১৯৮৫ – বাংলাদেশে গণভোট হয়।
পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিসহ সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি সমাধানের জন্য সাহস থাকলে গণভোট করেন। জনগণ তাঁদের রায় দেবেন। আপনারা কেউ মানেন , কেউ মানেন না। আবার কেউ লেলিয়ে দেন দালালদের। সমাধান চাইলে গণভোট দেন। কারণ কোন রাজনৌতিক সমর্থক ছাড়াও কয়েক কোটি জনগণ তাদের মতামতের জন্য কাউকে ইজারা দেয়া নাই। যে কোন নাগরিক প্রশ্ন করতে পারবে – আমি কি আমার মতামত দিয়েছি।
গণভোট নতুন শব্দ না, জিয়ার আমলে গণভোট হলে এখন সমস্যা কোথায়?
বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আওয়ামী লীগের অপরাজনীতি চলবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।
অর্ন্তবর্ত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন বোধ হলে আপনারা একটা গণভোট দেন। গণভোট তো নতুন কোনো শব্দ নয়। জিয়াউর রহমানের সময় কি গণভোট হয় নাই? এখন করলে আপত্তিটা কোথা থেকে আসে? বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দেয় নাই। এই গণভোটের মাধ্যমে এই ভোট দেওয়ার চর্চাটাও করে আসি। ভোট কি করে দিতে হয় তাই তো ভুলে গেছি। গণভোটটা দিতে গিয়ে সিদ্ধান্ত হোক, তারপর জাতীয় নির্বাচন দেন কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা না।
১৭ আগস্ট ঢাকার রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র এবং জুলাই জাতীয় সনদ-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব বলেন তিনি।
পিআর পদ্ধতিতে কোয়ালিটি সম্পন্ন পার্লামেন্ট গঠিত হয়
নতুন বাংলাদেশ গঠনে এরইমধ্যে জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরপর তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে কমিশন। তবে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতিসহ সংবিধান পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।
বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি চায়। পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি, পিআর পদ্ধতি চালু হলে জনগনের ক্ষমতায়ন হবে। এর ফলে দুর্নীতি কমবে।
দলটির নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া ভালো নির্বাচন হবে না। ফলে আমরা যতদূর সম্ভব তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। সর্বশক্তি দিয়ে সে চেষ্টা করবে জামায়াত।
দলটির আরেক নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এরইমধ্যে উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা উচ্চকক্ষের পাশাপাশি নিম্নকক্ষেও পিআর পদ্ধতি চাই। কারণ নিম্নকক্ষে না হয়ে উচ্চকক্ষে পিআর হলে এর তেমন প্রভাব থাকবে না।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, গণঅভুত্থানের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু আছে। পিআরের আবার ছয়টি সিস্টেম আছে। আমরা বলেছি বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং জনমানুষের আর্থ-সামাজিকের উপযোগী করে যে পদ্ধতিটা এপ্লিকেবল সে পদ্ধতি এখানে চালু করতে হবে। কিন্তু এর মূল ধারণা হচ্ছে নির্বাচনের প্রার্থী দল হয়, কোনো ব্যক্তি নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর আদর্শ, চরিত্র এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা কীভাবে দেশটাকে গড়বে এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে জনগণ দলকে ভোট দেবে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে জামায়াতে ইসলামী নড়াইল জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতাকর্মীদের করণীয় শীর্ষক ‘লিডারশিপ ট্রেনিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না করার বিষয়ে বিএনপির অনড় অবস্থান নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি অনড় হতে পারে, আমরাও তো অনড়। আমাদের পিআর দিতে হবে। অনেকে বলে পিআর না দিলে কী করবেন। যখন দেবে না তখন সেটার বিষয়ে কথা বলবো। বিএনপির এক নেতা বলেছেন, ‘ইভিএমও এদেশের মানুষ বুঝে না, পিআরও বুঝে না।’ এটা একটা আজব ব্যাপার, ইভিএম হলো একটি মেশিনের নাম। এটা ভোট দেওয়ার একটা পদ্ধতি। আর পিআর হলো একটা ইলেকশন সিস্টেম। পিআরের সাথে মেশিনের তুলনা করা ঠিক নয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাঙালি কী এত বোকা? সবসময় হাইকোর্ট দেখালে কী হয়? এ কারণে আমরা বলি কে অনড় থাকলো আর থাকলো না তাতে আসে যায় না। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছি। কেয়ারটেকারও আমাদের দাবি এক সময় মানতে চায়নি। অনেকে বলেছেন- না, এটা হয় না। কেউ কী নিরপেক্ষ হয়? কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেয়ারটেকারও মানতে বাধ্য হয়েছে। এই জাতি পিআর পদ্ধতিও গ্রহণ করবে। আমরা যে দাবি দিয়েছি এটার ওপর অনড় আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর পদ্ধতিতে তিন থেকে চারটি লাভ। এই সিস্টেমে ব্যক্তি নয়, দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। ফলে ব্যক্তির স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থটা বড় হয়ে দাঁড়ায়। তখন ভোট নেওয়ার ব্যাপারে কালো টাকা, পেশীশক্তি, মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হয়। কোনো