পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির বিষয়টি নতুন নয়। সন্ত্রাসীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। আর সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে অস্ত্র যোগানোর পাশাপাশি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে। জাতির কালান্তরের এ সময়ে পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। তাদের অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ভেগে গিয়ে আবার পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করে ভারতের মদদে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে যে শান্তিচুক্তি হয়, তাতে আসলে পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর আধিপত্য কমিয়ে আনার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সফল হয় ভারত। কথিত ওই শান্তিচুক্তির কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে ২৪৬টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের বঞ্চনার দিন শুরু হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাধান্য পেতে শুরু করে পাহাড়িরা। সেনা তৎপরতা কমে আসায় সন্ত্রাসীরা সংগঠিত হতে শুরু করে। আগে তাদের একটি সশস্ত্র গ্রুপ থাকলেও এখন পাহাড়ে তৎপর রয়েছে ৬টি সশস্ত্র সংগঠন। যাদের মূল লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দুর্বল করা। তাদের এ কাজে অর্থের যোগানে আছে নানাভাবে। এর একটি হলো চাঁদাবাজি। নানিয়াচরসহ দুর্গম এলাকাগুলোর ২২টি মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সন্ত্রাসীরা। মোটা অংকের চাঁদা না দিলে মোবাইল কোম্পানীগুলোকে নেটওয়ার্ক চালাতে দেবে না বলে হুমিক দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্বত্য এলাকায় ছয়টি সংগঠনের অস্তিত্ব থাকলেও সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ছড়ায় জেএসএস এবং ইউপিডিএফ। পার্বত্য এলাকায় উৎপাদিত একটি আনারস বিক্রি করতে হলেও সংগঠন দু’টিকে চাঁদা দিতে হয়। এসব সংগঠনের টোকেন ছাড়া কোনো বাজারে ব্যবসা করতে পারেন না কোনো ব্যবসায়ী।