• ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ : এরই মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে , নিয়ম লঙ্ঘন , আগে পূরণ করা ব্যালট , প্রশাসন নির্বিকার দাবি

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ :  এরই মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ,  নিয়ম লঙ্ঘন , আগে পূরণ করা ব্যালট , প্রশাসন নির্বিকার দাবি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শতশত শিক্ষার্থী হাসিমুখে ভোট দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে অনেকে জানালেন বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রে অনেক প্রার্থীই মানছেন না আচরণবিধি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও তৎপরতা দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সরেজমিন একাধিক কেন্দ্রে দেখা যায়, ভোটারদের লাইনের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন অনেক প্রার্থী। লিফলেট ও কার্ড দিচ্ছেন। ফলে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম জটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, কার্জন হল, উদয়ন স্কুলসহ অন্যান্য কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন প্রার্থীরা। তারা প্রার্থীদের হাতে লিফলেট দিয়ে দিচ্ছেন। নিজ দলীয় প্রার্থীদের তালিকাও তুলে দিচ্ছেন তারা। এতে কেন্দ্রগুলোর প্রবেশমুখে ভিড় জমা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সহজে প্রবেশ করতে পারছেন না।

উদয়ন স্কুল ভোটকেন্দ্রে জিয়াউর রহমান হলের ভোটার লাইনে প্রবেশ করে প্রার্থীরা টোকেন, স্লিপ দিয়ে প্রচারণা ও ভোট চাইতে দেখা গেছে। আবাসিক শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান বলেন, প্রার্থীরা মানছেনই না নিয়ম। তারা পারছে না একদম ভেতরে ডুকে প্রচার চালাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না। তা ছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই সকল ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এমন নির্দেশনা উপেক্ষা করে এদিন সকাল থেকেই প্রায় প্রতিটি হলের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করতে দেখা যায় অনেক প্রার্থীকে।

নিয়ম লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রে ঢুকছেন ছাত্রদল ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম 

ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। তবে এরই মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের নজিরও দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ঢুকেছেন ছাত্রদল প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টার একটু আগে। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী ভোট দিচ্ছেন। সেখানে ঢুকে পড়েন আবিদুল।

এই ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক গাউসুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘প্রার্থীদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আমি জহুরুল হকের কেন্দ্রে ছিলাম। বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ এরপর মোস্তাক গাউসুল হক জগন্নাথ হলের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে জানান, তিনি সেখানে যাওয়ার পর আর কাউকে দেখেননি। আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

নিয়ম ভেঙে ভোটকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি।’

এদিকে আবিদুল সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগও করেন, প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কার্ডের ব্যবস্থা করেনি। যার ফলে মেয়েদের হলের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না তিনি। যদিও কিছুক্ষণ পর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে শামসুন নাহার হলের শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রের সামনে তাকে দেখা যায়। সেখানে তাকে দেখে বেশ কিছু শিক্ষার্থী উষ্মা প্রকাশ করেন।

শুধু তিনিই নন, ছাত্রদল প্যানেলের লিফলেট বিলি করতে দেখা যায় একাধিক কর্মীকে। তাদের জিজ্ঞেস করতে জানা যায়, তারা এই লিফলেট বিলি করছেন, যেন ব্যালট নম্বর মনে রাখতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

নিয়ম ভেঙে ভোটকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগ ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুলের বিরুদ্ধে

নিয়ম ভেঙে ভোটকেন্দ্রে ঢোকার বিষয়ে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি।’

ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক গাউসুল হক বলেন, ‘প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আমি জহুরুল হকের কেন্দ্রে ছিলাম। বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

পরবর্তীতে জগন্নাথ হলের ভোট কেন্দ্রে সরাসরি কথা হয় কাজী মোস্তাক গাউসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার পর কাউকে পাইনি। আর কেউ ঢুকতে পারবে না।’

প্রচারণাপত্র বিতরণ নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সাথে আবিদুলের ‘বাক-বিতন্ডা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে । তবে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রচারপত্র বিতরণকে কেন্দ করে ছাত্রদল-সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের সঙ্গে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর বাক-বিতন্ডা লক্ষ্য করা গেছে ।

