• ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথ্য গোপন করে জালিয়াত উপায়ে ধর্ষকদের মুক্তি দিয়েছে গুজরাট,বিলকিস ধর্ষকদের মুক্তির অতীত রায় বাতিল সুপ্রিম কোর্টের

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৪
ক্ষমতার অপব্যবহার ও তথ্য গোপন করে জালিয়াত উপায়ে ধর্ষকদের মুক্তি দিয়েছে গুজরাট,বিলকিস ধর্ষকদের মুক্তির অতীত রায় বাতিল সুপ্রিম কোর্টের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০২৪ সাল বিলকিস বানোর পক্ষেই রায় দিল শীর্ষ আদালত।  সুপ্রিম কোর্টের রায় বড়সড় ধাক্কা খেল গুজরাত সরকার।  সোমবার বিলকিস বানো মামলায় যুগান্তকারি রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বড়সড় ধাক্কা খেল গুজরাত আদালতের রায়। ধর্ষকদের মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট তাদের ফের জেলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ১১ জনকেই ফিরতে হবে জেলে।

২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট, বিলকিসের ঘটনায় ১১ জনকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাত সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বিলকিস বানো। এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বিলকিসের এই চ্যালেঞ্জ যুক্তিযুক্ত। এবং এই মামলায় শুনানি চলবে।

আজ থেকে ২২ বছর আগে গুজরাত হিংসার সময় দাহোড় জেলার দেবগড়ে হামলা চালানো হয় বিলকিসের উপরে। তাঁর উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। তাঁর চোখের সামনে খুন করা হয়েছিল মেয়েকে। ধর্ষণ করা হয় বিলকিসকে। ২০০৮ সালে মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। এই ঘটনাকে বিরত থেকে বিরলতম অপরাধ বলে উল্লেখ করে ছিল আদালত।

কিন্তু ২০২২ সালে গুজরাত সরকার এই ১১ জনের মুক্তির ঘোষণা করতেই চাঞ্চল্য পড়ে যায়। গুজরাত সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যান বিলকিস। সেই শুনানিতেই সোমবার এই নির্দেশ দেশের শীর্ষ আদালতের। ২০২২ সালের ১৫ অগাস্ট, বিলকিসের ঘটনায় ১১ জনকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাত সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বিলকিস বানো।

বিলকিস বানোর  ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার মামলায় নিজের রায়ই খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট । শীর্ষ আদালতের মত, তাঁদের দেওয়া রায়ের অপব্যবহার করেছে গুজরাট সরকার। কার্যত জালিয়াতি করে তথ্য গোপনের মাধ্যমে ১১ জন ধর্ষককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। গোটা ঘটনার পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়কেই বাতিল বলে ঘোষণা করল শীর্ষ আদালত।

১৯৯২ সালের আইন অনুযায়ী যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ন্যূনতম ১৪ বছর তার বেশি সময় সাজা কাটানোর পর তাঁদের আচরণের ভিত্তিতে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে সেই রেহাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কোর্ট। তার পরেই ২০২২ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অপরাধীদের আগাম জামিন দেওয়া যেতে পারে। উল্লেখ্য়, গুজরাট দাঙ্গার পরে এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মহারাষ্ট্রে, যেন তদন্ত প্রভাবিত না হয়।

এহেন পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় বিলকিসের ধর্ষকদের একজন। রাধেশ্যাম ভগবানদাস শাহের আবেদন ছিল, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মহারাষ্ট্র সরকারের কাছেও একই আবেদন জানান তিনি। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে কোনও জবাব আসার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে গুজরাট সরকার চাইলে মুক্তি দিতে পারে বিলকিসের ধর্ষকদের। সেই রায়ের ভিত্তিতেই ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তি পায় ১১ ধর্ষক।

সোমবার এই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে গুজরাট সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপব্যবহার করেছে গুজরাট। জালিয়াতি উপায়ে, তথ্য গোপন করে ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের মনে রাখা উচিত ছিল, একমাত্র মহারাষ্ট্র সরকারের এক্তিয়ার আছে ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার। উল্লেখ্য, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে মুক্তি পাওয়া ধর্ষকদের আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।