দল টোটাল কাস্টিং ভোটের এক পারসেন্টও যদি পায় তাহলে তিনশ-এর মধ্যে এক পারসেন্ট মানে তারা ৩টি আসন বা ৩টি সিট পাবে। কোনো দল যদি ত্রিশ পারসেন্ট ভোট পায় তাহলে ওই দল ৯০টা সিট পাবে। এভাবে দলগুলোর মধ্যে সিট ভাগ করা হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্বাচনের আগে তিনশত জনের একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে। কোনো দল ৩০টি সিট পেলে এই তালিকার প্রথম ত্রিশ জনকে এমপি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তাহলে এখানে ব্যক্তি স্বার্থ থাকলো না, দলের স্বার্থ হয়ে গেল। কালো টাকা, পেশীশক্তি, মনোনয়ন বাণিজ্যের খেলা আর চলবে না। এ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি ভোটারের ভোটের মূল্যায়ন হবে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১০ দল : পিআর পদ্ধতিতে ভোট ঐকমত্য না হলে গণভোট
২৯ জুন ২০২৫,
সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দাবি করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। গতকাল রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সমাবেশে ১০ রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অংশ নেয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের বিশ্বাস ও আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। এই সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে। আজ দরকার রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। জুলাই অভ্যুত্থান শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের জন্য ছিল না, এটি ছিল একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আন্দোলন। তিনি বলেন, ২৪’র জুলাইয়ের ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না করে নির্বাচন করা চলবে না। গণহত্যা, গুম, লুটপাটের জন্য ফ্যাসিস্ট চক্রের কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না।
নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে তিনি বলেন, যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তাদের তত আসন থাকতে হবে। এটি জনগণের, জেনজি প্রজন্মের এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের যৌক্তিক দাবি। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে। চরমোনাই পীর বলেন, বারবার রক্ত দিয়েছি, কিন্তু সফলতা পাইনি, কারণ ভুল নেতা ও নীতির হাতে দেশ তুলে দিয়েছি। এবার ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সময় এসেছে। এক বাক্সে ভোট নিলে ইসলামপন্থিরাই হবে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল এই অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা নিঃস্বার্থভাবে এই সরকারের পাশে আছি। তবে সরকার যেন সংস্কার ও নিরপেক্ষতার পথ থেকে বিচ্যুৎ না হয়।
রেজাউল করীম বলেন, দুর্নীতি থেকে মুক্তি ও সুশাসনের জন্য এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান ঘটেছে। আর সময় নেই রাষ্ট্র সংস্কার এখনই করতে হবে। সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলছি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ ‘জালেম’ হবে না। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। পতিত সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার করেছে, নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই, অবশ্যই বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে দেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি আসবে। আমরা অতীতে নেতা নির্বাচনে ভুল করেছি। এবার ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু ইসলামপন্থি নয়, দেশপ্রেমিক সকল দলকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে একটি শক্তিশালী জোট হতে পারে। গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারে অনেকে গড়িমসি করছেন, এটা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এই অবস্থায় সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য না হলে গণভোট আয়োজন করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্বে আপনারা থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ্ থাকবো। কিন্তু আমরা আর পুরনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বহাল থাকতে দেবো না। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবো।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আহ্বানে ভেদাভেদ ভুলে সকল ইসলামিক দল এক হয়েছে। তার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে বার্তা হচ্ছে পিআর পদ্ধতি ছাড়া জনগণ নির্বাচন মেনে নিবে না। নির্বাচনের পূর্বে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ছাত্র-জনতার রক্ত আমরা ব্যর্থ হতে দেবো না। আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতার প্রমাণ নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ সময় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করতে হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা জন্ম দিতে চাই না। জুলাই সনদ ৫ই আগস্টের পূর্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় ঐকবদ্ধতার মধ্যদিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করবো।