• ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জাতিসংঘ চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ৩১, ২০২৫
জাতিসংঘ চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ঘোষণা করেছে, ফিলিস্তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে পারবেন না। এটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। বিষয়টি শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরাইলের সাথে পূর্ণ একাত্মতাই নয়, বরং জাতিসংঘের প্রতি প্রকাশ্য অগ্রাহ্যতারও দৃষ্টান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোও যেসব দেশকে অপছন্দ করত, তাদের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের ভিসাপ্রাপ্তি কঠিন করত। যেমন, ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিনিধিদলের কয়েকজনকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে। রাশিয়াও বারবার অভিযোগ করেছে, তাদের প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র গড়িমসি করেছে।

কিন্তু জাতিসংঘের এক কূটনীতিক হারেৎজ’কে বলেন, ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এত প্রকাশ্যে ঘটেনি। তিনি বলেন,‘শেষ মুহূর্তে ভিসা দেয়া, প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্যকে বাদ দেয়া, বা উড্ডয়ন অনুমতি না দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এত আগেভাগে ও প্রকাশ্যে এমনটা এই প্রথম।’
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদরদপ্তর চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘ কর্মকর্তা কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত কারও প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না। ব্যতিক্রম কেবল জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, তাও সদরদপ্তর ও সেখানে পৌঁছানোর পথে নয়। আইনবিদ প্রফেসর ইউভাল শানি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন এই ধারা ব্যবহার করে ইরানি কূটনীতিক হামিদ আবুতালেবিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়নি।

তবে বর্তমান ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ মার্কিন বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অভিযোগ নেই। শুধু বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে ‘সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করতে হবে’ এবং ‘শিক্ষায় সন্ত্রাসে উসকানি বন্ধ করতে হবে।’ এছাড়া আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা ও একতরফাভাবে রাষ্ট্র স্বীকৃতির চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজাররিক জানান, জাতিসংঘ এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করবে ‘জাতিসংঘ সদরদপ্তর চুক্তি’ অনুযায়ী। তিনি বলেন, সব সদস্য রাষ্ট্র ও স্থায়ী পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি জরুরি। বিশেষ করে দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান বিষয়ক অধিবেশনে, যা আয়োজন করছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব। শানির মতে, জাতিসংঘ চাইলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে পারে। কিন্তু সময় ও জটিল সম্পর্কের কারণে সে সম্ভাবনা কম। বিকল্প হলো অধিবেশন অন্তত দ্বিরাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান বিষয়ক অংশ জেনেভায় সরিয়ে নেয়া। ১৯৮৮ সালে এর নজির আছে। তখন ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করে।

তখন সাধারণ পরিষদ ভোটে অধিবেশন জেনেভায় স্থানান্তরিত করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় লজ্জার কারণ হয়। বর্তমানে সম্ভাবনা বেশি যে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বা অন্য কোনো নেতা ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন অধিবেশনে। তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতির জোরালো সমর্থক সৌদি আরবের চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে পারে। ফিলিস্তিনি নেতাদের বাদ দেয়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি ট্রাম্পের জন্য সৌজন্যপূর্ণ হবে না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি বলেই মনে হচ্ছে।