• ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই বিপ্লব স্মরণে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস’ পালন করেছে আমিরাতের বাংলাদেশ কনস্যুলেট

Usbnews.
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৫
জুলাই বিপ্লব স্মরণে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস’ পালন করেছে আমিরাতের বাংলাদেশ কনস্যুলেট
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে প্রবাসী সাধারণ শ্রমিক রেমিটেন্স যোদ্ধাদের নিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস পালন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ কনস্যুলেট, দুবাই।

শনিবার (২ আগস্ট) দুবাই সময় রাত ৯টায় কনস্যুলেট হলরুমে কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও শ্রম সচিব মোহাম্মদ আবদুস সালামের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবসের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। জুলাই বিপ্লব স্মরণে আলোচনায় বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গঠনে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস ও জুলাই বিপ্লব স্মরণে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, প্রবাসীদের ভূমিকা,গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের নানা গল্প তুলে ধরে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। এ সময় বক্তারা বলেন এই বিপ্লবের মাধ্যমে আবেগাপ্লুত প্রবাসীদের সর্বোচ্চ ত্যাগের অবদানকে বিমাতা সুলভ অবহেলার মাধ্যমে অস্বীকার করা হয়েছে বর্তমানেও প্রবাসীদের নানাবিধ প্রকৃত সমস্যা সমাধান না করে মুলা দেখানো হচ্ছে তার বড় উদাহরণ ভিসার জটিলতা দূর হওয়া, টিকেটের চড়া মূল্য, যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া সহ আরও যা আছে।

বস্তুত প্রবাসীরা ইন্টারনেট বিহীন বাংলাদেশের আন্দোলনকে রেমিট্যান্স শাট ডাউন সহ নানান অবদানের মাধ্যমে সারাবিশ্বে চড়িয়ে দিয়ে জুলাই আগস্টের আন্দোলনকে গতিশীল পুনরুজ্জীবিত করেছে এ আন্দোলন করতে গিয়ে প্রবাসীদের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা কখনো পূরণ হওয়ার মত নয়।জীবন ও জীবিকার মায়া না করে দেশের জন্য তারা এই আত্মত্যাগ করেছে। এরপরেও যদি প্রবাসীদের উপর সরকার যত্নবান না হয় তাহলে এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কিছুই হতে পারে না।

অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের উপর প্রামান্য চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিতি, বাংলাদেশে বিপ্লবকালীন সময়ে ছাত্র জনতার ডাকে আত্ম উৎসর্গকারী প্রবাসীদের তালিকা প্রদর্শন করা হয়। এই সময় আলোচকরা বলেন জুলাই বিপ্লবে প্রবাসীরা আমিরাতে যেভাবে তৎপরতা দেখিয়েছিল, সেই ঘটনা আর যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। কেননা এই আমিরাত হচ্ছে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল একটি দেশ, এদেশের আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে এখানে অবস্থানরত ১৫ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশীর জীবন হুমকির মুখে থাকবে।

কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামানের সভাপতিত্বে, শ্রম সচিব আব্দুস সালামের পরিচালনায়, এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবে আত্মদানকারী শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়াও মোনাজাত করা হয়।

পরিশেষে সাধারণ শ্রমিকদের ইচ্ছাতে কনসাল জেনারেল মোঃ রাশেদুজ্জামান শ্রমিক যোদ্ধাদের নিয়ে স্থির চিত্র ধারণের মাধ্যমে তাদেরকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উত্সাহিত করেন সে সুযোগে তিনি সানন্দে এই জুলাই মাসের ৩০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩২ শতাংশ বেড়েছে ও আগের অর্থবছরে (অর্থবছর-২৪) প্রাপ্ত ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় রেমিট্যান্স ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসের ৩০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দু’ হাজার ৩৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

গত বছরের একই সময়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল এক হাজার ৭৯৪ মিলিয়ন ডলার।প্রবাসী বাংলাদেশীরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ পরিমাণ।

আগের অর্থবছরে (অর্থবছর-২৪) প্রাপ্ত ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় রেমিট্যান্স ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এ ধারাবাহিকতা রক্ষার ১৯৭৪ সালে আমিরাতের জাতির পিতা বাবা শেখ জায়েদ আল নাহিয়ানের সৃকৃত বাংলাদেশ জনতা ব্যাংক নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন ব্যাংক ম্যানেজার যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ২৫ এর জুলাই আগস্ট মাসে ১৫০০দিরহাম রেমিট্যান্সে কোনো প্রকার ফি না রাখা, এ টি এম সরবরাহের প্রচেষ্টা, প্রবাসীদের জন্য উপযোগী করে এ্যাপ তৈরি সহ আরও যা।