুঝে শহীদ আবু সাঈদ, আসিফ, ইফাত, শাকিল, ফারুক, ওয়াসিম, শাহজাহান, ফয়সাল, সবুজ, মুগ্ধ, নাজমুল, তামিম, ইয়ামিন, ইমন মিয়া, দীপ্ত দে, রুদ্র সেন, ইমরান, সিয়াম, ইসমাঈল, জিল্লুর রহমান, দুলাল মাতব্বর, শান্ত রাব্বি, ওদুদ, পাভেলসহ শত শত নাম আমাদের সামনে। এর বাইরে আরও অনেককে গুম করা হয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়েরের শেয়ারকৃত ভিডিও বলছে রায়ের বাজার কবরস্থানের গণকবরের কথা। সেখানে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ রকম সংখ্যায় বেড়ে গিয়েছে বেওয়ারিশ লাশ দাফন। আরও কত শহীদের লাশ গুম করা হয়েছে কে জানে? ইন্টারনেট বন্ধ থাকা, ফেসবুক ও ইউটিউবে মুক্ত সংবাদের প্রবাহে বিঘœ ঘটার পাশাপাশি সরকারি গণমাধ্যমের নির্লজ্জ নীরবতায় গুম করা হয়েছে এমনি শতশত নৃসংশতার ঘটনা। তবুও ছাত্র-জনতার বিপ্লবী প্রতিরোধে সফল হয়েছে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান। কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অগণিত তাজা কিশোরের প্রাণ। শিশু-কিশোর হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার এখন পুরো দেশ। যেভাবেই হোক এই শিশু কিশোরদের হত্যার বিচার করতে হবে।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া শত শত কিশোরের মধ্যে ইফাত হাসানও একজন। ইফাত আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য, এটাই তার অপরাধ। পরিবারের অভিযোগ, ইফাতকে হাসপাতাল থেকে জোর করে টেনে এনে গুলী করে পুলিশ। ইফাত অনেকবার পুলিশকে বলেছে, আঙ্কেল এই এলাকায় জীবনেও আসবো না, আমাকে ছেড়ে দেন, কিন্তু পুলিশ শোনেনি। সোজা মহৎ প্রাণ তাজা কিশোরকে বুকে গুলী করে হত্যা করে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ইফাত হাসানের (১৬) মা আজও প্রিয় পুত্রের শেষ মুহূর্তের আবেগময় স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন। মা কামরুন নাহার পুত্রের সাথে তার হৃদয় বিদীর্ণ করা শেষ মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি আমার ছেলের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো অনুভব করতে পারি… আমার ছেলে শেষবারের মতো চলে যাওয়ার আগে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলো, যা আমি সারাক্ষণ অনুভব করি।’

p1f
শহীদ ইফাত হাসান নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের মনপুরা গ্রামের ব্যাংকার রবিউল আমান ও কামরুন নাহার দম্পতির ছেলে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ইফাত ছিল দ্বিতীয়। ইফাত পড়তেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার এ কে হাইস্কুলের নবম শ্রেণিতে। আর বড় বোন উম্মে সালমা ইফতি পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘরে রয়েছে ৪ বছরের আরেক ছোট বোন তাজরিয়ান।

যেভাবে শহীদ হন: শনিবার (২০ জুলাই ২০২৪) রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও গুলী ছোড়ে পুলিশ। সেখানে এক ব্যক্তি গুলীবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন। ইফাত হাসান তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিষয়টি দেখে ওই হাসপাতাল থেকে সন্ত্রাসীবাহিনী ইফাতকে টেনে বের করে নিয়ে বুকে গুলী করে। শনিবার (২০ জুলাই ২০২৪) ঢাকায় পুলিশের গুলীতে নিহত হয় ইফাত হাসান। ‘‘আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। গুলীবিদ্ধ একটা ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় সে। বিষয়টি দেখে ওই হাসপাতাল থেকে আমার ছেলেকে পুলিশ টেনে বের করে নিয়ে বুকে গুলী করে মেরে ফেলে, গুলী হাতের কব্জি ভেদ করে বুকের বাম পাঁজরে ঢুকে যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণে সেখানেই শহীদ হন। পুলিশ আমার ছেলেকে মেরে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।’’-কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যাত্রাবাড়ীর অনাবিল হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলীতে নিহত হওয়া ইফাত হাসানের (১৬) মা কামরুন নাহার।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলীতে প্রাণ গেছে এই কিশোর ইফাতের। ১৬ বছরের দুরন্ত কিশোর ইফাতের অপরাধ কী? সে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল। আওয়ামী হায়েনার দল ও পুলিশ শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪ যাত্রাবাড়ীতে তাকে গুলী করে হত্যা করে। হিংস্রতার শেষ সীমায় আওয়ামী দলদাস পুলিশদের কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতাল থেকে আহত অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। তারপর তাকে সরাসরি বুকের বাঁ পাশে গুলী করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন। সরকারের মদদপুষ্ট একটি দৈনিকই সাহস করে এই সংবাদ ছেপেছে। শহীদ ইফাত ছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শহীদ ইফাত হাসানের মায়ের অভিব্যক্তি: ইফাতের মা জানান, তার স্বামী উত্তরা ব্যাংকে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি মারা যান। স্বামীর চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার রসুলপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তারা। স্বামী মারা গেলেও শুধুমাত্র একমাত্র ছেলে ইফাত ও মেয়ে ইফতির পড়ার সুবাদে তিনি ঢাকায় থেকে যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত ইফাতের মা বলেন, ‘আমার ছেলে অনেকবার পুলিশকে বলেছে, আঙ্কেল এ এলাকায় জীবনেও আসবো না, আমাকে ছেড়ে দেন, কিন্তু পুলিশ শোনেনি। তারা আমার ছেলেকে মেরে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার (২০ জুলাই ২০২৪) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুম ভাঙে ইফাতের। হাতমুখ ধুয়ে দুপুরে বাসার বাইরে যেতে তৈরি হতে দেখে ইফাতকে বাইরে যেতে নিষেধ করি। কিন্তু একটু পরেই চলে আসবে বলে বেরিয়ে যায় ইফাত। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইফাতের কয়েকজন বন্ধু তার লাশ বাসায় নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, আমার ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না। একটা অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়াই কি তার অপরাধ? এ কারণেই আমার ছেলেকে গুলী করে মেরে ফেলা হয়েছে?

