শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জন করেছে সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন। আদালত বর্জনের পাশাপাশি আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির আদালতের সামনে অবস্থান এবং বিক্ষোভ করেছেন। বর্তমান সরকারের গত দু’বছরে সুপ্রিমকোর্ট বার আন্দোলন করলেও এটাই ছিল প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জনের প্রথম ঘটনা। আগের দিন বারের পক্ষ থেকে আদালত বর্জন কর্মসূচি দেয়া সকাল সাড়ে ৮ থেকেই প্রধান বিচারপতির এজলাস ও আদালত ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই সকাল ৯টা ৩ মিনিটে আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলেও প্রধান বিচারপতি সরকার সমর্থক আইনজীবীদের নিয়ে আদালতের কার্যক্রম চালিয়েছেন। সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে। এ সময় সরকার সমর্থক আওয়ামী লীগের আইনজীবী এবং এটর্নি জেনারেলসহ অর্ধশতাধিক আইন কর্মকর্তা আদালতে ছিলেন। বিক্ষোভ করার সময়ে আইনজীবীরা বিচার বিভাগের দলীয়করণ, আদালতে পুলিশের উপস্থিতি ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। কর্মসূচির শেষে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আইনজীবীরা সুশৃক্মখলভাবে ধৈর্য সহকারে আদালত বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। মাননীয় প্রধান বিচারপতি পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। আমরা শুনেছি, প্রধান বিচারপতি আদালতে আমাদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। যার নিন্দার ভাষা আমাদের নেই। প্রধান বিচারপতির আচরণ তার আসনকে অপমাণিত করেছে। এরপরও যদি আইনজীবীদের উস্কানি দেয়া হয়, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর দায় দায়িত্ব প্রধান বিচারপতিকেই বহন করতে হবে। আমরা লজ্জিত যে প্রধান বিচারপতি পুলিশ বেষ্টিত অবস্থায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালতে সরকার দলীয় আইনজীবী ও সরকারি আইন কর্মকর্তারা তাদের চাকরি বাঁচাতে আদালতে গিয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে কর্মসূচির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন : এদিকে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে আদালত প্রাঙ্গণে পালিত কর্মসূচিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সুপ্রিমকোর্টের প্রশাসনিক শাখা থেকে গতকাল দুপুরে আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার-১ বদরুল আলম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে,’ আদিষ্ট হয়ে সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আদালত প্রাঙ্গণে বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে, এ ধরনের কোনরকম কর্মসূচি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতেই এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’ আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিমকোর্ট বার, সকল জেলা বার এসোসিয়েশন এবং মুখ্য মহানগর হাকিমকে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হবে।
প্রধান বিচারপতির আদালতের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ : ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার আগে থেকে সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদলের নেতৃত্বে আইনজীবীরা বার ভবনে সভাপতির কক্ষের সামনে জড়ো হন। সকাল ৯টায় আইনজীবীরা মিছিল করতে করতে প্রধান বিচারপতির এজলাসের সামনে গিয়ে থামেন। সেখানে তারা আদালত বর্জনের উদ্দেশ্যে ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতির অনড় সিদ্ধান্তের দ্বারা বেঞ্চ গঠন, হাইকোর্টের মামলার কার্যতালিকায় হস্তক্ষেপ, হাইকোর্টের ফাইলে হস্তক্ষেপ ও আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন বিষয়ে অপমানজনক বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি’ এমন ব্যানার নিয়ে অবস্থান করে বিক্ষোভ ও স্লোগান শুরু করেন। সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, এডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা, এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, এডভোকেট তাজুল ইসলাম, এডভোকেট জামিল আখতার এলাহী, এডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, এডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া, এডভোকেট হুমায়ুন কবির মঞ্জু, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, এডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এমপি, এডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ এবং এডভোকেট জাহানারা বেগমসহ শতাধিক আইনজীবী আদালত বর্জনের সমর্থনে অবস্থান কর্মসূচিতে ছিলেন।
এ সময় তারা আদালতে পুলিশ কেন, প্রধান বিচারপতি জবাব চাই’, ‘আগাম জামিন বন্ধ কেন, প্রধান বিচারপতি জবাব চাই’, আইনজীবীদের অপমান কেন প্রধান বিচারপতি জবাব চাই, সুপ্রিমকোর্টে দলীয়করণ চলবে না চলবে না, বিচার বিভাগে দলীয়করণ চলবে না চলবে না, আইনজীবীদের দাবি এক খায়রুল হকের পদত্যাগ-সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টায় সহকারী এটর্নি জেনারেল তাওহিদা খাতুন রিনা কয়েকবার আসা যাওয়া করলে আইনজীবীরা তাকে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি সাড়া না দিয়ে আগের মতো আসা যাওয়া করলে মহিলা আইনজীবীরা সরিয়ে দিতে যান। কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে থেকে আন্দোলনকারী আইনজীবীদের হুমকি দিয়ে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুনিয়র পরিচয় দিয়ে দেন। এক পর্যায়ে তার হুমকিতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন উপস্থিত আইনজীবীরা। এ সময় সেখানে তাওহিদা খাতুন রিনা সঙ্গে আন্দোলনকারী মহিলা আইনজীবীদের ধস্তাধস্তি ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। পরে বারের সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদলের নেতৃত্বে সিনিয়র আইনজীবীরা তাকে কর্মসূচিস্থল থেকে সরিয়ে প্রধান বিচারপতির আদালতে পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এদিকে বর্জন কর্মসূচি চলাকালেই সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী দলীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক এটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এডভোকেট এম আমিন উদ্দিন, এডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সেক্রেটারি এডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন আইনজীবী প্রধান বিচারপতির এজলাসের কক্ষে প্রবেশ করেন। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আন্দোলনরত আইনজীবীদের এড়াতে পেছনের দরজা দিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন। অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, এমকে রহমান ও মমতাজ উদ্দিন ফকিরসহ অর্ধশতাধিক আইন কর্মকর্তা আদালতে আসেন। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি এজলাসে আসন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। আপিল বিভাগের কার্যতালিকা অনুযায়ী ১ নম্বর আইটেমের শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ সমর্থক এসএম মুনীর। কর্মসূচির কারণে সকাল থেকে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিএমপি রমনা জোনের এডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম জানান, নিয়মিত ডিউটি ছাড়াও আজ অতিরিক্ত ৫ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনকারী আইনজীবীদের হুশিয়ারি : আদালতের সামনে বিক্ষোভ চলাকালেও সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতি আদালতের কার্যক্রম শুরু করেন। আপিল বিভাগের মামলার কার্যতালিকায় শুরু হওয়ার আগেই আইনজীবীদের বর্জন কর্মসূচি ও আন্দোলন নিয়ে কথা ওঠে। আইনজীবীদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আদালত ইচ্ছা করলে তাদের দু’ মিনিটে সরিয়ে দিতে পারে। তবে এ মুহূর্তে তা করছে না। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের বিশৃক্মখলা হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজলাসে উপস্থিত সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আদালত বলে, আইনজীবীরা বারের ভবনে এ ধরনের কর্মসূচি দিতে পারেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের সামনে এ ধরনের বিশৃক্মখলা কেন?। এটা তো ট্রেড ইউনিয়নের মতো হলো। আপনারা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পরেন। এজলাসে উপস্থিত আবদুল বাসেত মজুমদার এসময়ে বলেন সুপ্রিমকোর্ট বারের এ কর্মসূচির নিন্দা জানাচ্ছি।
সাবেক এটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কারণ থাক বা নাই থাক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এম আমীর উল ইসলাম বলেন, বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধান বিচারপতি কি পদক্ষেপ নেবেন তা জনগণকে জানানো উচিত। গতকাল (বুধবার) আমরা প্রধান বিচারপতি সঙ্গে বারের দাবি নিয়ে আলোচনা করলে তিনি আমাদের বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এভাবে কর্মসূচি দিয়ে সমাধান হবে না। আবার সমস্যার সমাধান না করে জিইয়ে রাখাও ঠিক নয়। বারের অভিযোগ থাকলে তাদের প্রধান বিচারপতির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সুপ্রিমকোর্ট বার সভাপতি বক্তব্য : প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করা শেষে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই হাইকোর্ট বিভাগের বিচার কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। যার ফলে সাধারণ আইনজীবী ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের পক্ষে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে মামলার নিত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রধান বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ বিশেষ করে বহু পুরাতন মামলা বিচারের জন্য অপেক্ষমান ২০০৯ ও ২০১০ সালের মামলা বিচারের জন্য পাঠাচ্ছেন। যার অধিকাংশ মামলা রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই নিয়ম করায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবীরা বিচারপ্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে এসব মামলা ডিসমিস ও ডিফল্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এসব মামলা আবার পুনরুজ্জীবিত হবে। তিনি দেখাবেন এসব মামলা নিত্তি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব মামলা নিত্তি হয়নি। প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জনের পর সুপ্রিমকোর্ট বার নতুন করে কি ধরনের আন্দোলনে যেতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের বেঞ্চ গঠনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করব তিনি অন্যান্য দাবি মেনে সুপ্রিমকোর্টে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবেন। যাতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পায় ও আইনজীবীরাও আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।
প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাকে স্মরণ রাখতে হবে সুপ্রিমকোর্টে এক সময় যে ভাংচুর, আমরা সে পথে যাচ্ছি না। যদিও ওই ভাংচুরের জন্য দায়ীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি (প্রধান বিচারপতি) এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধান বিচারপতি নিজেও একজন আইনজীবী ছিলেন এবং তার শ্বশুরও একজন আইনজীবী ছিলেন। তারপরও আইনজীবী পেশার ঐতিহ্য ভুলে তিনি আইনজীবীদের পেশাগত ভূমিকার ব্যাপারে যে অশোভন বক্তব্য রেখেছেন তাতে আইনজীবীরা অপমাণিত বোধ করছে। এ ব্যাপারে তার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে তিনি সারাজীবন ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকবেন। আশাকরি প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের আন্দোলনের বিষয় অনুধাবন করে এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত পদপে নেবেন। যার ফলে সুপ্রিমকোর্টে তাকে অযাথা পুলিশের সাহায্যে অনড় ভূমিকা চালিয়ে যেতে না হয়। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি প্রধান বিচারপতি তার আসনে বসে আন্দোলনরত আইনজীবীদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্যের নিন্দা প্রকাশ করছি।
প্রধান বিচারপতি, প্রধান বিচারপতির আসনে বসে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রধান বিচারপতির আসনকে অপমাণিত করা হয়েছে। আমি এর বিচারের দায়িত্ব আইনজীবী সমাজসহ দেশবাসীর নিকট অর্পণ করলাম। এটর্নি জেনারেলের বক্তব্য : নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি (এবিএম খায়রুল হক) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ৫ম সংশোধনী, স্বাধীনতার ঘোষক, ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির (খালেদা জিয়ার বাড়ি) মামলায় রায় দিয়েছেন বলে একটি মহল তার ওপর নাখোশ। আর এ কারণেই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিশৃক্মখলা সৃষ্টি করছে। সুপ্রিমকোর্ট বারের বর্তমান সভাপতি ওই মহলের ফাঁদে পা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কর্মসূচি ব্যর্থ। আদালতের হুঁশিয়ারি সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আইনে রয়েছে। হাইকোর্টের একটি রায়ে আদালতে আন্দোলন, মিছিল বা কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হলেও বিশৃক্মখলা থেমে নেই। কিন্তু বার ও বেঞ্চের সুসম্পর্কেও স্বার্থে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, হাইকোর্ট কোন মামলার শুনানি হবে, কোনটি কার্যতালিকায় থাকবে, সেটা নির্ধারণ করে দেয়ার এখতিয়ার প্রধান বিচারপতির রয়েছে। সংবিধান তাকে এ এখতিয়ার দিয়েছে। কোনো কারণে আইনজীবীদের অসুবিধা হলে তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। সেটা না করে তারা বিশৃক্মখলার কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত হাইকোর্টের মামলার কার্যতালিকায় হস্তক্ষেপ, জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের মোশন বেঞ্চ না দেয়া এবং আইনজীবীদের নিয়ে অপমানকর বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে গত বুধবার প্রধান বিচারপতির আদালত বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করে সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আদালত বর্জন করা হবে বলে সুপ্রিমকোর্ট বারের জরুরি সভা থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। আ’লীগপন্থী আইনজীবীদের সমাবেশ : দুপুরে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের এক জরুরি সভায় আদালত অঙ্গনকে উত্তপ্ত করার জন্য বার সভাপতিকে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বারের বার্ষিক ভোজ বর্জনের হুমকি দেন তারা। সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনের দক্ষিণ হলে অনুষ্ঠিত সভায় সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক এবং বারের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ। আমীর-উল ইসলাম বিরোধী দলীয় আইনজীবীদের কর্মসূচিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে বলেন, বার সভাপতি নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতির সাথে সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা না করে আদালত প্রাঙ্গণকে উত্তপ্ত করে তুলেছেন। যা সংবিধান পরিপন্থী ও বেআইনি। আগামী রোববারের মধ্যে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের বেঞ্চ পুনর্গঠন এবং আগাম জামিনের বিষয়ে সুরাহা করবেন বলে তিনি আইনজীবীদের আশ্বাস দেন।