রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিনের সকল কার্যক্রম শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পণ্ড করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় নেতাকর্মীরা রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা মেরে বিক্ষোভ করেন।
রোববার সকালে রাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নেতৃত্বে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম ভেস্তে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর করা হয় চেয়ার-টেবিল। এরপর নির্বাচন কমিশন অফিসে তালা লাগিয়ে অবস্থান শুরু করেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে শাখা ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হন। আম্মার নিজেও তালা মারা গেটের সামনে অবস্থান করছেন। এসময় বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা এসে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই মূলত কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছি। তারা আমাদের দাবি মানছেই না। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা রাকসুর ফি দিয়েছে। কিন্তু তারা ভোটার হতে পারছে না। আমরা এই বৈষম্য নিরসন করেই কর্মসূচি শেষ করব।’
তাদের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ইউট্যাব রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখানে ছাত্রদল এই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। আমরা তাদের দাবিতে সংহতি জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, আমরা দুই পক্ষকেই বলেছি, তারা যেন সহনশীল থেকে যেকোনো কর্মসূচি পালন করে। আলোচনা করে দুপক্ষের সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মনোনয়ন কার্যক্রম পণ্ড করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমি আসলে ভিডিওটি দেখার সুযোগ পাইনি। আমরা বারবার বলেছি, কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে সেটা নিয়ে দাবি জানাতেই পারে। কিন্তু নির্বাচন কার্যক্রম কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়, আমরা সে বিষয়ে চেষ্টা করছি।’
ভাঙচুরের বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।’
উল্লেখ্য, পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী রাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর। আজ রোববার ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ দিন।