ইফাতের বন্ধুদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সেদিন সে বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাত্রাবাড়ী ফুটওভার ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখে এক ব্যক্তি পায়ে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তখন তাকে উদ্ধারে আশেপাশের কেউ এগিয়ে আসছিল না। তাই ইফাত এগিয়ে গিয়ে ওই লোককে টেনে পার্শ্ববর্তী অনাবিল হাসপাতালে নিয়ে যান। বিষয়টি পুলিশ দেখতে পেয়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে ইফাতকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর তার বুকের বাম পাশে একটি গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে ইফাত মারা যায়। রাস্তায় তার মরদেহ পড়ে থাকে। পরে এলাকার লোকজন ও ছেলের বন্ধুরা তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসে। যারা ইফাতের মরদেহ বাসায় নিয়ে আসছিল তারাই বলেছে, ইফাত অনেকবার পুলিশকে বলেছে, আঙ্কেল এই এলাকায় জীবনেও আসবো না, আমাকে ছেড়ে দেন, কিন্তু পুলিশ শোনেনি।

আন্দোলনে যাওয়ার আগে মাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলো ইফাত; ফিরলো লাশ হয়ে: ইফাতের মা ২০ জুলাই ২০২৪ ছেলেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাওয়া থেকে বিরত করতে চেয়েছিলেন। ইফাত বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ছেলেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন যাতে ছেলে বাইরে না যায়। কিন্তু ইফাত নিজেও মাকে জড়িয়ে ধরেন। উদ্বিগ্ন মাকে রাজি করাতে মায়ের কপালে দু’বার চুম্বন করেন। ইফাতের শোকাহত মা সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে ইফাত বলেছিলো, ‘তুমি আসলে আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই তোমার এমন মনে হচ্ছে। চিন্তা করো না মা, আমি খুব বেশি দূরে যাব না, আমি শিগগিরই ফিরে আসব’। যাত্রাবাড়ির দনিয়া এলাকার এ কে স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র ১৬ বছর বয়সী ইফাত সেদিন বিকেলেই বাড়ি ফিরেছিল, কিন্তু লাশ হয়ে। সেদিন যাত্রাবাড়ির শনির আখড়া এলাকায় পুলিশের গুলী বুকে বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

‘আমার সুস্থ ছেলেটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় আমার কপালে দুটো চুমু দিয়ে গেল। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি, এটিই তার শেষ বিদায় হবে… আমি আমার কপালে তার চুম্বনের শেষ স্পর্শটুকু ভুলতে পারি না! আমি যখন জেগে থাকি তখন এই ছবিটিই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে’ কামরুন নাহার ছেলের সাথে তার শেষ স্মৃতিটুকু স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কামরুন বলেন, ‘আন্দোলনের শুরু থেকেই ইফাত ছাত্র আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্ম ছিলেন। ১৮ ও ১৯ জুলাইয়েও তিনি আন্দোলনে যোগ দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইফাত যখনই বাইরে যেতো তখনই আমি আয়াতুল কুরসি (পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত) পড়ে তার মাথায় ফুঁ দিতাম। শুক্রবার সে যখন আন্দোলনে যাচ্ছিল তখনও আমি তার মাথায় ফুঁ দিয়েছিলাম। মৃত্যুর আগের দিন ১৯ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার সন্ধ্যায় আন্দোলন থেকে বাসায় ফেরার পর ইফাত তার মায়ের কাছে রাস্তার পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, ওই দিন তার সামনে দুইটি ছেলেকে গুলী করে হত্যা করা হয়।

