• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল , উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

usbnews
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫
কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল , উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের পর ‘কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচি থেকে ছাত্রদলকে জালিম (অত্যাচারী) না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত ১৬ বছরে নির্যাতনের কথা ভুলে যাবেন না। চাপাতির রাজনীতি ক্যাম্পাসে আবার রিইনস্টল (পুনরায় প্রতিষ্ঠা) করতে চাইলে ছাত্রলীগ গেছে যে পথে, আপনারা যাবেন সে পথে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে আসে। মিছিলে ‘কুয়েটে রক্ত ঝরে, ওয়াসিম তোমায় মনে পড়ে’, ‘শিক্ষা–সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত ১৬ বছরে যে নির্যাতন হয়েছে, আপনারা মজলুম ছিলেন, আপনারা জালিম হবেন না। মজলুম জালিম হলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সম্মান জানাই। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই, আবার যারা ছাত্রলীগ হয়ে উঠতে চাইবে, শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের পরিণতি ছাত্রলীগের মতোই হবে।’

গণতন্ত্রে উত্তরণের লড়াই সমন্বিত লড়াই উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শহীদদের রক্তের দায় আমাদের ওপরও রয়েছে। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রিইনস্টল করতে পারি না। শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনীতি করতে চাইলে তাঁদের ভাষায় কথা বলতে হবে, তাঁদের মতো চলতে হবে। কিন্তু আপনারা যদি আবার ক্যাডার পলিটিকস করতে চান, হল দখল, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করতে চান, আপনাদের পরিণতি হবে সাদ্দাম–ইনানের (নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) মতো।’

গেস্টরুম ও চাঁদাবাজির স্বপ্ন আর বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে না–মন্তব্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের টুঁটি চেপে ধরুক। হলগুলো হবে শিক্ষার্থীদের অবারিত বিচরণের ক্ষেত্র।’

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমম্বয়ক আবদুল কাদের বলেন, জুলাই–পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো দখলদারত্বের ঠাঁই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ছাত্ররাজনীতির দরকার আছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। জোরজবরদস্তি করে যারা রাজনীতি খাওয়ানোর চেষ্টা করে, তাদের পরিণতি ছাত্রলীগের মতো হবে।

আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগ তো অনেক পরাক্রমশালী ছিল, তাদের আমরা ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছি। আমরা ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছি, তারা যদি আবার শিক্ষার্থীদের ওপর হাত দিতে চায়, আমরা তাদেরও প্রতিরোধ করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘যারা কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা এখানে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে) নাটক করতে এসেছে। আমরা এই নাটক দেখতে চাই না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি, যারা হামলা করেছে, তাদের যেন গ্রেপ্তার করা হয়।’

জুলাইয় আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা এবং কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও চিত্র আগামীকাল বুধবার বিকেলে টিএসসিতে প্রদর্শনী করার ঘোষণা দেন আবু বাকের মজুমদার।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশীদ, হাসিব আল ইসলাম, রাফিয়া রেহনুমা, নিশিতা জামানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী

 

কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ‘সন্ত্রাসী’ হামলার তীব৶ নিন্দা জানানোর পাশাপাশি হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে। এরপর বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘৭১–এর গণহত্যা’ ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা সন্ত্রাস এক সাথে চলে না’, ‘কুয়েটিয়ান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘কুটিয়ানদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সাঈদ থেকে মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ও ‘যেই হাত ছাত্রদলের, সেই হাত ভেঙে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মো. নুর নবী বলেন, ‘জীবন বাজি রেখে জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছি। যদি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য আবার জীবন বাজি রাখতে হয়, তার জন্য প্রস্তুত আছি। ছাত্র–জনতা একসঙ্গে দেশ গড়বে, সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী কার্যক্রম কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ মুখপাত্র সিয়াম হোসাইন বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে আমাদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছে। সেই একই কায়দায় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এখনই সময় তাদের প্রতিহত করার। না হলে অদূর ভবিষ্যতে ছাত্রলীগের মতো তারাও আমাদের ওপর চড়াও হবে। যদি আবারও এই অবস্থা তৈরি হয় তাহলে গণ–অভ্যুত্থানের মতো আবারও আমরা এক হয়ে আন্দোলনে নামব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাঈন আল মুবাশ্বির বলেন, ‘যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, তারা শিক্ষার্থী হতে পারে না। সন্ত্রাসীরা কোনো ছাত্র হতে পারে না। ট্যাগিং দিয়ে রাজনীতির পথ বন্ধ করবেন না। সব কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে। ছাত্র এবং সন্ত্রাসী একসঙ্গে থাকতে পারে না। যদি কোনো ছাত্রের ওপর হাত তোলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বসে থাকবে না।’

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচ দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং থেকে বলা হয়, দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস–পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

এদিকে কুয়েটে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলার’ অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম, বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে কুয়েট এলাকার রেলিগেট, তেলিগাতিসহ আশপাশের বিএনপি নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলের সঙ্গে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েট মেডিকেল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল-বৈষম্যবিরোধীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, বাগ্‌বিতণ্ডা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মুখোমুখি অবস্থান। আজ রাত ৯টা ৪০ মিনিটে
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েটের ঘটনায় তিনটি সংগঠন ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে পৃথক কর্মসূচি দেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এ সময় দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরাও ছাত্রদলের উদ্দেশে স্লোগান দিতে থাকেন।

আজ রাত সাড়ে নয়টার দিকে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল কুয়েটে তাদের দলীয় নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে আসে। সেখানে আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইনকিলাব মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। এরপর বৈষম্যবিরোধীরা জিরো পয়েন্টে আসেন ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে।