” দৈনিক আমার দেশ ” নির্ভীক ও সত্যানুসন্ধানী সাংবাদিকতা একের পর এক সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনপ্রিয় শীর্ষ দৈনিক পত্রিকার স্থান দখল করে ।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় শীর্ষ দৈনিক পত্রিকা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করলো সরকার। বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ পত্রিকাটির প্রকাশনা সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেন।
এ সময় পত্রিকাটির সাহিত্য সম্পাদক হাসান হাফিজ, নিউজ এডিটর জাহেদ চৌধুরী, সিটি এডিটর এম আব্দুল্লাহ এবং আমার দেশের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অচিরেই আবার আমার দেশ প্রকাশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পত্রিকাটির আইনজীবী সালাহ উদ্দিন বলেন, “আমার দেশ প্রকাশ করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তারপরও সরকার জোর করে প্রেস সিলগালা ও আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে পত্রিকাটি ছাপা বন্ধ করেছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। ”
তিনি বলেন, “প্রেস ও পাবলিকেশন্স’র ধারা ৪/২ (বি) ও ১০ ধারা অনুযায়ী ঢাকা জেলা প্রশাসককে (ম্যাজিস্ট্রেট) আমরা অন্য ঠিকানা থেকে পত্রিকা প্রকাশের বিষয়টি অবহিত করি। কিন্তু ওই প্রেস থেকে গত ১২ ও ১৩ এপ্রিল পত্রিকা প্রকাশ করা গেলেও ১৪এপ্রিল পত্রিকা প্রকাশের সময় রাত ১১টার দিকে পুলিশ আল ফালাহ প্রেসে অভিযান চালায়। তারা মুদ্রিত পত্রিকা জব্দ করে ও সেখানে কর্মরত ১৯ জন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ”
তিনি জানান, আমার দেশ ছাপা বন্ধ করার কারণে পত্রিকা অফিসের সাড়ে ৩শ’ সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঢাকার বাইরে কর্মরত আরো প্রায় ৫শ’ সাংবাদিক ও তাদের পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, “মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার পর প্রেস তল্লাশি ও এক পর্যায়ে প্রেস সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে অস্থায়ীভাবে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের উদ্যেগে নেয়। ”
তিনি বলেন, “সোমবারও সাদা পোশাকধারী পুলিশ আমার দেশ এর রিসিপশনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নানা হয়রানি করেছে। আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বা ডিক্লারেশন বাতিল না করলেও বেআইনিভাবে
ছাপাখানা বন্ধসহ নানাভাবে পত্রিকা প্রকাশে হয়রানি করছে। ”
দৈনিক আমার দেশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে , স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরাকে প্রাধান্য দিয়েছিলো
২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি নির্ভরযোগ্য ও নিরপেক্ষ হিসেবে দ্রুত পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়ে যায়। তখন বিবিসি খ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ ছিলেন পত্রিকাটির দায়িত্বে। তিনি অবসরে গেলে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে সম্পাদনার দায়িত্ব নেন মাহমুদুর রহমান।
সারাবিশ্বে সাড়া জাগানো আমেরিকায় ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ফাঁসের মতো ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দৈনিক আমার দেশ ফাঁস করে দেয় বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাসিমের সাথে বেলজিয়াম প্রবাসী জিয়াউদ্দিনের স্কাইপ কথোপকথন।
২০১৩ সালে বিশেষ কয়েকটি পক্ষের প্রত্যক্ষ মদদে গণজাগরণ মঞ্চ করা হয় । তখন “শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি” শীর্ষক এক অবিস্মরণীয় কলাম লিখেন মাহমুদুর রহমান।
২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আমার দেশ পত্রিকা শিরোনাম করে এই ভাষায়-

‘শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি: গৃহযুদ্ধের উস্কানি বক্তাদের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার : আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের রণহুঙ্কার’। এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় একটি দেশের মদদে শাহবাগ আন্দোলন নাকি আওয়ামী লীগ এবং বামদলগুলোর দখলে।