• ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাইব্যুনালে হাসিনার সঙ্গে তাপস-ইনু-কামালের ফোনালাপ উপস্থাপন

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫
ট্রাইব্যুনালে হাসিনার সঙ্গে তাপস-ইনু-কামালের ফোনালাপ উপস্থাপন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি শেখ হাসিনার জব্দ করা কয়েকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শুনিয়েছেন।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে এ ফোনালাপগুলো বাজানো হয়। সাক্ষগ্রহণ গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও চলছে।

হাসিনার এই ফোনালাপের মধ্যে তার আত্মীয় শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে একটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দুটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামালের একটি ফোনালাপ রয়েছে।

এসব ফোনালাপে জুলাই অভ্যুত্থান দমনে হাসিনার নির্দেশনার বিষয়গুলো রয়েছে।

এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অপর দুই আসামি হলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্ত করেন উপ-পরিচালক মো. আলমগীর (পিপিএম)। সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।

গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে যে আবেদন করেছেন, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং হবে, ‘ছত্রীসেনা’ নামাচ্ছি — ফোনে ইনুকে শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল‑১ এর আজকের শুনানিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু‑র মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ শোনানো হয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।

৫৩তম সাক্ষীর জবানবন্দিতে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা ট্রাইবুনালে পাঁচটি অডিও ক্লিপ জমা দেন। এর মধ্যে চারটি ক্লিপ বাজিয়ে শোনানো হয়। এই ক্লিপগুলোর মধ্যে দুটি শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যে হওয়া ফোনালাপ; যেখানে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হচ্ছে।

ফোনালাপের একটি অংশে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমি মনে করি যে আপনার পদক্ষেপটা সঠিকই হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা রিপোর্ট বাংলাদেশে পাচ্ছি আর কি। খালি ঢাকায় আপনার রামপুরার দিকে এবং শনির আখড়াতে।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, রামপুরা ক্লিয়ার। শনির আখড়ায় একটু ঝামেলা এখনও আছে।’

এসময় ইনু শনির আখড়ায় কিছু ‘মোল্লা’ নাশকতা করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করার পরই তার কথা পুরোটা শেষ হওয়ার (বাক্য সম্পূর্ণ হওয়ার) আগেই পাল্টা উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালি মোল্লা না, সেখানে অনেক মাদরাসা। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মাইকিং করতে বলেছি। নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দিচ্ছে না আর্মিকে। আমরা ছত্রীসেনা নামাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাজুয়ালটির দরকার নাই। ওরা ব্যারিকেড দিয়ে আছে তো, ঠিক আছে, আকাশ থেকে নামবে। ম্যাসেজটা দিয়ে দিতে পারেন। হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে। হেলিকপ্টার যাক, ওপর দিয়ে মারবে। ইনু ওপর দিয়ে সাউন্ড বোমা নিক্ষেপের ব্যাপারে ফের প্রশ্ন করলে, শেখ হাসিনা সম্মতিসূচক ‘হ্যাঁ’ বলেন।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, ইনু ইন্টারনেট চালু করার প্রস্তাব দিলে শেখ হাসিনা বলেন, “ডেটা সেন্টার পুড়ে গেছে … নাশকতাকারীরা সেগুলো নষ্ট করেছে।” এরপর তিনি আরও বলেন, “পরবর্তী যে সরকার আসবে তারা এগুলো ঠিক করবে।”

ট্রাইবুনালে তানভীর জোহা জানিয়েছেন, ২৩ ডিসেম্বর এনটিএমসি থেকে শেখ হাসিনার ৬৯টি অডিও ক্লিপ এবং তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর জব্দ করা হয়েছিল।

প্রসিকিউশন দাবি করছে, এই ক্লিপগুলি শুধুমাত্র পরোক্ষ প্রমাণ নয়, বরং সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনার অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণ হিসেবে রাখা যেতে পারে।