• ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এয়ার বাস এ-৩০০ বিমানটি যখন ধ্বংস হয় তখন মানবতার বুকে রচিত হয়েছিল অপরাধযজ্ঞ।

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০১৭
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ভুলক্রমে নয় বরং যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বংসের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক ও ইচ্ছাকৃত।
“১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ গুলি করে ইরান এয়ারের একটি বিমান ভূপাতিত করে যার ফলে এটির ২৯০ আরোহী নিহত হয়। ওই ঘটনার পর জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করার কারণে বিশেষ পদকে ভূষিত করা হয়।
১৯৮৮ সালের ওই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ভিনসেন্সের অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এটির ক্যাপ্টেন উইলিয়াম সি. রজার্স দাবি করেন, তিনি ইরান এয়ারের বিমানটিকে যুদ্ধবিমান বলে ভুল করেছিলেন।
বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’ থেকে দুবাইগামী বিমান বন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা ইরান এয়ারের ৬৫৫ নম্বর ফ্লাইটের মাধ্যমে মাত্র ত্রিশ মিনিটের এক নিয়মিত যাত্রায় দুবাই যাওয়ার জন্য ওই বিমানে আরোহণ করেন।
একটি মার্কিন হেলিকপ্টার খোয়া গেল এবং মার্কিন এস ভিনসেন্সের ক্যাপ্টেন ইরানের ঐ যাত্রীবাহী বিমানের ওপর মিসাইল ছোঁড়ার আদেশ দেন।নিহত হন বিমান আরোহী ২৯৮ জন নিরপরাধ মানুষ।
মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের যেই সেনাকে যাত্রীবাহী ইরানি বিমান টার্গেট করে ক্ষেপণা্স্ত্র ছুঁড়তে বলা হয়েছিল সে প্রথমে ওই অমানবিক নির্দেশ শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিল (কারণ, জাহাজের সবার কাছেই এটা স্পষ্ট ছিল যে ইরানি বিমানটি ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান) এবং তাই সে ওই নির্দেশ মানতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
কিন্তু এরপর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যখন তাকে কোর্ট মার্শাল করার তথা সামরিক আদালতে বিচার করার হুমকি দেয়া হয় তখন সে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ পালন করে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ কেবল দুঃখ প্রকাশ করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেনি।
বিশ্ববিবেক যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু মার্কিন নেতারা প্রথমে একটা দায়সারা গোছের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে।