• ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইশতেহার ঘোষণায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা যা বললেন

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২৫
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে  ইশতেহার ঘোষণায়  জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা যা বললেন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া ইমাম হাসান তায়েবের ভাই রবিউল আউয়ালের আবেগঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণার সমাবেশ।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ শুরু হয়। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন শহীদ ইমাম হাসানের ভাই রবিউল আউয়াল।

শহীদ ইমাম হাসানের ভাইয়ের বক্তব্য দিয়ে এনসিপির সমাবেশ শুরু

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই জীবনের বিনিময়ে যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আজকের এই সমাবেশ। আমি চাই, আর কোনো ভাই যেন তার আদরের ভাইকে না হারায়, কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াক।’

রোববার (৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য

মুজিববাদী সংবিধান ভেঙেচুরে দিয়ে নতুন সংবিধান চাইতে এসেছি: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, বাহাত্তরের সংবিধান একটা দলের ছিল। যে সংবিধান আরেকটা দেশ থেকে পাস হয়ে এসেছে। এই মুজিববাদী সংবিধান আর বাংলাদেশে থাকতে দিতে পারি না। আমরা আজ এই মঞ্চে মুজিববাদী সংবিধান ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়ে নতুন সংবিধান চাইতে এসেছি।

তিনি বলেন, ৫৪ বছরেও দেশের মানুষ অধিকার পায়নি। আজ থেকে এক বছর আগে আমরা এই শহীদ মিনারে এসেছিলাম। এ দিনে হাসিনার পতনের ডাক এসেছিল। এক বছর হয়ে গেছে আজও আমাদের অধিকার পাইনি। আমরা আর হতাশার কথা শুনতে চাই না।

সারজিস আলম বলেন, আমরা শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার চাইতে এসেছি। আমরা এই সরকারের কাছে মৌলিক সংস্কারের নিশ্চয়তা চেয়েছি। শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহত যোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এখানে এসেছি।

তিনি বলেন, আমাদের লড়াই ২৪ এর না। বিডিআর হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে, ১৩ সালে শাপলা চত্বরে যারা নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের বিচার চাইতে এসেছি। এই বাংলাদেশে যেমন জঙ্গিবাদ মেনে নেব না, তেমনি জঙ্গি নাটক ও মেনে নেব না। এই বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটি নামে সব দালালকে আর মেনে নেব না।

এনসিপির কর্মীদের চোখ রাঙালে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

এনসিপির কর্মীদের কেউ যদি চোখ রাঙায় এবং হুমকি দেয়, তাহলে এখন থেকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণার সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারির কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে এসেছি। এ এক বছর আমরা শুধু কথা বলে গেছি, এখন সময় কাজের। আমাদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দিকনির্দেশনা দেবেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করব। প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকব।

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি, এলাকায় এলাকায় এনসিপির কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এখন থেকে রূপসা থেকে পাথরিয়া—এনসিপির কোনো কর্মীর দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালেও আমরা রাজনৈতিকভাবে তার জবাব দেব। কোনো হুমকি-ধমকিতে আমরা পিছিয়ে যাব না।

এই এনসিপি নেতা আরও বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি—ভয় পাবেন না। এনসিপির আন্দোলন আর আদর্শ কেউ থামাতে পারবে না। আমাদের স্বপ্ন ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক একটি রাষ্ট্র। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।

 

আমরা কারো মধ্যে পার্থক্য করতে চাই না , জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে : আখতার হোসেন

জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে.এই বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিহারী, চাকমা, সাঁওতাল- আমরা কারো মধ্যে পার্থক্য করতে চাই না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জুলাই সনদকে কার্যকর করতে হবে। জুলাই সনদের সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকারকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ এবং জুলাই ঘোষপত্র যাতে বাস্তবায়ন করা হয়, সেজন্য বাংলাদেশের জনগণকে পাহারাদারের ভূমিকায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যুগের পর যুগ ধরে যে বঞ্চনার শিকার হয়ে এসেছে, সেই বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্যই আমাদের শহীদেরা জীবন দিয়েছেন। আমাদের আহতরা এখনো পর্যন্ত তাদের অপূর্ণাঙ্গ দেহ নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই বাংলাদেশে আমরা বিভাজনের রাজনীতি দেখতে চাই না। এই বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বিহারী, চাকমা, সাঁওতাল- আমরা কারো মধ্যে পার্থক্য করতে চাই না।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজনেই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে কোনো দলের কর্তৃত্বের মধ্যে আমরা থাকতে দেব না। বাংলাদেশের সচিবালয়ে যে নীতি নির্ধারণ করা হবে, সেই নীতি যেন জনস্বার্থে হয়, সেটা সততার সাথে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে গিয়েছি। মৌলিক সংস্কারের যতটুকু অর্জন হয়েছে, তার প্রতিটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে, জুলাই সনদের প্রত্যেকটা কথা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নতুন করে গঠন করার জন্য গত বছর এই শহীদ মিনার থেকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন আমাদের আহ্বায়ক। সেই ধারাকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোতে মৌলিক সংস্কারের কথা বলেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোতে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে নাই। আমরা এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মেম্বার পর্যন্ত প্রত্যেক জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ বিগত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় যে একদলীয় কর্তৃত্ব দেখেছে, প্রশাসনে যে দলীয়করণ দেখেছে, সামনের বাংলাদেশে তা আর দেখতে চাই না।