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এ মঞ্চে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাবেশ শুধু একটা দলের দেখেছেন সামনে আরও অনেক দল করবে। সংস্কার কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দু’-একটি দলের উপর ভিত্তি করে সংস্কারের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা যাবে না। দু’-একটা দলকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুঃসাহস দেখাবেন না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ সরকারের অধীনে দিতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, হাজার হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছে পূর্বের সিস্টেমের পরিবর্তনের জন্য। নতুন বাংলাদেশ কোনো টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের জায়গা হবে না। উচ্চ কক্ষের নির্বাচনে পিআর পদ্ধতিতে প্রায় সকল দল একমত হয়েছে। কিন্তু একটি দলের আপত্তির কারণে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পেশি শক্তির বলে জোর-জবরদস্তি করে নির্বাচনে জয়ের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। কোনো শক্তি বাংলাদেশের সংস্কারে আন্দোলন দাবায় রাখতে পারবে না। এ সময় তিনি পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ইসলামী আন্দোলন আমাদের অন্যতম সহযোদ্ধা, কে কি বলেছে তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তত্যাগ ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চললে কোনো বিদেশি এজেন্টদের চক্রান্ত আমাদের কিছু করতে পারবে না।
২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামী বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না। মাদ্রাসার ছাত্রদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানে মাদ্রাসার ছাত্র ভাইদেরকে পাঞ্জাবি, টুপি দেখে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। আগামীর বাংলাদেশে তারা যেন টার্গেট কিলিং-এর শিকার না হয় সে জন্য সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হবে। জনগণের প্রতিনিধিত্বে পিআরের বিকল্প নেই। তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে সবাইকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন চাই, বিএনপি কেন মানছে না। বিএনপি তো বলেছেন আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। আর জাতীয় সরকার গঠনের জন্য ভালো সিস্টেম হলো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। জাতীয় সরকার হবে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক সরকার। সকল দলের অংশগ্রহণে একমাত্র পিআর সিস্টেমে সরকার গঠন করতে পারে।
এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের নানা রকমের মাজহাব আছে, নানা তরিকা ও নানা সংস্কৃতি আছে। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার একত্মবাদের ক্ষেত্রে এবং ইসলামে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন চান পিআর মানেন না, নির্বাচন চান স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক মানেন না কেন? আমরা এই টালবাহানা চলতে দিতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কারের মধ্যদিয়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন চায়। যতবার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রত্যেক গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং সংবিধান পরিবর্তন ও সংস্কার করেই নির্বাচন দিতে হবে।
সংবিধানে ‘গণভোট’ ফেরানোর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
০৯ জুলাই, ২০২৫
গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে এক যুগ আগে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে যে পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল, তার কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই রায় প্রকাশ করা হয়।
রায়ে আদালত বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের ৫৮ক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিল ঘোষণা করা হলো।
রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে ধারা দুটি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তবে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি সামগ্রিকভাবে বাতিল করা হয়নি।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী দুটি রিট নিষ্পত্তি করে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এই রায় দেন। ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
গণভোটের বিধান নিয়ে রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রকাশের ইচ্ছাকে অস্বীকার করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনমত বা জন-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১-এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো।
পঞ্চদশ সংশোধনীর ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং চিন্তার স্বাধীনতা, অভিব্যক্তিকে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দেয় সংবিধান।
কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে ৭ক ও ৭খ উপ-অনুচ্ছেদ যুক্ত করে সেই নিশ্চয়তাকে খর্ব করা হয়েছে, যা ৭ অনুচ্ছেদের বিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চরম সংবিধানবিরোধী। এ কারণে ৭ অনুচ্ছেদ থেকে ৭ক ও ৭খ উপ-অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হলো।
হাইকোর্টের ক্ষমতাসংক্রান্ত ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে আদালত রায়ে বলেন, সংবিধান নিয়ে নির্বাহী বিভাগ এমনকি আইনসভার অপ্রীতিকর পদক্ষেপের বিচারিক পর্যালোচনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে স্পর্শ করে এমন সংশোধন বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতাও হাইকোর্টের রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।
রায়ে আদালত বলেছেন, আইনসভা (সংসদ) পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে ২ উপ-অনুচ্ছেদ যুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগের কথিত ক্ষমতা অধস্তন আদালত দ্বারা প্রয়োগ করার অনুমতি দিয়েছিল। সুতরাং, এটি সংবিধানের ৪৪(১) ও ১০২(১) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হল।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে ‘গণভোটের’ বিধান বাদ দিয়েছিল। এই গণভোটের বিধান বাদ দেওয়াকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে। এর ফলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়; সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান সংযোজন করা হয়।
এসব সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য আবেদনকারীরা হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গত বছর ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ কেন অসাংবিধানিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পরে এই রুল সমর্থন করে সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) হিসেবে যুক্ত হন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল হিসেবে যুক্ত করা হয় গণফোরাম ও ইনসানিয়াত বিপ্লব নামের একটি রাজনৈতিক দলকে। এ ছাড়া মোফাজ্জল হোসেন নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। দুটি রিটে একসঙ্গে রায় দেন উচ্চ আদালত।
পঞ্চদশ সংশোধনী গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে : রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘সংবিধান হচ্ছে একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্য সব আইনই সংবিধানের নিরিখে হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। যেকোনো আইনের বৈধতা-অবৈধতা নিরূপণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে। উচ্চ আদালত বলেছেন, ‘সংবিধান কেবল অতীত ও বর্তমানকে নিরূপণ করে না, এটা ভবিষ্যতেরও দিশারি। একইভাবে সংবিধান কেবল একটি দালিলিক বিষয় নয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সংবিধান একটি জাতির ভিত্তি এবং মৌলিক নির্দেশকও। একই সঙ্গে তা বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল।’
পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক ও আইনগত পরিবর্তন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অনুযায়ী করতে হবে। সে জন্য আইন বিভাগকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর মাধ্যমে আইন বিভাগ বা সংসদের ক্ষমতাকে সীমিত করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনী আপিল বিভাগের ত্রয়োদশ সংশোধনীর সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একমাত্র গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাব এবং মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা যায়। গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। গণতন্ত্র বিকশিত হয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মূল সংবিধানে না থাকলেও একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের অভিপ্রায়ে ১৯৯৬ সালে তা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে এই ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোরই অংশে পরিণত হয়েছে। কারণ এই ব্যবস্থা বিলুপ্তির পর বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) জনগণের আস্থার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।’
এই তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো, নির্বাচনী ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের আস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন উচ্চ আদালত। আর ধ্বংসের পরিণতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘যে কারণে সর্বশেষ সরকারকে জনগণের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হতে হয়েছে। সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটি নতুন গণতন্ত্র, নতুন স্বাধীনতা, নতুন বাংলাদেশ, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। পঞ্চদশ সংশোধনী জনগণের এসব আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’