• ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ , প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০২৫
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি :  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ , প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ফেনীতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থানে ভেঙে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর থেকে বৃষ্টি কমার সঙ্গে নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। তবে ভাঙন স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করছে ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে বন্ধ রয়েছে যানচলাচল। এতে দুর্যোগে আক্রান্ত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, পরশুরামের ১২টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৯টিসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মোট ২১টি স্থানে ভেঙে গেছে। তারমধ্যে মুহুরী নদীর ১১টি, কহুয়া নদীর ৬টি ও সিলোনিয়া নদীর ৪টি অংশে ভাঙনে ১০০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সময় বাড়ার সঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত ৬ হাজার ৮২৬ জন মানুষ অবস্থান করছেন। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতোমধ্যে ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছে।

ফেনীতে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলছানা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

ফেনীতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, নেই বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক

দুই উপজেলার কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি, মিটার ও ট্রান্সফরমার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ৩১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করছে ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যানচলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  বলেন, জেলায় টানা তিন দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার (৯ জুলাই) রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও জেলাজুড়ে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, রাত ১১টার দিকে নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি কমার পরেই বাঁধ মেরামতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবল চাকমা বলেন, মাঠপর্যায়ে থেকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। উপজেলায় ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ছয় উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

টানা বর্ষণে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলা শহরের সড়ক থেকে গলি, বাড়ি থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হাঁটুপানি জমেছে শহরের অধিকাংশ এলাকায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে সবজিক্ষেত ও আমন বীজতলা।

বুধবার ( ৯ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, শহরের খানজাহান আলী রোড, রেল রোড, সাধনার মোড়, শালতলা, পিটিআই মোড়, খারদার স্কুল রোড, জেলা হাসপাতাল মোড়, জেলা ডাকঘরের সামনে, বাসাবাটি, মিঠাপুকুরপাড় মোড়, পৌরসভার পাশের এলাকা, জাহানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ অনেক জায়গায় হাঁটুপানি জমে আছে।

এ ছাড়া, অনেক দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

সদর ছাড়াও বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, উপকূলের উপজেলা মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল ও মোংলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে ছোট ছোট মাছের ঘের ও পুকুর।

নোয়াখালীতে পানিবন্দি প্রায় ৬৪ হাজার পরিবার, প্রস্তুত ৪৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্র

নোয়াখালীতে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৬৩ হাজার ৮৬০টি পরিবার। জেলায় মোট ৪৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে।

ইতোমধ্যে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৬৮ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি পানিতে ডুবে গেছে গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ।

টানা বৃষ্টিতে জলে আবদ্ধ মাদারীপুরবাসী

মাদারীপুরে টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে শহরের হাজারো মানুষ।

বুধবার (৯ জুলাই) আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মাদারীপুরে ৬৯.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ অবস্থা আরও তিন দিন থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বৃষ্টির কারণে শহরের পুরান বাজার, হামিদ আকন্দ সড়ক, ডা. অখিল বন্ধু সড়ক, শহীদ মানিক সড়ক, মন্টু ভূঁইয়া সড়ক, শহীদ বাচ্চু সড়ক, পাবলিক লাইব্রেরি রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভোগান্তি থেকে বাঁচতে অপ্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। বেশিরভাগ দোকানপাটও বন্ধ ছিল, দেখা গেছে তালাবদ্ধ।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা, যত্রতত্র জলাশয় ভরাট এবং পরিকল্পনাহীন বহুতল ভবন নির্মাণের কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ডুবে যায়। এতে যাত্রী, চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুল আলম জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চলছে।

১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদারীপুর পৌরসভা ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পায়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। কর, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও অন্যান্য খাত থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করে পৌর কর্তৃপক্ষ।

খুলনায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট

খুলনায় গত ৩৬ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নিম্নাঞ্চলে। তলিয়ে গেছে শহরের রাস্তাঘাট। টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোরে ধসে পড়েছে খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি ভবনের রেকর্ড রুমের ছাদ। এতে বৃষ্টির পানিতে রেকর্ড রুমে থাকা শতাধিক বই পানিতে ভিজে গেছে।

গত শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর রয়েলের মোড়, টুটপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, বয়রা, মুজগুন্নি মহাসড়ক, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকা, সোনাডাঙ্গা, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মেইন রোড, খালিশপুর, দৌলতপুর, কুয়েট রোড, ফুলবাড়িগেটসহ নগরীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে পানি জমেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। যানবাহন চলাচলেও চালকরা পড়েছেন দুর্ভোগে।

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে হাজারো পরিবার

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও কলাগাছে ভেলা, কোথাও আবার কক্সশিটে শিশু ও জিনিসপত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন পানিতে আটকেপড়া লোকজন। এতে ভোগান্তিতে হাজারো পরিবার।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টির কারণে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোলের মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজারবাগান, গদাইবিল, মাঠপাড়া, পার-মাছখোলা ও পুরাতন সাতক্ষীরার মতো নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের।

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির নিচু এলাকা প্লাবিত : বন্যা ও পাহাড় ধসের শঙ্কা

খাগড়াছড়ি শহরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জ পাড়া, কালাডেবাসহ বেশ কয়েকটি একটি এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তবে, এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড় ধ্বসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি জেলার মাইনী ও চেঙ্গি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে শত শত পরিবার।

বুধবার (৯ জুলাই) খাগড়াছড়ি শহরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জ পাড়া, কালাডেবাসহ বেশ কয়েকটি একটি এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তবে, এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড় ধ্বসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, ‘শালবাগান, কলাবাগান, সবুজবাগ এলাকায় তিন-চার শতাধিক পরিবার পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। টানা বৃষ্টির কারণে যেকোনো সময় পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের শালবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু প্রাইমারি স্কুলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া যায়।
এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে মেরুং ইউনিয়নের স্টিল সেতু এলাকার সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করে। ডুবে যাওয়া সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ মেরুং বাজার-সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন