বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে ভারতীয় দালালদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখতে হবে। বিএনপিতে বেঈমানদের কোন স্থান নেই। আজ জিয়ার আদর্শ হত্যার চেষ্টা চলছে। জিয়ার নাম শুনলে যাদের গাঁয়ে আগুন জ্বলে তারাই এই ষড়যন্ত্র করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিক দলের সভাপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; এ সময় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম চৌধুরী প্রমুখ।
মির্জা আববাস বলেন, জিয়ার নাম শুনলে যাদের শরীরে আগুন জ্বলে তারাই জিয়ার আদর্শ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে না আসলে তারা রাজনীতি করার সুযোগ পেত না। তাহের হত্যার জন্য জিয়ার মরণোত্তর বিচার নয় বরং যারা সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল তাদের বিচার হওয়া উচিত। মীর জাফরদের ঘৃণা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপিতে বেঈমানদের কোন স্থান নেই। শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে জিয়া গর্ববোধ করতেন। আজ জিয়ার আদর্শ ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
সীমান্তে পাখির মত ফেলানিদের হত্যা করা হচ্ছে। জিয়াউর রহমান থাকলে সীমান্তে মানুষ হত্যা করতে ভারত সাহস পেতো না। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে ভারতীয় দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে দেশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে যাবে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকরা তাদের আন্দোলনের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে জিয়ার আদর্শ ধারণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের কষাখাতে আজ শ্রমিকরা নির্যাতিত। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। সরকারের বিদায় নিশ্চিত করতে দরকার শ্রমিক আন্দোলন। তারা যত আগে বিদায় নেয় ততই দেশের জন্য কল্যাণ। শেয়ার বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৯৬ সালেও আওয়ামী লীগ পুঁজিবাজার থেকে টাকা লুট করেছিল। তাদের বিচার হয়নি। এখন আবার তারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। তাদের হাতে দেশের পুঁজিবাজার নিরাপদ নয়। এ সকল লুটদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট চুরির চেষ্টা করছে। বিএনপি সেনা মোতায়েনের দাবি করলেও ভোট কারচুপি করার জন্যই সেনা দেয়া হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল কায়েমের চেষ্টা করছে। আজ সীমান্তে ফেলানিদের হত্যা এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করলেও নতজানু সরকার তার প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। ট্রানজিটের নামে দেশের মানুষের উপর ঋণ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আজ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে তা সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। আওয়ামী লীগের হাতে দেশের গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। তাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।