• ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্বপ্নের টেকনাফ আজ হয়ে উঠছে মানব পাচারের ভয়ঙ্কর কেন্দ্রে

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫
স্বপ্নের  টেকনাফ আজ হয়ে উঠছে মানব পাচারের ভয়ঙ্কর কেন্দ্রে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

স্বপ্নের টেকনাফ আজ হয়ে উঠছে মানব পাচারের ভয়ঙ্কর কেন্দ্রে , ৫০ হাজার টাকায় পর্যটককে বিক্রি হোটেল ম্যানেজার।

টেকনাফ—বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে নীল সমুদ্র আর পাহাড়ের মোহনায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অপার সৌন্দর্যের নাম। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর মানব পাচারের চক্র। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার পান্টি গ্রামের রেজাউল করিমের জীবনে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে এই নির্মম বাস্তবতা।

৭ সেপ্টেম্বর রেজাউল করিম ঘুরতে গিয়েছিলেন টেকনাফে। উঠেছিলেন হোটেল আলকর্মে। কিন্তু পর্যটনের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে, যখন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ও হোটেলের প্রাক্তন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিন তাকে কৌশলে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয় মাত্র ৫০০০ টাকার বিনিময়ে।

চা ও পান খাওয়ানোর নাম করে আমিন তাকে বাইরে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে অটোতে তুলে মানব পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়। এরপর শুরু হয় শিকলবন্দী জীবন—গহীন পাহাড়ে ১৫ দিন আটকে রেখে চলে অমানবিক নির্যাতন, মুক্তিপণের জন্য মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন।

রেজাউল করিমের কণ্ঠে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা উঠে আসে, “আমাকে বিভিন্ন দলের কাছে বারবার বিক্রি করা হয়। শেষবার সিএনজিতে অন্য জায়গায় নেওয়ার পথে সুযোগ বুঝে আমি পালিয়ে যাই এবং সরাসরি বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নিই।”

বিজিবি সদস্যরা তাকে খাবার, কাপড় ও চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়।

রেজাউলের তথ্য অনুসরণ করে ভারছড়া ও কচ্ছপিয়ার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে যৌথ বাহিনী উদ্ধার করে নারী ও শিশুসহ ৮৩ জন মানব পাচারের শিকারকে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা উভয়ই রয়েছেন।

অনেকে জানান, “মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসা হয়। টাকা ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে আমাদের আটক রাখা হয়।”

এর আগে, ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছিল। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এ পর্যন্ত ১৫০ জন*কে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের ভাষ্যমতে, পাচারকারীরা লোকজনকে হোটেল বা কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। এক পর্যায়ে তাদেরকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অভিযানে গ্রেফতার হয় *তিন পাচারকারী*, উদ্ধার করা হয় অস্ত্র।

টেকনাফের এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সুন্দর ভ্রমণের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে এক ভয়ংকর বাস্তবতা। তাই ভ্রমণ বা কাজের উদ্দেশ্যে নতুন জায়গায় গেলে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

স্বপ্নের গন্তব্য টেকনাফ আজ হয়ে উঠছে মানব পাচারের ভয়ঙ্কর কেন্দ্রে। এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা।