• ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা, অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করল বিবিসি

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০২৫
নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন হাসিনা, অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করল বিবিসি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এই তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট বিবিসি আই ইনভেস্টিগেশনে। ওই সময়ের ফোনালাপ বিশ্লেষণ করে সেই নৃশংসতার ঘটনায় তার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ দমন অভিযানে প্রাণঘাতী সহিংসতার সরাসরি অনুমোদন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা- এমন একটি ফোন কলের অডিওর সত্যতা যাচাই করেছে বিবিসি আই। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। অডিওটির মেটাডাটাসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখেছে বিবিসি আই।

এ বছর মার্চ মাসে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বলতে শোনা যায়, তিনি তার নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ অনুমতি দিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গুলি করা হবে’।

৩৬ দিনের আন্দোলনের সময়কার শত শত ভিডিও, ছবি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তারা দেখিয়েছে, পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। ফাঁস হওয়া অডিওটি সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, গত ১৮ জুলাই নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ওই ফোনালাপটি করেন।

মূলত শেখ হাসিনার কথোপকথনের এই ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, গত গ্রীষ্মে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি তিনি নিজেই দিয়েছিলেন।

May be an image of 5 people, motorcycle and text that says 'হাসিনার গুলির নির্দেশের ফাঁস হওয়া অডিও রেকডিং যেভাবে যাচাই করেছে বিবিসি ইয়ারশটের ইয়ার বিশ্লেষণে জানা যায়, রেকরডিংটি এমন একটি ঘরে ধারণ করা হয়েছে যেখানে ফোন কলটি স্পিকারে ছিল। এতে স্বতন্ত্র টেেলিফোনিক ফ্রিকোয়েন্সি ও ব্যাকপ্রাউন্ড নয়েজ ছিল এ ছাড়া কণ্ঠম্বরের স্বর, ছন্দ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং নয়েজ স্তরের বিশ্লেষণ করেও তারা নিশ্চিত হন যে অডিওটিতে কোনো রকম পরিবর্তন আনা হয়নি। 受 POLICE POLICE POLICE OU6'

অজ্ঞাত একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের ফাঁস হওয়া এই অডিওটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ ফরেনসিক অডিও বিশেষজ্ঞ দল ইয়ারশট এবং বাংলাদেশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি অডিওটি মেটা ডাটা পরীক্ষা করে অবিকৃত এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অডিওটি বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এনটিএমস রেকর্ড করেছিল। তবে অডিওটি কে ফাঁস করেছে, তা নিশ্চিত নয়।

বিবিসির দেখা পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ওই ফোন কলের পরবর্তী দিনগুলোতে সামরিক মানের রাইফেল ঢাকা শহরজুড়ে ব্যবহৃত হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি ও হত্যার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাহিনীর একজন মুখপাত্র ঘটনা স্বীকার করে বিবিসিকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে অপেশাদার আচরণ করেছিলেন।

ওই অডিও রেকর্ডটিকে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন প্রসিকিউটররা।

হাসিনার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার চলছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। শেখ হাসিনার পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডে সাবেক সরকার ও পুলিশের কর্মকর্তাদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইসিটি মোট ২০৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে, যাদের মধ্যে ৭৩ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

May be an image of 2 people and text that says 'তহ্যসূত্র-ই্ফাক তথ্যসূত্র ইত্তেফাক কল রেকর্ডটি বিবিসি উদ্ধার করেনি, করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবযনালের বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা। এটা শুধু ট্রেইলার মাত্র। অনেক কিছু এখনো বাকি। অপেক্ষায় থাকুন। -চিফ প্রসিকিউটর, তাজুল ইসলাম'