এই কেন্দ্রে সামসুর নাহার হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসলে একজন কর্মী প্রচারণাপত্র বিতরণ করেন। এসময় নারী শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন ‘আজকে তো প্রচারপত্র দিচ্ছেন কেন? আজকে তো এটা দেওয়ার কথা না।’

আবিদুল

তখন আবিদুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এতগুলো পদ প্রার্থীদের মনে রাখবে কি করে? তখন তিনি তার কর্মীকে বলেন তুমি দিতে থাক, আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলতেছি।’ পরবর্তীতে আরেকজন এসে সেই কর্মীর কাছে একই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

এর আগে ভোটগ্রহণ চলাকালে নিয়ম লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন আবিদুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রের একটি নির্ধারিত অংশে প্রবেশ করেন, যেখানে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিচ্ছিলেন।

নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারেন না। তবে সেই নিয়ম উপেক্ষা করে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন আবিদুল। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

কেন্দ্রে প্রবেশের পর আবিদুল সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্ড দেয়নি। এজন্য আমাকে ছাত্রীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাই এখানে এসেছি পরিস্থিতি দেখতে। তিনি দাবি করেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। বরং তিনি দেখাতে চেয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনায় কতটা অব্যবস্থা রয়েছে।

কার্জন হলের পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার

Dacsu

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কার্জন হলের দোতলায় অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে এক শিক্ষার্থীকে আগে পূরণ করা ব্যালট দিয়েছেন পোলিং অফিসার। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ওই বুথ পরিদর্শন‌ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পূরণকৃত ব্যালট সরবরাহ করায় ওই পোলিং অফিসার ও অমর একুশে হলের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে কার্জন হল পরীক্ষা কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম মহিউদ্দীন তাকে প্রত্যাহার করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এমন ঘটনা ঘটান পোলিং অফিসার জিয়াউর রহমান চৌধুরী। তিনি অমর একুশে হলের কর্মকর্তা।

কেন্দ্রে উপস্থিত সীমা আক্তারের পোলিং এজেন্ট রাজিমুল ইসলাম ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক পোলিং এজেন্ট জানান, শুরুতে একজন ভোটারকে ব্যালটের একটি পেপারের দুটি কপি দেওয়া হয়েছিল। সেই ভোটার দুটি পেপারই পূরণ করে ফেলেন। পরে একটি ব্যালট বাক্স জমা দেন ও আরেকটি টেবিলে জমা দেন। এরপর আরেক ভোটার এলে আগে পূরণ করা ফেরত দেওয়া ওই ব্যালট পেপার তাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি পূরণ করা থাকায় ওই ভোটার সেটি ফেরত দেন।

যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ,সবকিছু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক ,  শিক্ষার্থীরা আমাদের গ্রহণ করেছে, ইনশাআল্লাহ বিজয় হবে: সাদিক কায়েম

ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম। ছবি: সংগৃহীত

 

‘শিক্ষার্থীরা আমাদের গ্রহণ করেছে, ইনশাআল্লাহ বিজয় হবে। আমরা অনুরোধ করব যে আচরণবিধি যেন মানা হয়, আমরা সবাইকেই আহ্বান করব। এই নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে, এবং সারা দেশকে মেসেজ দিতে। আমরা অনুরোধ করব সকল প্রার্থীকে, যে আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করুন, এবং নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিকেন্দ্রেই ভোট দিচ্ছেন। দিনের শুরুতেই ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি বলেন, ‌‘১০০ গজের ভেতরে লিফলেট বিতরণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক প্রার্থী আচরণবিধি না মেনে- তা বিতরণ করছেন।’

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে টিএসসি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই নির্বাচনে যেই বিজয়ী হবে, আমরা মনে করি এতে জুলাই বিজয়ী হবে। কারণ আমরা চেয়েছিলাম একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক ডাকসু নির্বাচন। আশা করি আমরা সবাই মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নতুনভাবে সাজাতে পারবো।’

ভোটটা উদযাপন করতে চাই : ছাত্রদল প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী আবিদুল

কার্জন হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ছাত্রদলের ভিপিপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘ভোটটা উদযাপন করতে চাই। কোনো ধরনের অভিযোগ করতে চাই না।’