তিনি যখন তাকে আন্দোলনে যোগ দিতে বাধা দিতেন, তখন ইফাত তাকে বলতেন, ‘দেশ যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার অবসান ঘটাতে অনেক বাবা-মায়ের সন্তানই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে’। ইফাত বলতেন, ‘আমরা যদি সবাই ঘরে বসে থাকি, তাহলে আন্দোলন সফল হবে না, বরং দেশ অচল হয়ে পড়বে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ছাত্র এবং শিশুসহ অনেক লোককে হত্যা করছে।’ তিনি বলেন, ইফাত অবশ্য তাকে বলতেন যে তিনি পরের দিন থেকে আন্দোলনে যাবেন না, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পরের দিনটি আর তাদের জীবনে আসেনি। সন্তানদের পড়ালেখা ও ভরণ- পোষণ চালিয়ে নিতে তার সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে কামরুন নাহার বলেন, ইফাতের চাচা ও মামাসহ আত্মীয়-স্বজনরা তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ইফাত ছিল আমার একমাত্র ছেলে। তাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। তারা কীভাবে আমার নিষ্পাপ ছেলের বুকে গুলী চালাতে পারলো?

২০ জুলাই ইফাত বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মন খুব অস্থির ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টা বা আড়াইটার দিকে, আমি দুটি গুলীর শব্দ শুনে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালাম এবং আমার বড় মেয়েকে বলেছিলাম, গুলীটা মনে হয় আমার বুকে এসে লাগলো।’ তারপরই তিনি তার মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ইফাত কোথায়? সে এখনো ফেরে না কেন?’ ইফাতের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যখন আমি ইফাতের কথা ভেবে উ™£ান্তের মতো এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাচ্ছিলাম, তখন আমাদের আগের ভাড়া বাড়ির মালিক ফোনে আমার মেয়েকে জানায় যে ইফাতকে পুলিশ গুলি করেছে এবং তাকে সালমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে সময় তার বড় মেয়ে উম্মে সালমা তাকে জানান, ইফাতের পায়ে সামান্য আঘাত লেগে থাকতে পারে।

সালমান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সুরভি সোহানা বলেন, ইফাতকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যেহেতু কেউ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি, তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইফাতের একটি ছবি তুলে বিক্ষোভকারীদের কাছে পাঠায়। তিনি বলেন, তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিক্ষোভাকারীদের সহায়তায় তার লাশটি বাড়ি পাঠানো হয়। সালমান হাসপাতালটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন শনির আখড়া বাস স্টপেজের কাছে অবস্থিত। ১৬ জুলাই মো. আবু সাঈদসহ আরো ৬ জন বিক্ষোভকারী শহীদ হওয়ার পর ১৭ জুলাই থেকে এলাকাটি রীতিমতো একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। আন্দোলনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় বিশৃঙ্খলার কোনো প্রমাণ তাদের কাছে আছে কি না জানতে চাইলে সোহানা বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে যাত্রাবাড়ি থানার পুলিশ হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক জব্দ করে নিয়ে গেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ায় পুলিশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও হয়রানি করেছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভের সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি মৃতদেহ তাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হয়। তবে আহতের সংখ্যা ছিল অগণিত। ইফাতের মা বলেন, ইফাতের নিষ্পাপ লাশ হাসপাতালে পড়ে থাকতে দেখে চিকিৎসকরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল হন। তারা পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন একটি সরু গলি দিয়ে তার লাশ বের করে দেন।

ক্রন্দনরত মা কামরুন নাহার আরো বলেন, আমি সৌভাগ্যবান যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে, আমি আমার প্রিয় সন্তানের লাশ দেখতে পেয়েছি, যখন অনেক লোক তাদের কাছের এবং প্রিয়জনের লাশ খুঁজে পায়নি।’ এজন্য তিনি সালমান হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তবে, আমি এখনও আমার মনকে বোঝাতে পারি না। আমার কেবলই মনে হয়, আমি নিজে কেন তার পিছনে পিছনে যাইনি? আমি যদি তার সাথে সাথে থাকতাম তবে সে হয়ত রাস্তায় যেত না।’ তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইফাতের স্বপ্ন ছিল বড় প্রকৌশলী হওয়ার। সে অত্যন্ত মেধাবী ও পড়ালেখায় মনোযোগী ছিল। আর তার শখ ছিল ক্রিকেট খেলা। ২০ জুলাই রাতেই ইফাতকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার মনপুরা গ্রামে তাদের গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে গভীর শোকে আকুল ইফাতের মা পুত্র হত্যার বিচার চান। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকা-ের বিচার হলে আমি অন্তত একটু শান্তি পাবো।

  • দৈনিক সংগ্রাম , প্রকাশ  :১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