• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬৭ জনের অধিকাংশের মাথার খুলি ছিল না : জবানবন্দিতে চিকিৎসক

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৫
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬৭ জনের অধিকাংশের মাথার খুলি ছিল না : জবানবন্দিতে চিকিৎসক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমানসহ চারজন।

অন্য সাক্ষীরা হলেন- নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন, নিহত মেহেদী হাসান জুনায়েদের মা সোনিয়া জামাল ও শ্যামলী ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হানানুল বান্না।

সাক্ষীর জবানবন্দিতে চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা গুরুতর আহত ১৬৭ জনের বেশির ভাগের মাথার খুলি ছিল না। এসময় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ চারজনের দৃশ্যমান ফাঁসি ও বিচার দাবি করেন তিনি।

ফাঁসি চাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বুধবার ষষ্ঠ দিনে ৮১ জনের মধ্যে মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন। আগামী রোববার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা দেওয়ায় ডিবি পুলিশের হুমকি পেয়েছেন বলেও জবানবন্দিতে তুলে ধরেন ১৩তম সাক্ষী ডা. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লোকেরা আমাদের হাসপাতালে আসেন। ওই সময় নতুন গুলিবিদ্ধদের ভর্তি না করার জন্য তারা চাপ দেন। ‘ডিবির সদস্যরা বলেন, আপনি অতি উৎসাহী হবেন না। আপনি বিপদে পড়বেন। যাদের ভর্তি করেছেন, তাদের রিলিজ দেবেন না। এ বিষয়ে ওপরের নির্দেশ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তখন আমরা ভর্তি রেজিস্টারে রোগীদের জখমের ধরন পরিবর্তন করে গুলিবিদ্ধের স্থলে সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণ লিপিবদ্ধ করি।

সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে গুলি ও পিলেটবিদ্ধ ৫৭৫ রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আউটডোর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর গুরুতর আহত ১৬৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যাদের অধিকাংশই মাথার খুলি ছিল না। চারজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং ২৯ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়া সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।

জবানবন্দিতে ওই চিকিৎসক বলেন, ৩৩টি অস্ত্রোপচার আমার নেতৃত্বে করেছি। অনেকগুলো বুলেট ও পিলেট আহত আন্দোলনকারীদের শরীর থেকে বের করেছি। কিছু বুলেট বের করা যায়নি। অনেকগুলো গুলি ও পিলেট রোগীরা চেয়ে নিয়ে যায়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।