মঙ্গলবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) ১০টার কিছু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নিয়ম ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম খান উপস্থিত সাংবাদিককদের বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি।’

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা যে অংশে ভোট দিচ্ছেন, সেখানে ঢোকেন আবিদুল ইসলাম খান।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কার্ড করেনি। সে কারণে তাকে মেয়েদের হলের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে এসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রার্থী হিসেবে সকালে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দিতে আসেন।

আবিদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় আমরা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আজকের এই নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি নতুন দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আপনারা কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। সবাই আসুন ভোটকেন্দ্রে, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’

নিজের ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্রই উদয়নে এসেছি, এখনো ভেতরে ঢুকিনি। হয়তো পরিদর্শনের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে পারব। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই আমি ভোট দিতে পারব।’

ছাত্রদল প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ভোটটা উদযাপন করতে চাই। কোনো ধরনের অভিযোগ করতে চাই না।

মঙ্গলবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) ১০টার কিছু আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নিয়ম ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম খান উপস্থিত সাংবাদিককদের বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা যে অংশে ভোট দিচ্ছেন, সেখানে ঢোকেন আবিদুল ইসলাম খান।

ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্রই উদয়নে এসেছি, এখনো ভেতরে ঢুকিনি। হয়তো পরিদর্শনের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে পারব। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই আমি ভোট দিতে পারব।’

ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ  আবদুল   কাদেরের

ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ কাদেরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবদুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল কাদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এত ষড়যন্ত্রের পরেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে এসেছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সবসময়ই একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কাদেরের দাবি, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী আবিদ কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কাদের বলেন, আমরা দেখেছি কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে প্রার্থীরা হাসাহাসি করছে, ভোট চাইছে। এগুলো কি ধরনের নির্বাচন? আমি রাব্বানী স্যারকে ফোন করে বলেছি— এমন পরিস্থিতিতে আপনারা কোথায়? তিনি বলেছেন, আমি তো আছি, আসছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

জয় নিয়ে আশাবাদী উমামা বললেন, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ হোক

ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী : ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেছেন, তিনি জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী। সেই সঙ্গে উমামা বলেন, তাঁর চাওয়া, ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ হোক।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্রে ভোট দেন উমামা। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ভোট কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো যেন নির্বাচন কমিশন আমলে নেয়। আমরা চাচ্ছি, ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হোক।’

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উমামা ফাতেমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভালো। আমরা আশা করছি, ৩০ হাজারের বেশি ভোট কাস্টিং হবে।’

পোলিং এজেন্টদের পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানান উমামা ফাতেমা। তিনি বলেন, ‘যেসব এজেন্টদের আমরা মেয়েদের হলে দিয়েছি, তাঁদের ছেলেদের হলে দেওয়া হয়েছে। যাকে ছেলেদের হলে দিয়েছি তাঁকে মেয়েদের হলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সকালবেলা সমাধান করবে বললেও করেনি। আমরা সকালে এসে দেখি বিশৃঙ্খল অবস্থা। আমাদের সশরীরে এসে সমাধান করতে হয়েছে।’

কার্জন হলে ভোটাররা ভোগান্তিতে, দেখার কেউ নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কার্জন হল কেন্দ্রে ভোটারদের ভোগান্তি চোখে পড়ার মতো। শুরু থেকেই এ কেন্দ্রে গণমাধ্যমের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ফলে কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তেমন প্রকাশ পাচ্ছে না।

ওই কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোট দিতে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের সময় একজন ভোটারকে অন্তত ১৫-২০ জন প্রার্থী বা তাদের কর্মী ঘিরে ধরে লিফলেট, কার্ড ও প্রতীক তুলে দিচ্ছেন। এ নিয়ে ভোটারদের অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন জানান, কেন্দ্রে ঢুকতে না ঢুকতেই প্রচারসামগ্রী হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোট দেওয়ার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।

ইউল্যাব স্কুলে সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক ঢুকতে না দেওয়া অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে শামসুন নাহার হলের ভোটকেন্দ্র ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন ঢুকতে দেওয়া হয়নি এ বিষয়ে বারবার জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

নির্বাচন আচরণ বিধিমালা