• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৫ আগস্ট ২০২৪ এর রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের দিন নিয়ে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার মিলির স্মৃতিচারণ

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৫
৫ আগস্ট ২০২৪ এর রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের দিন নিয়ে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার মিলির স্মৃতিচারণ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আজ ৫ অগাস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত বছরের দিনের স্মৃতিচারণ করে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন , ৪ আগস্ট রাতের বেলা শুধু এদিক ওদিক করছিলাম, আতংকে ঘুম আসছিলনা। হাসিনা কাল তার মসনদ রক্ষায় কত হাজার প্রাণ নিবে এই চিন্তায় গা কেঁপে উঠছিল।

এর মাঝে রাতের আড়াইটায় আমার বোন ফোন দিয়ে বললো মিলি কালকে কত লোকরে মারবে এই মহিলা। দুজুনে আসন্ন রক্তপাতের কথা চিন্তা করে কান্না করলাম কতক্ষণ। ফজরের নামাজ এর জন্য উঠেও মোবাইলে বার বার চেক করছিলাম যে বের হতে পারবে তোহ সবাই। তখন দেখলাম গাজীপুরের দিক থেকে হাজার হাজার আলেম আর মাদ্রাসা ছাত্ররা মোবাইলের আলো জালিয়ে এগিয়ে আসছে, এ যেন হাজারো আবাবিল। তখনই আমার মাথায় গেঁথে যায় যে হাসিনার পতন অনিবার্য, বাংলার মানুষ আবার স্বাধীনতার স্বাদ পাবে।

সকাল বেলাতেই আমি আমার হাজবেন্ড কে বলি তুমি যাই বলো আজকে আমি যাবোই। ছোট দুটো বাচ্চা নিয়ে বের হতে দিত না। আমার ছেলে অসুস্থ ও ছিল খুব তাই রাস্তায় নামার মতো পরিস্থিতি ছিল না লাস্ট ১০ দিন। আমার হাজবেন্ড বললো আমিও যাবো আজ, তারপর দুজনে গোসল করে নামায পড়ে নিলাম। এ যেন মৃত্যুর প্রস্তুতি। বের হতে যাব আমরা যেখানে লুকিয়ে ছিলাম তা ছিল ২৭ নম্বর মিরপুর মেইন রোডের উপরে। দেখি অগনিত আর্মির সাঁজোয়া যান একটার পর একটা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে সেই গণভবন থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত। বারান্দা দিয়ে ছবি তুলতে গিয়েছি অস্ত্র তাক করলো আমাদের দিকে।

নিরুপায় হয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছি। স্ক্রলে হটাৎ দেখি সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন। আমার ছোট মাথায় বুঝিনি যে এর মানে হাসিনা পালায়ে যাচ্ছে।
সাঁজোয়া যান গুলো ১২:৩০ টার দিকে সরে যাওয়ার পরে আমরা ধানমন্ডিবাসীরা নিচে নেমে আসি। রাস্তা পূরো খালি। গলি থেকে একজন একজন করে উকি দিয়ে আরেকজন কে দেখে সাহস করে মেইন রোড এ উঠছি। ১০ মিনিটের মাঝে রাস্তা লোকে লোকারণ্য। তার মানে সবাই গলিগুলো তে দাড়ায়ে ছিল সাঁজোয়া যান সরার অপেক্ষায়।
আমরা স্লোগান দিতে থাকলাম পালাইসেরে পালাইসে, হাসিনা পালাইসে।
সে কি এক অন্য রকম আনন্দ, স্বাধীন দেশে নিশ্বাস নেওয়া এই অনুভূতি লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।
আমি ওইদিন বলেছিলাম আজ যদি মরেও যাই তাও আমি খুশী। আমি স্বাধীন।