• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিজের কথা কখনো ভাবার ফুরসত পাননি শহীদ মনির

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৫
নিজের কথা কখনো ভাবার ফুরসত পাননি  শহীদ  মনির
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মোহাম্মদ মনির হোসাইন ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। কিন্তু হলে কী হবে, তার বাবা শাহাজাহান ফরাজী প্রতিবন্ধী স্ত্রী মিনারা বেগমের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে পরিবার ছেড়েই চলে যান। এরপর পরিবারের সব দায়িত্বভার এসে পড়ে মনিরের ওপর। ছোটভাই এলাকার বখাটেদের পাল্লায় পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে গোল্লায় গেছে। বিরল এক রোগে আক্রান্ত মনিরের মা। মাথার রগ ছিঁড়ে গেছে। ছোট বোনের মাকে দেখভাল করতেই সময় যায়। পরিবারের এ করুণ অবস্থা দেখে মনির বসে থাকতে পারেন না। কারণ পরিবারে আর্থিক সহায়তা করার কেউ ছিল না।

নিজের কথা কখনো ভাবার ফুরসত পাননি মনির

অথচ রাজধানীর একটি পলিটেকনিক কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন মনির। ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবেন কিন্তু অর্থসঙ্কটের কারণে তাকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়। তার শৈশব কেটেছিল গ্রামের নির্মল বাতাসে। মনটাও ছিল নির্মল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার কয়রতখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় খিলবাড়ির টেক, অটোস্ট্যান্ড, ভাটারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। কিন্তু একটার পর একটা অঘটন তার পরিবারকে ঘিরে ধরায় একাই লড়াকু হয়ে ওঠেন মনির।

পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখতে শেষ পর্যন্ত মনির একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। তার আয়ে সংসার চললেও মায়ের চিকিৎসা করার সামর্থ্য তার ছিল না। জীবদ্দশায় কখনো কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হননি। সবসময় সৎপথে থাকার চেষ্টা করেছেন। অমায়িক ব্যবহারের মনির কারো সাথে বিবাদে লিপ্ত হননি।

জুলাই বিপ্লবের তিনি ছিলেন এক সাহসী যোদ্ধা। হাসতে হাসতে শামিল হন মৃত্যুর মিছিলে। সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন পরিবার, অন্য কারো জন্য বা দেশের জন্য। কখনো নিজের কথা ভাবেননি। দেশের স্বার্থে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ১৯ জুলাই ২০২৪ স্বৈরাচারের নির্মমতার স্বীকার হন। সে দিন শাহজাদপুরের বাটার গলির সামনে আন্দোলনকারীদের সাথে অবস্থান নেন তিনি। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হন। গুলি তার পেটের এক পাশে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন তার মতো আরো অনেকেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছিল। উদ্ধার করার মতো কেউ ছিল না। চারদিকে টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। সবাই পানি পানি বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এক ফোঁটা পানি দেয়ার মতো কেউ ছিল না সেখানে। পুলিশ আশপাশের উঁচু ভবনের ওপর থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ও গুলি নিক্ষেপ করছিল। সেখানে পড়ে ছিল মনিরের নিথর দেহটি।