• ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

১০০ দিনে আমরা ১,০০০ যানে হামলা চালিয়েছি, ফলে এসব যান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে : হামাসের মুখপাত্র

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৪
১০০ দিনে আমরা ১,০০০ যানে হামলা চালিয়েছি,  ফলে এসব যান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে : হামাসের  মুখপাত্র
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, তারা এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় শত শত ইসরাইলি সামরিক যান ধ্বংস কিংবা অচল করে দিয়েছে। হামাসের সামরিক বাহিনী আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দা রোববার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অডিও বার্তায় একথা জানান।

তিনি বলেন, “উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল দিয়ে গাজা উপত্যকায় যেসব ইসরাইলি সামরিক যান ঢুকেছিল সেগুলোর মধ্যে গত ১০০ দিনে আমরা ১,০০০ যানে হামলা চালিয়েছি। ফলে এসব যান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।”

গত ১০০ দিনে গাজা উপত্যকায় হামাস ‘শত শত সফল অভিযান চালিয়েছে’ বলে জানান আবু উবায়দা। তিনি বলেন, দখলদার সেনাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধের পরিধি দিন দিন বাড়ছে এবং সে যুদ্ধের আগুনে শত্রু বাহিনী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা জ্বলেপুড়ে মরছে।

গাজা আগ্রাসনে ইসরাইলি বাহিনী এ পর্যন্ত যেসব সাফল্য অর্জনের দাবি করেছে তা নাকচ করে দেন হামাসের এই সামরিক মুখপাত্র। তিনি বলেন, “ইহুদিবাদীরা আমাদের অস্ত্রাগার, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্ল্যাটফর্ম ও বহু কিলোমিটার টানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা অথবা ধ্বংস করার যে দাবি করছে তা হাস্যকর। এমন একদিন আসবে যেদিন এসব দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হবে।”

গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দখলদার শক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন আবু উবায়দা। তিনি বলেন, “ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার কোনো অর্থ হয় না।”

অডিও বার্তার অন্যত্র হামাসের মুখপাত্র তাদের হাতে আটক ইসরাইলি বন্দিদের প্রতিও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, “ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে বহু ইহুদিবাদী বন্দির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের অনেকেই নিহত হয়েছে।” তিনি বলেন, “বাকিদের জীবনও প্রতি মুহূর্তে ইসরাইলি আগ্রাসনের সামনে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। আর তাদের ভাগ্যে যা কিছু ঘটছে তার পুরো দায় দখলদার শক্তিকে নিতে হবে।”

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর আল আকসা তুফান অভিযান শুরুর একশত দিন পেরিয়ে গেছে। গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর ক্রমাগত অপরাধ এবং অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসাবে “আল-আকসা তুফান” অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের ভৌগোলিক ব্যাপ্তি এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র দলগুলোর ব্যাপক উপস্থিতির দিক থেকে এটি অনন্য ছিল। প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলোর অভিনব উদ্যোগ এবং অভিযানে নতুন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা ইসরাইলি সরকারকে অবাক করে দিয়েছিল।

আল-আকসা তুফান অভিযানের প্রথম দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা সরকারের সমর্থনে এবং এমনকি তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রতিরোধকামী শক্তির মোকাবেলায় অসহায়ত্বের কারণে ইসরাইল তার নিজের পক্ষে ভারসাম্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু গাজা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও হামাস এবং “আল-কাসাম ব্রিগেড সহ প্রতিরোধের সঙ্গে জড়িত সামরিক শাখাগুলোর বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

অবশেষে, ইসরাইল গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের শক্তিশালী অবস্থান এবং ইহুদিবাদীদের অসহায়ত্ব ও অক্ষমতার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যিনি গাজা যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে একটি দ্রুত এবং সহজ বিজয় এমনকি “হামাস” ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলন কিন্তু এখন ৃইসরাইলের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যুদ্ধ শেষ করতে তিনি অক্ষমতা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তিনি হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সমঝোতা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ  করার ক্ষেত্রে ইহুদিবাদীদের স্বাভাবিক আচরণের প্রতি ইঙ্গিত দেয়।

“আল-আকসা তুফান অভিযানের পরিণতি কেবলমাত্র অধিকৃত অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং বিস্ময়কার এ অভিযান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে। লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইয়েমেনি প্রতিরোধ বাহিনীর দখলকৃত অঞ্চলের দিকে ইসরাইলি জাহাজের চলাচলে বাধা দেয়ার মাধ্যমে পশ্চিমাদের ক্রমাগত জোটের মোকাবেলা করার জন্য এই অঞ্চলের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির প্রস্তুতির দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের সেনা কর্মকর্তারা লোহিত সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্রদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে যে ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং ইয়েমেনের ওপর ইঙ্গো মার্কিন হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত।

“আল-আকসা” অভিযানের পরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হচ্ছে হোয়াইট হাউসে ইহুদিবাদী শাসক এবং তার মিত্রদের অসম্মান। সাম্প্রতিক দিন এবং সপ্তাহে নিয়মিত এবং বিনা বাধায় বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণ ইউরোপ এবং আমেরিকার প্রধান শহরগুলোতে বড় বড় সমাবেশের আয়োজন করে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেছে। নিঃসন্দেহে গাজায় ইহুদিবাদীদের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তাদের স্বীকারুক্তি ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীদের সংগ্রামের ফল।