• ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগের হামলা, ব্যবস্থা নিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৫
কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগের হামলা, ব্যবস্থা নিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিস, মেয়র ও স্থানীয় পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এই চিঠি দিয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গত রোববার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রায় দেড় শতাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অনুরোধে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতবিনিময় সভাটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকেল ৫টা থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেন। তারা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা আগত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেন। তারা আরও নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করেন। যার অংশ হিসেবে তারা অতিথিদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপ করেন।
অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কনস্যুলেটের প্রবেশপথের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি অফিসের (একই ভবনের) কাচের দরজায় আঘাত করেন উল্লেখ করে জানায়, এতে দরজায় ফাটল ধরে। পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয়। কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতকারীদের এই ন্যক্কারজনক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা এই ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেটের চারদিকে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেটে গাড়িযোগে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত পথে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও রাতের খাবার শেষে প্রধান অতিথি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া নির্ধারিত গাড়িতে তার গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি চলে যাওয়ার পর পুলিশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে কনস্যুলেট জেনারেল ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশ, মেয়র ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে পত্র দিয়েছে।
প্রধান অতিথির অনুষ্ঠানে আগমন কিংবা প্রস্থানের সময় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সাক্ষাৎ বা দূরতম কোনো সংযোগ কিংবা সংশ্লেষ ঘটেনি বলেও জানায় কনস্যুলেট জেনারেল। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে পারেনি। এই কাজে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নানাবিধ অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তারা। এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছে কনস্যুলেট জেনারেল।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলাকারীদের কী সাজা হতে পারে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে হামলার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। এ ঘটনার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত রোববার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কে কনস্যুলেট ভবনে এক অনুষ্ঠান চলাকালে আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী সেখানে হামলা চালান। এ সময় তারা কনস্যুলেট অফিসে ভাঙচুরও করেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কাছে ভিডিও ও ছবিসহ প্রমাণ জমা দিয়েছে। এনওয়াইপিডি কয়েকজনকে আটক করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক প্রশাসন কী ধরনের শাস্তি দিতে পারে?

হামলাকারীদের সম্ভাব্য শাস্তি

মার্কিন আইন অনুসারে কনস্যুলেট বা দূতাবাসে হামলা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কনস্যুলেট ভবন একটি কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যা সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। তাই এখানে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল।

নিউইয়র্ক প্রশাসন কয়েক ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে—

ফেডারেল অপরাধ হিসেবে মামলা : যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস/কনস্যুলেটের ওপর হামলা ফেডারেল ক্রাইম হিসেবে বিবেচিত হয়। 18 U.S. Code § 970 অনুযায়ী, কোনো বিদেশি কূটনৈতিক ভবন বা এর ভেতরে সহিংসতা চালালে ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

হামলায় অস্ত্র ব্যবহৃত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

ফৌজদারি মামলা : হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অনধিকার প্রবেশ, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার অভিযোগ আনা হতে পারে। এসব অভিযোগে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরের জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও দণ্ড : হামলাকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার, জামিনে সীমাবদ্ধতা, কিংবা সরাসরি দণ্ডাদেশ হতে পারে।

এছাড়াও হামলাকারী যদি মার্কিন নাগরিক না হয় তবে সাজার পর তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে। আবার কখনো কখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে নিন্দা জানায়, যা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।