• ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

অর্থ পাচার তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা অর্জনে বিশেষভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৫
অর্থ পাচার তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা অর্জনে বিশেষভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমিসেবা, স্থানীয় সরকারসহ সরকারি বিভিন্ন খাতে সংঘটিত দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ জালিয়াতি, ঘুষ ও কমিশনের অংশ বিদেশে স্থানান্তর করে তারা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পদের পাহাড়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এসব গ্রুপের নামে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৪৬ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড ও ২৯১ মিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব জব্দের উদ্যোগ এসেছে মূলত বাংলাদেশের অনুরোধে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সহযোগিতার ভিত্তিতে। সম্পদ জব্দের পাশাপাশি কয়েকটি দেশে অর্থ পাচারের দায়ে ওই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং সম্পদের মালিকানার বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরই এসব অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, অর্থ পাচার তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা অর্জনে বিশেষভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ‘ফিন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরের আলোচনাও চলছে, যা ভবিষ্যতে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া অনেক সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুদকের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শুরুতে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে বিশদ তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ‘অফশোর কোম্পানি’ খোলার মাধ্যমে অর্থ পাচারের পাশাপাশি ভুয়া ইনভয়েস, ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ভুয়া রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ তদন্তে লন্ডন, টরন্টো, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ, বাড়ি-ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ একাধিক খাতে অর্থ খরচের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি অনেকের নামে বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ ও রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টার তথ্যও এসেছে। একাধিক পাচারকারী পরিবার ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এরই মধ্যে কানাডার ‘স্নো ওয়াশ রুট’ বা ‘স্নো ওয়াশ প্রোগ্রাম’-এর সুবিধা নিয়ে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছে।